স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা

কাল থেকে মডার্নার দ্বিতীয় ডোজ শুরু প্রথম ডোজ বন্ধ

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২১, ০২:০২ এএম

মহামারী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে চলমান টিকা কার্যক্রমে কাল বৃহস্পতিবার থেকে মডার্নার প্রথম ডোজের টিকা প্রয়োগ বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এদিন থেকে মডার্নার দ্বিতীয় ডোজ শুরুর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১৪ আগস্ট শনিবার থেকে সারা দেশে অবশ্যই সিনোফার্ম ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া শুরু করতে বলা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের টিকা কর্মসূচির পরিচালক ডা. শামসুল হক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এদিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কোভ্যাক্স ফ্যাসিলিটিজের মাধ্যমে চীনের সিনোফার্মের ১৭ লাখ ডোজ টিকা গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় দেশে পৌঁছেছে। বৈশ্বিক উদ্যোগ কোভ্যাক্সের আওতায় এবার বাংলাদেশকে ১৭ লাখ সিনোফার্মের টিকা উপহার দিয়েছে চীন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ১২ আগস্টের পর সারা দেশে মডার্না ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ দেওয়া বন্ধ ও দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া শুরু হবে। তবে যেসব স্থানে ওই ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ উদ্বৃত্ত রয়েছে সেসব স্থানে দ্রুত প্রথম ডোজ দেওয়ার কাজ সম্পন্ন করে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া শুরু করতে নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ১৪ আগস্ট (শনিবার) থেকে সারা দেশে আবশ্যিকভাবে সিনোফার্মের ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া শুরু করতে হবে। এ লক্ষ্যে সারা দেশের টিকা কেন্দ্রগুলোতে চাহিদা অনুযায়ী দ্বিতীয় ডোজের ভ্যাকসিন শিগগিরই পাঠানো হবে।

এ নির্দেশনাটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলমের অনুমোদনক্রমে সারা দেশের সিভিল সার্জন, হাসপাতাল পরিচালক, টিকা কেন্দ্রসহ সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দেশের ১ কোটি ৯১ লাখ ৮৩ হাজার ৪৬২ জন মানুষ করোনাভাইরাসের টিকার আওতায় এসেছে। এদের মধ্যে প্রথম ডোজ নিয়েছে ১ কোটি ৪৪ লাখ ৫০ হাজার ৬৩০ এবং দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছে ৪৭ লাখ ৩২ হাজার ৮৩২ জন।

এ পর্যন্ত প্রথম ডোজ টিকাগ্রহীতাদের মধ্যে পুরুষ ৮৪ লাখ ৬৬ হাজার ৪২৪ আর নারী ৫৯ লাখ ৮৪ হাজার ২০৬ জন। দ্বিতীয় ডোজ টিকাগ্রহীতাদের মধ্যে পুরুষ ২৯ লাখ ৯৯ হাজার ৯৬৫ আর নারী ১৭ লাখ ৩২ হাজার ৮৬৭ জন।

অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা কভিশিল্ড নিয়েছে দেশের ১ কোটি ৩ লাখ ৫৮ হাজার ১৮ জন মানুষ। চীনের সিনোফার্মের টিকা নিয়েছে ৬৮ লাখ ৪৪ হাজার ৮৫ জন। ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকা নিয়েছে ৭২ হাজার ৪০৭ জন। আর মডার্নার টিকা নিয়েছে ১৬ লাখ ৭২ হাজার ৪০১ জন।

অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকাগ্রহীতাদের মধ্যে পুরুষ ৬৪ লাখ ৯৭ হাজার ৩৭ এবং নারী ৩৮ লাখ ৬০ হাজার ৯৮১ জন। এই টিকাগ্রহণকারীদের মধ্যে ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৯৫৫ জন দ্বিতীয় ডোজ এবং ৫৮ লাখ ২০ হাজার ৩৩ জন প্রথম ডোজ নিয়েছে। দ্বিতীয় ডোজ টিকাগ্রহণকারী পুরুষ ২৮ লাখ ৮৭ হাজার ৯৪০ এবং নারী ১৬ লাখ ৫০ হাজার ১৫ জন। আর প্রথম ডোজ টিকাগ্রহণকারী ৩৬ লাখ ৯ হাজার ৯৭ জন পুরুষ এবং নারী ২২ লাখ ১০ হাজার ৯৬৬ জন।

চীনের সিনোফার্মের টিকার প্রয়োগ ১৯ জুন থেকে শুরু হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে গণটিকাদান কর্মসূচিতে গতকাল পর্যন্ত এ টিকাগ্রহীতাদের মধ্যে পুরুষ ৩৭ লাখ ৯০ হাজার ২৪৯ এবং নারী ৩০ লাখ ৫৩ হাজার ৮৩৬ জন নিয়েছে। এই টিকাগ্রহণকারীদের মধ্যে ৬৬ লাখ ৭১ হাজার ৭৬৩ জন প্রথম ডোজ এবং ১ লাখ ৭২ হাজার ৩২২ জন দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছে। প্রথম ডোজ টিকাগ্রহণকারী পুরুষ ৩৬ লাখ ৯৬ হাজার ৮৩৫ এবং নারী ২৯ লাখ ৭৪ হাজার ৯২৮ জন। আর দ্বিতীয় ডোজ টিকাগ্রহণকারী ৯৩ হাজার ৪১৪ পুরুষ এবং নারী ৭৮ হাজার ৯০৮ জন।

ঢাকার সাতটি কেন্দ্রে ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকা নিয়েছে ৭২ হাজার ৪০৭ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ৬১ হাজার ৬১০ এবং নারী ১০ হাজার ৭৯৭ জন। এই টিকাগ্রহণকারীদের মধ্যে ৫০ হাজার ২৫৫ জন প্রথম ডোজ এবং ২২ হাজার ১৫২ জন দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছে। প্রথম ডোজ টিকাগ্রহণকারী পুরুষ ৪৩ হাজার ২৪৮ এবং নারী ৭ হাজার ৭ জন। আর দ্বিতীয় ডোজ টিকাগ্রহণকারী ১৮ হাজার ৩৬২ পুরুষ এবং নারী ৩ হাজার ৭৯০ জন।

১৩ জুলাই থেকে দেশের সিটি করপোরেশনগুলোতে মডার্নার টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত এই টিকা নিয়েছে ১৯ লাখ ১৮ হাজার ৯৫২ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ১১ লাখ ১৭ হাজার ৪৯৩ এবং নারী ৭ লাখ ৯১ হাজার ৪৫৯ জন। এই টিকাগ্রহণকারীদের মধ্যে ১৯ লাখ ১৮ হাজার ৫৪৯ জন প্রথম ডোজ এবং ৪০৩ জন দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছে। প্রথম ডোজ টিকাগ্রহণকারী পুরুষ ১১ লাখ ১৭ হাজার ২৪৪ এবং নারী ৭ লাখ ৯১ হাজার ৩০৫ জন। আর দ্বিতীয় ডোজ টিকাগ্রহণকারী ২৪৯ পুরুষ এবং নারী ১৫৪ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ২ কোটি ৬৭ লাখ ৬৯ হাজার ৫৬৬ জন করোনা টিকার জন্য নিবন্ধন করেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত