নাগরিকের ফোনালাপে আড়িপাতা রোধে নিশ্চয়তা ও ফাঁস হওয়া ফোনালাপের ঘটনাগুলোর তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে উচ্চ আদালতে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের ১০ আইনজীবীর পক্ষে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদনটি করেন। কার্যতালিকায় এলে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে গঠিত ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চে আবেদনটির ওপর শুনানি হবে বলে জানান আইনজীবী।
শিশির মনির দেশ রূপান্তরকে বলেন, আবেদনে ফোনে আড়িপাতা রোধে বিটিআরসির (বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন) নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ হবে না এ মর্মে রুলের আর্জির পাশাপাশি এ ধরনের ঘটনা বন্ধে বিটিআরসিকে নিশ্চয়তা প্রদান করতে তাদের প্রতি নির্দেশের আর্জি জানানো হয়েছে।
আবেদনের বরাতে অ্যাডভোকেট শিশির মনির বলেন, ২০১৩ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ২০টি আড়িপাতা ও ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনা উল্লেখ করা হয় যাদের মধ্যে রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাও রয়েছেন। আবেদনের বরাতে আইনজীবী জানান, বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৩ অনুচ্ছেদে চিঠিপত্র ও যোগাযোগের অন্যান্য উপায়ের গোপনীয়তা সংরক্ষণ নাগরিকের মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত। এ অধিকার সংবিধান কর্তৃক নিশ্চিত করা হয়েছে। অর্থাৎ সংবিধানের তৃতীয়ভাগে উল্লিখিত মৌলিক অধিকার সমূহের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সংরক্ষণ অন্যতম। তিনি বলেন, ২০১১ সালের ১৬ এপ্রিল বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি অ্যাক্ট-২০০১ প্রণয়ন করা হয়। আইনের ৩০ (চ) ধারা অনুযায়ী টেলিযোগাযোগের একান্ততা রক্ষা নিশ্চিত করা এই কমিশনের দায়িত্ব। কিন্তু এ ধরনের ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনা অহরহ ঘটছে। অথচ সংবিধান ও প্রচলিত আইনানুযায়ী কমিশনের দায়িত্ব হলো ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সংরক্ষণ।
এর আগে টেলিফোনে আড়িপাতা রোধে গত ২২ জুন এক আইনি নোটিসে বিটিআরসির গৃহীত পদক্ষেপ জানতে চাওয়া হয়। নোটিসের জবাব না পাওয়ায় এ রিট আবেদনটি করা হলো। আবেদনকারী আইনজীবীরা হলেন মুস্তাফিজুর রহমান, রেজওয়ানা ফেরদৌস, উত্তম কুমার বনিক, শাহ নাবিলা কাশফী, ফরহাদ আহমেদ সিদ্দিকী, মোহাম্মদ নওয়াব আলী, মোহাম্মদ ইবরাহিম খলিল, জিএম মুজাহিদুর রহমান মুন্না, ইমরুল কায়েস ও একরামুল কবির।
