সৃজনশীল
১. হাসনাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বিষয় শিক্ষকের সঙ্গে সিলেটে শিক্ষা সফরে আসে। মৌলভীবাজারে আসার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিল। তারা বিষয় শিক্ষককে বলল, ‘স্যার, এটাই কী আমাদের পাঠ্যবইয়ে পড়া পাহাড়ি অঞ্চলের অংশবিশেষ?’ স্যার বললেন, ‘তোমরা ঠিকই বলেছো। তাহলে এখন বুঝতে পারলে পাঠ্যবইয়ের সঙ্গে বাস্তব অভিজ্ঞতা মিলে পড়া কত সহজ হয়।’
ক. সর্বশেষ বাংলাদেশে আদমশুমারি হয় কত সালে?
খ. ‘সিসমিক রিস্কজোন’ বলতে কী বোঝায়?
গ. শিক্ষার্থীদের দেখা পাহাড়ি অঞ্চল বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতির ভিত্তিতে কোন শ্রেণিতে পড়ে তা শনাক্ত করে বর্ণনা কর।
ঘ. শিক্ষকের শেষোক্ত উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।
উত্তর
ক. ২০১১ সালে সর্বশেষ বাংলাদেশে আদমশুমারি হয়।
খ. কোনো একটি এলাকায় ভূমিকম্পের সম্ভাব্য মাত্রা এবং ঝুঁকি চিহ্নিত করে যে বলয় চিহ্নিত করা হয় তাকে ‘সিসমিক রিস্কজোন’ বা ভূমিকম্প ঝুঁকি অঞ্চল বলা হয়। এরূপ বলয় অঞ্চলে ভূমিকম্প হলে তা কী মাত্রার হতে পারে তার ওপর ভিত্তি করে প্রলয়ঙ্করী, মহা প্রলয়ঙ্করী, বিপজ্জনক কিংবা লঘু ইত্যাদি শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়। বাংলাদেশকে ৩টি ‘সিসমিক রিস্কজোনে’ বিভক্ত করা হয়েছে। যথা প্রলয়ঙ্করী, বিপজ্জনক ও লঘু।
গ. শিক্ষার্থীদের দেখা পাহাড়ি অঞ্চল বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতির ভিত্তিতে টারশিয়ারি পাহাড় শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বতশ্রেণি উত্থিত হওয়ায় এসব পাহাড়ের সৃষ্টি হয়েছে। এ অঞ্চলের পাহাড়গুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে তার মধ্যে উদ্দীপকে উল্লিখিত পাহাড় শ্রেণি হলো উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়। ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার উত্তরাংশ, সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ জেলার দক্ষিণের পাহাড়গুলো নিয়ে এ পাহাড় শ্রেণি বিস্তৃত। এ পাহাড়গুলোর উচ্চতা ২৪৪ মিটারের বেশি নয়। এ অঞ্চলের পাহাড়গুলোর মধ্যে চিকনাগুল, খাসিয়া ও জয়ন্তিয়া প্রধান। এ অঞ্চলের পাহাড়গুলো বেলেপাথর, কর্দম ও শেল পাথর দ্বারা গঠিত। উদ্দীপকের মৌলভীবাজার অঞ্চলের পাহাড়ের বৈশিষ্ট্যও তাই। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে শিক্ষার্থীদের দেখা পাহাড়ি অঞ্চল বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতির ভিত্তিতে টারশিয়ারি পাহাড় শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।
ঘ. ‘করিলে ভ্রমণ বাড়িবে জ্ঞান, দেখিবে যা দু নয়নে।’ এই উক্তিটির সঙ্গে উদ্দীপকে উল্লিখিত স্যারের শেষোক্তটির যথেষ্ট মিল রয়েছে। স্যারের শেষোক্ত উক্তিটি হলো পাঠ্যবইয়ের সঙ্গে বাস্তব মিলে যাওয়া পড়া কত সহজ হয়ে যায়। স্যারের উক্তিটি যথার্থ। কারণ পাঠ্যবই পড়ে শিক্ষার্থীরা তাত্ত্বিক জ্ঞান অর্জন করে। কিন্তু এর সঙ্গে যদি ব্যবহারিক ও বাস্তব জ্ঞানের সংমিশ্রণ ঘটে, তবে তা বুঝতে ও মনে রাখতে সহজ হয়। যেমন কোনো প্রতœতাত্ত্বিক স্থাপনার বৈশিষ্ট্য পাঠ্যবইতে যত সুচারুরূপে বর্ণনা করা হোক না কেন, তা যদি সরাসরি দেখা যায় তবে তা অনেকবার পড়ার চেয়ে কার্যকর হয়। আবার যদি পড়া ও দেখা দুটিই হয় তবে তা অধিক ফলপ্রসূ হয়। পাঠ্যবইতে পড়া কোনো বস্তু, ঘটনা কিংবা স্থানের বৈশিষ্ট্য যদি সরাসরি প্রত্যক্ষ করা যায়, তবে তা শিক্ষার্থীদের মনে রাখার ক্ষেত্রে অধিক ফলপ্রসূ ও কার্যকর হয়। মনে রাখা সহজ হয়। উদ্দীপকের শিক্ষার্থীরা পাহাড় অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য বইতে পড়ে শিক্ষাভ্রমণে এর বাস্তব অবস্থা দেখে তার সঙ্গে মেলাতে পেরেছে। ফলে এটি তাদের জন্য অনেক সহজ ও সাবলীল হয়ে গেছে।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকের শিক্ষকের শেষোক্ত উক্তিটি যথার্থ ছিল।
