অক্সিজেন প্ল্যান্টের কাজের ধীরগতিতে হতাশা

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২১, ০৪:৩৩ এএম

দশ মাসেও ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের কেন্দ্রীয় অক্সিজেন ব্যবস্থা চালু না হওয়ায় চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। করোনা আক্রান্ত রোগীসহ গুরুতর অসুস্থ রোগীদের জন্য এ হাসপাতালে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন ব্যবস্থা না থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বিভাগীয় শের-ই-বাংলা মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এতে যেমন রোগীর স্বজনদের অতিরিক্ত খরচ করতে হচ্ছে তেমনি দুর্ভোগও পোহাতে হচ্ছে।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অক্সিজেন সরবরাহের ঘাটতি মেটাতে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে সাড়ে দশ হাজার লিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন কেন্দ্রীয় অক্সিজেন প্ল্যান্টের কাজ শুরু হয় গত বছরের ২৫ নভেম্বর। স্পেক্ট্রা ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ৩ কোটি ২৯ লাখ টাকা ব্যয়ে এ অক্সিজেন প্ল্যান্টের কাজ শুরু করে। ১০০ শয্যার এ হাসপাতালের অক্সিজেন প্ল্যান্টের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। কিন্তু ধীরগতিতে পাইপলাইন স্থাপনের ফলে এখন পর্যন্ত অক্সিজেন সরবরাহ করার সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সিলিন্ডার দিয়ে করোনা রোগীদের অক্সিজেন সরবরাহ করা হচ্ছে। তীব্র শ্বাসকষ্টের রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হচ্ছে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

সিভিল সার্জন কার্যালয় আরও জানায়, কেন্দ্রীয় অক্সিজেন ব্যবস্থা চালু হলে এ প্ল্যান্ট থেকে প্রতিদিন একশ মুমূর্ষু রোগী তিন মাস পর্যন্ত অক্সিজেন গ্রহণ করতে পারবেন। হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) চালুর জন্য একই সময় প্রাক্কলন ব্যয় নির্ধারণ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ এলে এখানে দশ শয্যার আইসিইউ ও পাঁচ শয্যার এইচডিইউ থাকবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও যন্ত্রাংশের ব্যবস্থা করা হবে।

রাজাপুরের বাসিন্দা ভাতকাঠী এলাকার মকবুল হোসেন বলেন, কয়েকদিন আগে আব্বার করোনা ধরা পড়লে বাড়িতেই চিকিৎসা দিয়েছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করে আব্বার শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি করাই। সদর হাসপাতালে কেন্দ্রীয় অক্সিজেনের ব্যবস্থা থাকলে এত খরচ করে আব্বাকে নিয়ে বরিশালে যেতে হতো না।

ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক শরীফ ইকবাল বলেন, আমাদের এখানে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় দেড়শ অক্সিজেন সিলিন্ডার আছে। তার পরেও আমাদের মাঝেমধ্যে মুমূর্র্ষু রোগীর চাপে অক্সিজেন সরবরাহে হিমশিম খেতে হয়। আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে প্ল্যান্টের কাজ শেষ, তারপরেও কেন যে এটি চালু হচ্ছে না সেটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানই ভালো বলতে পারবে।

ঝালকাঠির সিভিল সার্জন রতন কুমার ঢালী বলেন, হাসপাতালের কেন্দ্রীয় অক্সিজেন প্ল্যান্টের কাজ এখনো শেষ হয়নি। এছাড়া সারা দেশেই লিকুইড অক্সিজেনের সংকট রয়েছে। কাজ শেষ হলেও লিকুইড অক্সিজেনের সংকট কাটা না পর্যন্ত এটি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। কেন্দ্রীয় অক্সিজেন প্ল্যান্ট চালু হলে হাসপাতালে চিকিৎসাসেবার গতি আরও বাড়বে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত