কক্সবাজারের মহেশখালীতে প্যারাবন কেটে গড়ে তোলা চিংড়িঘেরের বাঁধ কেটে দিয়ে সরকারি প্রায় ১০ একর জায়গা দখলমুক্ত করেছে বন বিভাগ। বন উজাড় করে চিংড়িঘের নির্মাণের বিষয়ে গত ৯ আগস্ট দৈনিক দেশ রূপান্তরে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এর ৪৮ ঘণ্টার মাথায় গতকাল বুধবার সকালে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় হোয়ানক ইউনিয়নের অবৈধ ওই চিংড়ি ঘেরে অভিযান চালায় বন বিভাগ।
জানা গেছে, গতকাল সকাল ৯টার দিকে বন বিভাগের মহেশখালী উপজেলা রেঞ্জ কর্মকর্তা আনিসুর রহমান একদল কর্মী ও প্রায় ৬০ শ্রমিক নিয়ে অবৈধ চিংড়ি ঘেরে অভিযানে যান। প্রায় ৪ ঘণ্টার অভিযানে ঘেরের বাঁধ কেটে দিয়ে সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করা হয়।
এ প্রসঙ্গে অভিযান পরিচালনাকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা আনিছুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হোয়ানকের অমাবইশ্যা মৌজায় সরকারি প্যারাবন কেটে চিংড়ি ঘের নির্মাণের খবর পাই আমরা। এরপর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সহযোগিতা ও বিভাগীয় বন সংরক্ষক এসএম গোলাম মওলার নির্দেশনায় অভিযান চালিয়ে ঘেরের বাঁধ কেটে দিয়ে কমপক্ষে ৭-৮ একর জায়গা দখলমুক্ত করি। এছাড়া ঘের নির্মাণের কাজে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
জানা গেছে, হোয়ানকের অমাবইশ্যা ঘোনাসংলগ্ন প্যারাবন কেটে চিংড়ি ঘের নির্মাণ করেছিল সিকদার গ্রুপ নামে স্থানীয় একটি প্রতিষ্ঠান। গত জুলাই মাসে বন বিভাগ অভিযান চালিয়ে ঘেরের বাঁধ কেটে দিয়ে প্রায় ১০ একর জায়গা দখলমুক্ত করে। তখন সিকদার গ্রুপের প্রধান পানিরছড়া এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে মো. সিকদারকে প্রধান আসামি করে ১৪ জনের বিরুদ্ধে আলাদা দুটি মামলা করে বন বিভাগ। কিন্তু মাস শেষ না হতেই বন বিভাগকে ম্যানেজ করে শত শত শ্রমিক কাজে লাগিয়ে আবারও বন কেটে চিংড়ি ঘেরের নির্মাণকাজ শুরুর অভিযোগ ওঠে স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী ওই চক্রটির বিরুদ্ধে। এ নিয়ে গত ৯ আগস্ট দেশ রূপান্তরে সংবাদ প্রকাশ হলে টনক নড়ে বন বিভাগের। যার ধারাবাহিকতায় উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় গতকাল সেখানে ফের অভিযান চালানো হয়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় বন বিভাগ অভিযান চালিয়ে হোয়ানকে সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করে। এছাড়া অবৈধ ওই চিংড়ি ঘের নির্মাণে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। মহেশখালীতে সরকারি জায়গা অবৈধভাবে দখলকারীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
