চীনে করোনা ঠেকাতে ব্যর্থ, ৪৭ কর্মকর্তার শাস্তি

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২১, ০৫:০৯ এএম

করোনাভাইরাসের ডেল্টা ধরনের সংক্রমণ ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ায় ৪৭ জন কর্মকর্তাকে শাস্তি দিয়েছে চীন। দেড় বছর আগে চীনেই প্রথম করোনার প্রাদুর্ভাব ঘটে। কয়েক মাসের মধ্যে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে তা মহামারীর আকার নিলেও চীন এই ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হয়। তবে সম্প্রতি দেশটিতে আবার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ বাড়ছে।

প্রথমে চীনের পূর্বাঞ্চলীয় নানজিং শহরে ডেল্টা ধরন শনাক্ত হয়। এরপর দেশটির ৩১টি প্রদেশের অর্ধেক এলাকায় ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ে। চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের দৈনিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত তিন সপ্তাহে এক হাজারেরও বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। সম্প্রতি সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় দ্রুত বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয় চীন। সেগুলোর মধ্যে রয়েছেÑ কঠোর লকডাউন, গণহারে করোনা পরীক্ষা, কোয়ারেন্টাইন ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা। এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নে যেসব কর্মকর্তা ব্যর্থ হয়েছেন, তারা শাস্তির মুখে পড়েছেন।

শাস্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে স্থানীয় সরকারের প্রধান, স্বাস্থ্য কমিশনার, হাসপাতাল ও বিমানবন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রয়েছেন। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তাদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে বলে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সেন্ট্রাল কমিশন ফর ডিসিপ্লিন ইন্সপেকশনের (সিসিডিআই) বিবৃতি অনুযায়ী, জিয়াংসু প্রদেশের রাজধানী নানজিংয়ের ১৫ কর্মকর্তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। নানজিং লুকো ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ওই বিমানবন্দর থেকেই পুনরায় চীনে ভাইরাস ছড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। করোনাভাইরাসের রুটিন পরীক্ষা করার সময় গত ২০ জুলাই বিমানবন্দরের ৯ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর আগে ১০ জুলাই রাশিয়া থেকে আসা একটি বিমানের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়াতে পারে বলে মনে করছে কর্র্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে বিমানবন্দরের তিনজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রাদেশিক কর্র্তৃপক্ষ তদন্ত করছে। এদের মধ্যে দুজনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া নানজিংয়ের ভাইস মেয়রকে কঠোরভাবে সতর্ক করে দিয়েছে ডিসিপ্লিনারি কমিটি, প্রয়োজনে তাকে বহিষ্কার করা হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত