ডেঙ্গু কেন হয়

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২১, ১০:৫০ পিএম

ভাইরাসবাহিত এডিস ইজিপ্টাই নামক মশার কামড়ে দেখা দেয় ভাইরাস জ্বর, যার নাম ডেঙ্গু জ্বর। এই জ্বর একজন থেকে অন্যজনের মধ্যে ছড়িয়ে থাকে। জীবাণুবাহী এডিস মশা কামড়ানোর ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে একজন মানুষ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তিকে ভাইরাসবিহীন কোনো এডিস মশা কামড়িয়ে অন্য ব্যক্তিকে কামড়ালে সেও ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হতে পারে।

ধরন

ডেঙ্গু সাধারণত দুইভাবে হয়ে থাকে। এক. ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গু ফিভার। দুই. হেমোরেজিক ফিভার। ডেঙ্গুর এই দুটি ধরন নিয়ে জেনে নিন

লক্ষণ

রোগ দেখা দিলে সাধারণত জ্বর হয়ে থাকে। জ্বরের সঙ্গে প্রচুর মাথাব্যথা, শরীর এবং চোখের কোণায় ব্যথা অনুভব হবে। এছাড়া শরীরের হাড়ে তীব্র ব্যথা অনুভব হয়। অনেক সময় ব্যথা এত তীব্র হয় যা অসহনীয় হয়ে ওঠে। একে ‘ব্রেক বোন ফিভার’ বলে। এই জ্বর তিন থেকে চারদিন পর ঠিক হয়ে গিয়ে কয়েকদিন পর আবার দেখা দেয়। একে ‘বাই ফেজিক ফিভার’ বলে। শরীরের বিভিন্ন জায়গায় র‌্যাশ দেখা দেয়। এই জ্বর জটিল আকার ধারণ করলে মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়তে পারে, এমনকি রক্ত বমিও হতে পারে। এছাড়াও পায়খানার সঙ্গেও রক্ত যেতে পারে। আবার এই সময় অনেকের শ্বাসকষ্ট হয়ে থাকে। জ্বরে পানিশূন্যতা দেখা দেয়, বমি বমি ভাব হয়, খাবারে অরুচি হয়ে থাকে, রোগী দুর্বল হয়ে পড়ে এবং অতিরিক্ত ক্লান্তিবোধ করে। তবে ডেঙ্গুর ধরন এখন পাল্টেছে। তাই কোনো প্রকার লক্ষণ ছাড়াই এই রোগ জটিল অবস্থায় চলে যেতে পারে। ডেঙ্গুর স্টেরিওটাইপ চারটি। তাই ডেঙ্গু জ্বরও চারবার হতে পারে।

কখন যাবেন ডাক্তারের কাছে

ডেঙ্গু জ্বরের নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। জ্বর এলেই হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে এমনটা নয়। জ্বর সাধারণত নিজে নিজেই ভালো হয়ে যায়। তাই অল্পমাত্রায় ঘরোয়া চিকিৎসাই যথেষ্ট। তবে জটিল আকার ধারণ করলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।  প্রচ- পেটে ব্যথা হলে  শ্বাসকষ্ট হলে  বারবার বমি হলে বা বমি বমি ভাব হলে  পেটে পানি জমে ফুলে গেলে  প্লাটিলেটের মাত্রা কমে গেলে  প্রসাবের পরিমাণ কমে গেলে  শরীরের যেকোনো অংশে রক্তপাত হলে  শরীর অতিমাত্রায় দুর্বল হয়ে পড়লে  জন্ডিসের ভাব দেখা দিলে।

এসব লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যান। এছাড়া এ সময় রোগীর পানিশূন্যতা দেখা দেয়। তাই খেয়াল রাখবেন রোগী পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করছে কি না।

চিকিৎসা

ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তি ৫ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই ভালো হয়ে যায়। তবে যাতে এই রোগে জটিলতা দেখা না  দেয় তাই চিকিৎসায় করণীয় হলো পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে। প্রচুর পরিমাণ পানি ও তরল খাবার খেতে হবে। যেমন : জুস, শরবত, স্যালাইন। জ্বর কমাতে প্যারাসিটামল খেতে পারেন। একটি সুতি কাপড় পরিষ্কার পানিতে ভিজিয়ে শরীর মুছে দিতে পারেন, খেতে না পারলে শিরাপথে স্যালাইন দেওয়া যেতে পারে। এ সময় কোনো ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করা যাবে না। ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভারে আক্রান্ত হলে অবশ্যই হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে। এ ধরনের রোগীকে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করাতে হবে। অর্থাৎ একজন আক্রান্ত ব্যক্তির মোট ওজনের ১০ ভাগের এক ভাগ পানীয় পান করতে পারবেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত