দেশে টিকা প্রদানে নৈরাজ্য চলছে : ফখরুল

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২১, ০১:৫০ এএম

দেশে করোনার টিকা প্রদানের ক্ষেত্রে সরকারের অব্যবস্থাপনার কারণে নৈরাজ্য চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল বৃহস্পতিবার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর ৫২তম জন্মবার্ষিকীতে বনানীতে তার কবর জিয়ারত শেষে তিনি এ অভিযোগ করেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘করোনা মোকাবিলায় আজকে এ সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। যেটাকে বলা যায়, করোনা মোকাবিলায় টোটাল ম্যানেজমেন্ট ফেইলিউর। এর ফলে আজকে টিকা প্রদানে ম্যানেজমেন্টের প্রচ- রকমের যে নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে, সেই নৈরাজ্যের কারণে গোটা জনজীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে। আমরা পত্র-পত্রিকায় তা দেখতে পারছি।’ এ সময় সরকারের প্রতি আবারও আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অবিলম্বে টিকা সংগ্রহ করে এ করোনা মোকাবিলার জন্য একটি রোডম্যাপ ঘোষণা করে সত্যিকার অর্থেই জনগণের জন্য কাজ করুন।’

‘লকডাউন’ তুলে নেওয়া ঠিক হয়েছে কি না সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি প্রথম থেকে বলছি যে, আসলে করোনা মোকাবিলায় সরকারের টোটাল ম্যানেজমেন্ট ব্যর্থ হয়েছে। দিজ গভর্মেন্ট হেজ ফেইল্ড টোটালি টু ম্যানেজ করোনা। অপরিকল্পিত লকডাউন, অপরিকল্পিত টিকাব্যবস্থা, অপরিকল্পিত মানুষের জীবনব্যবস্থা করা সব মিলিয়ে এ সরকারের আর একমুহূর্ত ক্ষমতা থাকা উচিত নয়। দে শুড বি রিজাইন ইমিডেইটলি।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠপুত্র আরাফাত রহমান কোকোর ৫২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আমরা এখানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণসহ শ্রদ্ধা জানাতে এসেছি। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে আমরা তার রুহের মাগফিরাত কামনা করে কবর জিয়ারত ও দোয়া মোনাজাত করেছি। পরম করুণাময় আল্লাহর দরবারে এই দোয়া করেছি, আল্লাহতায়ালা তাকে যেন জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন।’

এ সময় আরাফাত রহমান কোকোর কর্মময় জীবনের ও বাংলাদেশ ক্রিকেটে তার অবদানের কথা তুলে ধরেন তিনি।

কোকোর কবরে এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমানউল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক, দক্ষিণের রফিকুল আলম মজনু, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নিরব, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, মোরতাজুল করীম বাদরু, মামুন হাসান, এসএম জাহাঙ্গীর, স্বেচ্ছাসেবক দলের মোস্তাফিজুর রহমান, আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, ছাত্রদলের ফজলুল রহমান খোকনসহ অঙ্গসংগঠনের নেতারা।

২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি ৪৫ বছর বয়সে মালয়েশিয়ায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান কোকো। পরে ২৮ জানুয়ারি তার মরদেহ দেশে এনে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়। কোকোর আত্মার মাগফিরাত কামনায় দুপুরে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও বিকেলে চেয়ারপারসনের গুলশানের কার্যালয়ে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত