নাতনির বিয়ের সময় দেনমোহর ১০ লাখ টাকা নির্ধারণ করে দেন নানা শহিদ মোল্লা। কিন্তু এত টাকা দেনমোহর করায় তা নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন না নাতনি জামাই আবুল কালাম। বিয়ের এক মাস পরেই এ নিয়ে নানাশ্বশুরের বাড়িতে গিয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন কালাম। শহিদ মোল্লার প্রতিবেশীদের ভাষ্য, তখন সেখানে কালামকে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় স্ত্রীকে নিয়ে নিজ বাড়িতে ফেরেন কালাম। ওই ঘটনায় দুই পবিবারের মধ্যে সম্পর্ক প্রায় ছিন্ন হয়ে যায়। দীর্ঘদিন পর গত মঙ্গলবার বিকেলে নাতনিকে দেখতে এলে শহিদ মোল্লা ও তার এক ভাগ্নেকে বেঁধে রেখে নির্যাতন করে কালাম ও তার পরিবার। পরে স্থানীয়রা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ এসে উদ্ধার করে তাদের। এরপর গতকাল সাভার মডেল থানায় শহিদ মোল্লা লিখিত অভিযোগ দিলে দুজনকে আটক করে পুলিশ।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বনগাঁও ইউনিয়নের কাজীপাড়া গ্রামের বশির মহাজনের ছেলে আবুল কালামের সঙ্গে এক বছর আগে সিংগাইরের ওই বৃদ্ধের নাতনির ১০ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে হয়। মঙ্গলবার বিকেলে বৃদ্ধ ও তার ভাগ্নে নাতনিকে দেখতে যান। তখন নাতনি জামাই মো. আবুল কালাম, তার ভাই মো. সালাম ও বাবা বশির মহাজনসহ পরিবারের লোকজন তাদের একতলা ভবনের ছাদে নিয়ে পানির পাইপের সঙ্গে গামছা দিয়ে বেঁধে মারধর করে। এ সময় তাদের কাছে থাকা ২৬ হাজার টাকা মূল্যের দুটি মোবাইল ফোন, নগদ সাড়ে ৪ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। রাতে বাড়ির ভেতরে নিয়ে দুটি সাদা কাগজ ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয় এবং ঘটনার বিষয়ে কাউকে জানালে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয় অভিযুক্তরা। এ সময় তাদের চিৎকারে এলাকাবাসী ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থল থেকে ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করে।
শহিদ মোল্লার ছেলে জয় বলেন, ‘আমার ভাগ্নির বাবা মারা যাওয়ার পর থেকেই আমরাই দেখশোনা করি। বিয়ের দেড় মাস পর ভাগনির সঙ্গে অন্য ছেলের সম্পর্ক রয়েছে এমন মিথ্যা অপবাদ দিতে শুরু করে শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এক পর্যায়ে তাকে বাড়ি নিয়ে এসে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিই। কিন্তু এলাকাবাসীর অনুরোধে ভাগনিকে আবার শ্বশুরবাড়িতে পাঠাই। তখন থেকে আমার ভাগনিকে আর বাড়িতে আসতে দেয় না। মাঝে মাঝে ফোনে কথা বলার সুযোগ দিত। ভাগনি আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় মঙ্গলবার আমার বাবা ও আমার ফুফাতো ভাই ভাগনিকে বাড়িতে দেখতে যায়। কিন্তু তারা বাবা ও ভাইকে বেঁধে তারা নির্যাতন করে।’
তবে শহিদ মোল্লার প্রতিবেশী মাসুম হাওলাদার দেশ রূপান্তরকে জানান, বিয়ের এক মাস পরেই আবুল কালাম দেনমোহর ও তার স্ত্রীর অন্য ছেলের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে কথা বলতে নানা শ্বশুরের বাড়িতে আসেন। তখনও বাকবিত-ার জেরে কালামকে বেঁধে রাখে শহিদ মোল্লার পরিবার। পরে তাদের সহায়তায় স্ত্রীকে নিয়ে সাভার ফেরেন কালাম। এরপর থেকেই তাদের দুই পরিবারের মধ্যে কোনো সম্পর্ক ছিল না। মাসুম বলেন, এবারের ঘটনা ১০ মাস আগের ওই ঘটনার জেরে ঘটে থাকতে পারে।
সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) কামাল হোসেন জানান, দুই ব্যক্তিকে নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত আবুল কালাম ও তার বাবা বশির মহাজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও আটকের চেষ্টা চলছে।
