বিসিসির ১২ কর্মকর্তা কর্মচারী চাকরিচ্যুত!

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২১, ০২:২৩ এএম

বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) ১২ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দুর্নীতির অভিযোগে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে তাদের প্রত্যেকের ঘরে ঘরে চাকরি থেকে বরখাস্তের চিঠি পৌঁছে দেন নগরভবনের সংশ্লিষ্টরা। তবে বরখাস্তের এই সিদ্ধান্ত আইনসিদ্ধ হয়নি বলে দাবি করেছেন চাকরিচ্যুতরা। তারা বলছেন, বিসিসির আইন অগ্রাহ্য করে ঢাকা সিটি করপোরেশনের (উত্তর) আইন অনুযায়ী তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

চাকরিচ্যুতরা হলেন বিসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আব্দুল মতিন, নির্বাহী প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী কাজী মনিরুল ইসলাম, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার কমল ও জহিরুল ইসলাম, চিফ অ্যাসেসর মো. আজম, জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. রোমেল, হিসাবরক্ষক মো. মাইনুদ্দিন, সম্পত্তি শাখার অ্যাস্টেট অফিসার মাহাবুবুর রহমান শাকিল, আইন সহকারী রফিকুল ইসলাম এবং অফিস সহকারী আব্দুস সালাম ও হায়াতুল ইসলাম।

চাকরিচ্যুতরা প্রত্যেকে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৯ সালের ২৯ জানুয়ারি থেকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) অবস্থায় ছিলেন। ২০২০ সালের ২৩ আগস্ট বিসিসির চতুর্থ পরিষদের নবম সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৩ মাসের বেতন পরিশোধপূর্বক ওই ১২ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয় বলে সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ ফারুক আহমেদ স্বাক্ষরিত চিঠিতে জানানো হয়েছে। এ নিয়ে গত দুই বছরে দুর্নীতির অভিযোগে বরিশাল সিটি করপোরেশন থেকে চাকরি হারালেন ১৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী।

এর আগে ২০২০ সালের ২৯ অক্টোবর দুর্নীতির অভিযোগে আরও চার কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। তাদের মধ্যে বিসিসির প্রধান বাজেট কাম হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমানকে উৎকোচ গ্রহণ ও ভুয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ঠিকাদারকে বিল প্রদান, ট্রেড লাইসেন্স সুপারিনটেনডেন্ট আজিজ শাহীনকে নামে-বেনামে স্বজনদের বিপরীতে করপোরেশনের স্টল বরাদ্দ দেওয়া ও উৎকোচ গ্রহণ, একই অভিযোগে বাজার সুপারিনটেনডেন্ট নুরুল ইসলাম এবং একটি প্রতিষ্ঠানকে বিসিসির রাস্তা খুঁড়তে সহায়তা করায় উপসহকারী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদকে চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়।

তবে নতুন করে বরখাস্ত করা ১২ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে স্থায়ীভাবে বরখাস্তের চিঠিতে তাদের অপরাধ বা দুর্নীতির বিষয়ে উল্লেখ করা হয়নি। এমনকি বরখাস্তের অনুলিপি বিসিসির সচিব, মেয়রের একান্ত সচিব, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং সব বিভাগীয় প্রধানকে দেওয়া হলেও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়নি। তাই বরখাস্তের বিষয়টি আইনসিদ্ধ হয়নি বলে দাবি চাকরিচ্যুতদের। বিসিসির আইন অগ্রাহ্য করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আইন অনুযায়ী বরখাস্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।

চাকরিচ্যুতরা বলছেন, বরখাস্তের আগে শোকজ ও তদন্ত কমিটি গঠনসহ নানা প্রক্রিয়া থাকে। কিন্তু বিসিসি খোঁড়া অজুহাত তুলে আড়াই বছরের বেশি সময় ওএসডি রাখার পর বরখাস্তের কাগজ হাতে ধরিয়ে দিয়েছে। তা ছাড়া চাকরির শর্তানুযায়ী ওএসডিকালীন বেতনের একটি অংশ দিতে হবে। কিন্তু তাও দেওয়া হয়নি। বৃহস্পতিবার সরাসরি চাকরিচ্যুতির যে চিঠি দেওয়া হয়েছে, সেখানে মাত্র তিন মাসের বেতন প্রদানের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

চাকরিচ্যুতদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ ফারুক হোসেন মোবাইল ফোনে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি ছুটিতে আছি। চাকরিচ্যুতির বিষয়টি আমার জানা নেই।’ তিনি বিসিসির জনসংযোগ কাম প্রশাসনিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।

প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস বলেন, ‘চাকরিচ্যুতির বিষয়টি সত্য। এ বিষয়টি আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে গণমাধ্যমকে জানাব।’ তার আগে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত