মোবাইল ব্যাংকিংয়ের গ্রাহক ফের ১০ কোটি ছাড়াল

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২১, ১২:৩৯ এএম

শিওরক্যাশ ও ইউক্যাশের সেবা বন্ধের কারণে গত এপ্রিলে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের (এমএফএস) গ্রাহক কমে গেলেও গত জুনে আবার গ্রাহক সংখ্যা ১০ কোটি ছাড়ায়।

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিসি) ইউক্যাশ বন্ধ করে ‘উপায়’ নামে নতুন করে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালু করায় ইউক্যাশের গ্রাহকরা পর্যায়ক্রমে ‘উপায়’-এর গ্রাহকে পরিণত হওয়ায় এমএফএস সেবার গ্রাহক বৃদ্ধি পায় বলে জানা যায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত জুন শেষে দেশের ব্যাংকগুলোর মোবাইল ব্যাংকিং সেবার আওতায় মোট নিবন্ধিত হিসাব সংখ্যা দাঁড়ায় ১০ কোটি ১২ লাখ ৪০ হাজার ৬১৭টিতে। আগের মাস অর্থাৎ গত মে মাসে এই সেবার নিবন্ধিত গ্রাহক সংখ্যা ছিল ৯ কোটি ৮১ লাখ ৩১ হাজার ৬৩৭।

পরিসংখ্যান ঘেঁটে দেখা যায়, চলতি বছর জানুয়ারি মাসে মোবাইল ব্যাংকিং সেবার গ্রাহক প্রথমবারের মতো ১০ কোটি ছাড়ায়। ওই মাসে এই সেবার নিবন্ধিত গ্রাহক দাঁড়ায় ১০ কোটি ৫ লাখ ৫৩ হাজার ৮৩১-তে। তবে শিওরক্যাশ ও ইউক্যাশের সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গত মার্চে মোবাইল ব্যাংকিং সেবার গ্রাহক কমে ৯ কোটি ৬৪ লাখ ৭৬ হাজার ৪৭২-তে নেমে আসে।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, বর্তমানে মোট নিবন্ধিত গ্রাহকের মধ্যে গ্রামের গ্রাহক ৫৮.৬৬ শতাংশ। নারী গ্রাহকের সংখ্যা ৪৫.৪১ শতাংশ। তবে মোট নিবন্ধিত গ্রাহক ১০ কোটির বেশি হলেও এর মধ্যে সক্রিয় থাকে সাড়ে তিন থেকে চার কোটি হিসাব।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো হিসাবে টানা তিন মাস লেনদেন না হলে ওই মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবটি নিষ্ক্রিয় ধরা হয়। গত জুন শেষে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের এজেন্ট সংখ্যা দাঁড়ায় ১১ লাখ ৩১ হাজারে। গত জুন মাসে মোবাইল ব্যাংকিং সেবার আওতায় লেনদেন হয় ৬২ হাজার ৯৯৩ কোটি টাকা। লেনদেন সংখ্যা ছিল ৩১ কোটি ৯৮ লাখ ২০ হাজার ৭৭২টি। অর্থাৎ গড়ে প্রতিটি লেনদেনে টাকার অঙ্ক ছিল প্রায় ২ হাজার টাকা। আর দৈনিক গড় লেনদেন ছিল ২ হাজার ৯৯ কোটি টাকা।

পরিসংখ্যান ঘেঁটে দেখা যায়, গত জুনে মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় ক্যাশ ইন বা টাকা জমার পরিমাণ ছিল ১৮ হাজার ৩১৬ কোটি টাকা। ক্যাশ আউট বা উত্তোলন ছিল ১৫ হাজার ৭৪১ কোটি টাকা। ব্যক্তি হিসাব থেকে সেন্ড মানির মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তরের পরিমাণ ছিল ১৮ হাজার ৮২৭ কোটি টাকা। কেনাকাটার বিল পরিশোধ করা হয় ৩ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা। সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা পরিশোধ হয় ২ হাজার ২২৫ কোটি টাকা। কর্মীদের বেতন পরিশোধ হয় ২ হাজার ২৪৩ কোটি টাকা। মোবাইল ফোনের ব্যালান্স রিচার্জ হয় ৬৫০ কোটি টাকা। গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ হয় ১ হাজার ২৪৩ কোটি টাকা।

২০১০ সালে মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম চালুর অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০১১ সালের ৩১ মার্চ বেসরকারি খাতের ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালুর মধ্য দিয়ে দেশে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের যাত্রা শুরু হয়। পরে এই সেবায় যুক্ত হয় ব্র্যাক ব্যাংকের বিকাশ, ইসলামী ব্যাংকের এমক্যাশ, ইউসিবির ইউক্যাশসহ প্রায় ১৭-১৮টি ব্যাংক। তবে এক্সিম ব্যাংক ও ইবিএল পরবর্তী সময়ে তাদের সেবা বন্ধ করে দেয়। ২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের গ্রাহক সংখ্যা প্রথমবারের মতো এক কোটির মাইলফলক অতিক্রম করে।

ব্যাংকের পাশাপাশি এই সেবায় রয়েছে ডাক বিভাগের ‘নগদ’। বর্তমানে নগদেরও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব থাকলেও তা বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানের মধ্যে আনা হয় না। এই হিসাবগুলোর তথ্য সন্নিবেশিত হলে দেশে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের প্রকৃত গ্রাহক সংখ্যা জানা যাবে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত