চাকরির ভুয়া বিজ্ঞাপন দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২১, ০২:৩০ এএম

পত্রিকায় ভুয়া বিজ্ঞাপন দিয়ে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়ার নাম করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত শুক্র ও শনিবার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করেন পুলিশের ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদস্যরা। গ্রেপ্তাররা হলোÑ মো. ফিরোজ ওরফে শাহরুখ ইসলাম (২৯), আবদুল কুদ্দুস (৩৪), মাঈনুল ইসলাম (৩৪), বিল্লাল হোসেন (৪১), তৌকির আহমেদ (২৬) ও কফিল উদ্দিন চৌধুরী (৬০)। গতকাল রবিবার দুপুরে রাজধানীর বনশ্রী এলাকায় পিবিআইয়ের অর্গানাইজড ক্রাইম দক্ষিণ বিভাগের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সারোয়ার জাহান। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, চক্রটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমিউনিটি কেন্দ্র, সুখী পরিবার, মা ও শিশু স্বাস্থ্যকেন্দ্র, অ্যাপোলো কনজিউমার প্রোডাক্টসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে লোভনীয় বেতনে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা করে আসছিল। গত শনিবার মোহাম্মদপুর থানায় ফজলুল করিম নামে এক ভুক্তভোগীর করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ফিরোজ চক্রটির হোতা। প্রতারকদের দুটি বিকাশ নম্বরে গত তিন মাসে ১২ লাখ টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

সারোয়ার জাহান বলেন, দেশের প্রথম সারির কিছু পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিত প্রতারক চক্রটি। মহাখালীতে স্বাস্থ্য বিভাগের ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমিউনিটি কেন্দ্রের প্রধান কার্যালয়ের ঠিকানা ব্যবহার করত তারা। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে কিছু ইমেইল অ্যাড্রেস দেওয়া থাকত। যেগুলোতে আগ্রহীরা সিভি পাঠাতেন। সিভি পাওয়ার পর চাকরিপ্রার্থীকে একটি এসএমএসের মাধ্যমে চাকরি হয়েছে বলে একটি কনফার্মেশন বার্তা পাঠাত। এরপর বিকাশের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন বাবদ ১ হাজার ৯৪০ টাকা নিত তারা।

তিনি আরও বলেন, টাকা পাঠানোর পর চাকরিপ্রার্থীকে এই প্রতারক চক্র একটি মানি রিসিপ্ট, অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার ও চূড়ান্ত নির্বাচিত হওয়ার ফরম ইমেইলে পাঠাত। পরে তাদের কথামতো চূড়ান্ত নির্বাচিত ফরম পূরণ করে প্রতারকদের দেওয়া ইমেইলে ফিরতি মেইল করতে হতো চাকরিপ্রত্যাশীদের। বিনামূল্যে ল্যাপটপ ও মেডিকেল ইকুইপমেন্ট দেওয়া হবে সেজন্য দ্বিতীয় দফায় আরও ৪ হাজার ৮০ টাকা দাবি করত চক্রটি। আবারও টাকা পাঠানোর পর চাকরিতে যোগদানের জন্য চাকরিপ্রত্যাশীরা প্রতারকদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হতো। একপর্যায়ে ওই নম্বরে ফোন করা হলে আর সংযোগ পাওয়া যেত না। ততক্ষণে ভুক্তভোগী বুঝতে পারেন তিনি প্রতারিত হয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত