গত শুক্রবার দেশ রূপান্তরের প্রথম পাতায় প্রকাশিত ‘আইপি টিভিতে এরা কারা’ শীর্ষক প্রতিবেদনের একাংশের প্রতিবাদ জানিয়েছে আইপি টিভি ওনার্স অ্যসোসিয়েশনের (অনিবন্ধিত) সভাপতি মুহাম্মদ আতাউল্লাহ খান। গত ১৩ আগস্ট মুহাম্মদ আতাউল্লাহ খান স্বাক্ষরিত পাঠানো এক প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, ‘প্রতিবেদনটিতে উদ্দেশ্যমূলক বানোয়াট মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবাদলিপিতে তিনি দাবি করে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত খুনি কর্নেল ফারুক রহমানের দল ফ্রিডম পার্টির সঙ্গে আমার কোনো প্রকার সম্পৃক্ততা ছিল না। আমার ভাই মরহুম শফিকউল্লাহ খান ১৯৯৬ সালে মহেশখালী কুতুবদিয়া আসনে ফ্রিডম পার্টির সংসদ সদস্য প্রার্থী ছিলেন। আমাদের পরিবারের কেউ ফ্রিডম পার্টি করেনি। আমার জন্ম ১৯৭১ সালের ১৮ জুলাই। একজন শিশুর পক্ষে ১৯৭৫ সালের খুনিদের সহযোগী হওয়া কল্পনাপ্রসূত ও অপসাংবাদিকতা।’
প্রতিবাদলিপিতে আরও বলা হয়, আমি ছাত্রজীবন শেষ করি ১৯৯৯ সালে এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনায় আন্তর্জাতিক উদার মতবাদে রাজনৈতিক দল লিবারেল পার্টি বাংলাদেশ-এ যোগদান করি। পরে লিবারেল পার্টির কার্যক্রম পছন্দ না হওয়ায় ২০০৭ সালে পার্টি থেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে অসাম্প্রদায়িক চেতনার সামাজিক, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে জড়িত হয়ে পড়ি। ২০১১ সালে বাংলাদেশ গণআজাদী লীগে যোগদান করি। প্রথমে যুগ্ম মহাসচিব, ২০১৪ সালে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও ২০১৬ সালে মহাসচিব হিসেবে নির্বাচিত হই। দলের আদর্শ পরিপন্থী ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে আমরা যাদের বাদ দিয়েছি তারা আলাদা সংগঠন করেছে। আমি ছাত্রজীবনে ল কলেজে ‘বাংলাদেশ ল স্টুডেন্ট ফোরাম’ হতে ভিপি ইলেকশন করেছিলাম। আমি এখনো সাংস্কৃতিক সংগঠন, সাংবাদিকতা ও অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির সঙ্গে আছি। আমি রাষ্ট্রবিরোধী ও অপেশাদার কোনো কাজে জড়িত নই। প্রকাশিত সংবাদের কারণে আমার রাজনৈতিক, পারিবারিক ও সামাজিক মর্যাদা হুমকির সম্মুখীন।
প্রতিবেদকের বক্তব্য : প্রকাশিত সংবাদে প্রতিবেদকের নিজস্ব কোনো বক্তব্য নেই। আইপি টিভির সঙ্গে সম্পৃক্তদের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে যে তথ্য পাওয়া গেছে প্রতিবেদনে তাই উপস্থাপন করা হয়েছে। মুহাম্মদ আতাউল্লাহ খানের বিষয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে, স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েই সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদে আতাউল্লাহ খানের বক্তব্যও হুবহু প্রকাশ করা হয়েছে।
মুহাম্মদ আতাউল্লাহ খান প্রতিবাদলিপিতে উল্লেখ করেছেন, ‘একজন শিশুর পক্ষে ১৯৭৫ সালে খুনিদের সহযোগী হওয়া কল্পনাপ্রসূত ও অপসাংবাদিকতা।’ অথচ প্রকাশিত সংবাদের কোথাও এমন কথা বলা হয়নি। আতাউল্লাহ খান ও তার পরিবারের সদস্যরা ফ্রিডম পার্টির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল বলে অনুসন্ধানে নিশ্চিত হওয়া যায়। স্থানীয় সাংসদও দেশ রূপান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি দাবি করেছেন, ‘বাংলাদেশ ল স্টুডেন্ট ফোরাম’ থেকে নির্বাচন করেছেন। ওই ফোরামের শিবির সমর্থিত অংশে তিনি নির্বাচন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি করা ও বঙ্গবন্ধুর খুনিদের সঙ্গে তার সখ্যের কারণে আতাউল্লাহ খানকে গণআজাদী লীগের মহাসচিব পদ থেকে গত বছর স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুবুল ইসলাম।
