মোহাম্মদ শামি ও জাসপ্রিত বুমরাহর মতো ‘ব্যাটসম্যানরা’ মিলে যেখানে ৯ম জুটিতে ৮৯ রান যোগ করেছেন, সেই দিনই ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা লজ্জার এক নজির গড়লেন লর্ডসে। ৮ উইকেটে ২৯৮ রানে বিরাট কোহলি দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণার পর শেষ দিনে ২৭১ রানের টার্গেট পায় ইংল্যান্ড। জয় দূরে থাক, ৬০ ওভার কাটিয়ে দেওয়ার মতো ব্যাটিংই করতে পারল না তারা। সিরাজ (৪/৩২), বুমরাহ (৩/৩৩), ইশান্ত (২/১৩)-দের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করেন। ১২০ রানে ইংল্যান্ডকে গুঁড়িয়ে দিয়ে লর্ডসে খেলা ১৯ টেস্টে তৃতীয় জয় তুলে নেয় ভারত।
ভারতের এই অবিশ্বাস্য জয়ের দিনে লজ্জার এক নজির গড়েন ইংলিশ ব্যাটসম্যানরা। ঘরের মাঠে ভারতের বিপক্ষে এক ম্যাচে সব থেকে বেশি ৭ ‘শূন্য’ করার নজির গড়লেন তারা। ভারতের বিপক্ষে এর আগে ৬ জন ব্যাটসম্যান শূন্যতে আউট হয়েছিলেন দুই টেস্টে। ২০০৪ সালে চট্টগ্রাম টেস্টে বাংলাদেশের ৬ জন, আর ২০০৮ সালে গল টেস্টের শ্রীলঙ্কার ৬ জন।
জো রুটদের খারাপ পরিকল্পনাতেই এমন করুণ দশা ইংল্যান্ডের বলে মন্তব্য করেছেন কিংবদন্তি লেগ স্পিন বোলার শেন ওয়ার্ন। তিনি বলেন, বুমরাহ-শামিদের জন্য কোনো পরিকল্পনাই করতে পারেনি ইংলিশরা। শুধু শর্ট বল করেছেন অ্যান্ডারসনরা। জবাবে যেই দল ভালো খেলেছে তারাই জিতেছে। জো রুটরা যার খেসারত তাদের ম্যাচ হেরে দিতে হয়েছে।
অন্যদিকে কিংবদন্তি সুনিল গাভাস্কার ইংল্যান্ডের সমালোচনা করে বলেছেন, এই দলটি রুট আর অ্যান্ডারসনের ওপর নির্ভরশীল। ‘ইংল্যান্ড হলো দুজনের টিম। শুধুমাত্র জো রুট এবং জিমি অ্যান্ডারসনের টিম। যারা খেলছেন, সবার প্রতি সম্মান রেখেই বলছি এটা ঠিকঠাক টেস্ট টিম নয়।’ টেস্ট ক্রিকেটের প্রথম ১০ হাজারি ব্যাটসম্যান বলেন, ‘ইংল্যান্ডের ওপেনিং ব্যাটসম্যানদের টেকনিক হাস্যকর। ৩ নম্বরে খেলতে নেমে হাসিব হামিদ রীতিমতো নার্ভাস ছিলেন।
তাই জো রুটের ওপরই ভরসা করতে হয়। জনি বেয়ারস্টো যদি খেলে ঠিক আছে, নয়তো কিছুই নয়। বাটলার, একজন চমৎকার সাদা বলের প্লেয়ার। কিন্তু টেস্টে ও কতটা যোগ্য, তা নিয়ে সন্দেহ আছে।’
