তিন মাস ধরে টানা দর বেড়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রকৌশল খাতের কোম্পানি আনোয়ার গ্যালভানাইজিং লিমিটেডের। স্বল্প মূলধনী এ কোম্পানিটির শেয়ার দর গত চার মাসে বেড়েছে প্রায় ২৫০ শতাংশ। অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধিতে কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য রয়েছে কি না, তা জানতে গত জুন ও জুলাই মাসে কোম্পানিটিকে একাধিক নোটিস দেয় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। জবাবে দরবৃদ্ধিতে কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই বলে জানায় আনোয়ার গ্যালভানাইজিং কর্তৃপক্ষ। সর্বশেষ এমন জবাবের এক মাস পর ব্যবসা সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়েছে কোম্পানিটি।
পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত ১৮ এপ্রিল আনোয়ার গ্যালভানাইজিং লিমিটেডের শেয়ার দর ছিল ৯৮ টাকা ৮০ পয়সা। এরপর থেকেই শেয়ারটির দর টানা বাড়তে থাকে, যা গতকাল ৩৪৩ টাকা ৭০ পয়সায় উন্নীত হয়েছে। অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির নেপথ্যে ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, আনোয়ার গ্যালভানাইজিংয়ের শেয়ারের দরবৃদ্ধিতে আনোয়ার গ্রুপের বিভিন্ন কোম্পানি ছাড়াও ব্যক্তিশ্রেণির কয়েকজন কারসাজিকারকের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির কারণ জানতে চেয়ে গত ৯ জুন ও ১৫ জুলাই ডিএসই নোটিস পাঠায় আনোয়ার গ্যালভানাইজিং কর্তৃপক্ষকে। দুটি নোটিসের জবাবেই কোম্পানিটি জানায় যে, অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধিতে মূল্য সংবেদনশীল কোনো তথ্য নেই। এমন জবাব পাঠানোর এক মাস পর গতকাল আনোয়ার গ্যালভানাইজিংয়ের ব্যবসা সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়েছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।
মূল্য সংবেদনশীল তথ্য না থাকার পরও চার মাসে ২৫০ শতাংশ শেয়ারের দরবৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে।
গতকাল ডিএসইকে আনোয়ার গ্যালভানাইজিং জানায়, বছরে ২ হাজার ৪১৭ টন পণ্য উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য একটি পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ। এ জন্য কোম্পানি ২৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকা বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কোম্পানিটির নিজস্ব তহবিল ও ধার করা অর্থে সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। ২০২২ সালের চতুর্থ প্রান্তিক থেকে সম্প্রসারিত প্রকল্পটি চালু করা হবে। সম্প্রসারণের কাজ সম্পন্ন হলে কোম্পানিটির উৎপাদন ক্ষমতা বছরে ৪ হাজার ৭২৫ টনে দাঁড়াবে। ফলে বাজার হিস্যা ২৫ থেকে ৫২ শতাংশে উন্নীত হবে।
অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধিতে আনোয়ার গ্রুপের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। গত চার মাসে আনোয়ার গ্যালভানাইজিংয়ের যত শেয়ার লেনদেন হয়েছে, তার বড় অংশই ইনসাইডার অর্থাৎ আনোয়ার গ্রুপের প্রতিষ্ঠান বিডি ফাইন্যান্সের সাবসিডিয়ারি বিডি ফাইন্যান্স সিকিউরিটিজ থেকে। আনোয়ার গ্যালভানাইজিংয়ের বিডি ফাইন্যান্স সিকিউরিটিজ নিজ নামে কেনার পাশাপাশি বিডি ফাইন্যান্স ক্যাপিটাল হোল্ডিংসের বিপুল পরিমাণের শেয়ার কেনা হয়েছে।
এ বাইরে ব্যক্তিশ্রেণির একাধিক কারসাজিকারক একই ব্রোকারেজ হাউজ থেকে বিপুল পরিমাণের আনোয়ার গ্যালভানাইজিংয়ের শেয়ার লেনদেন করেছে। এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান নিজেদের মধ্যে লেনদেনের মাধ্যমে সিরিজ অব ট্রানজেকশনসহ বিভিন্ন সিকিউরিটিজ আইন ভঙ্গ করেছে।
