দেশে গত ১ আগস্ট থেকে করোনার সংক্রমণের হার কমতে শুরু করে। এর আগের দিন ৩১ জুলাই পরীক্ষা অনুপাতে রোগী শনাক্তের হার ছিল ৩০ দশমিক ২৪ শতাংশ। পরদিন তা কিছুটা কমে দাঁড়ায় ২৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ। এরপর থেকেই দৈনিক শনাক্ত হার কমতে থাকে। সর্বশেষ ১৮ দিন পর গত ২৪ ঘণ্টায় এই হার আরও কমে ১৯ দশমিক ১৮ শতাংশে নেমে আসে। অর্থাৎ গত ১৮ দিনে সংক্রমণের হার ১০ শতাংশ কমেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১৯৮ জন, যা এর আগের ২৪ ঘণ্টায় ছিল ১৭৪ জন। গত পাঁচ দিন ধরে টানা মৃত্যুর সংখ্যা দুইশোর নিচে। সর্বশেষ গত ১২ আগস্ট দুইশোর ওপরে অর্থাৎ ২১৫ জনের মৃত্যু হয়। এরপর গতকাল পর্যন্ত মৃত্যু দুইশোর নিচে ছিল। এ নিয়ে দেশে করোনায় মোট মারা গেলেন ২৪ হাজার ৫৪৭ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় তার আগের দিনের তুলনায় রোগী শনাক্তের সংখ্যাও বেড়েছে। গতকাল নতুন করে শনাক্ত হয়েছে ৭ হাজার ৫৩৫ জন, যা এর আগের ২৪ ঘণ্টায় ছিল ৬ হাজার ৯৫৯ জন। এ নিয়ে দেশে মোট শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১৪ লাখ ৩৩ হাজার ৩৯৬ জনে।
অবশ্য গত চার দিনের তুলনায় গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা নমুনা পরীক্ষার সংখ্যাও কিছুটা বেড়েছে। গতকাল নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৩৯ হাজার ২৭৮টি। এর আগে গত ১৪ আগস্ট নমুনা পরীক্ষা হয় ৩৩ হাজার ৩৩০টি, ১৫ আগস্ট ৩৩ হাজার ১টি ও ১৬ আগস্ট ৩৩ হাজার ১৫টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা হলো ৮৪ লাখ ৮০ হাজার ৮১৪টি।
অধিদপ্তর জানায়, ঢাকা মহানগরসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ও বাড়িতে উপসর্গবিহীন রোগীসহ গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ১২ হাজার ৯৫০ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ১৩ লাখ ১৪ হাজার ৯১৬ জন।
মৃত ১৯৮ জনের মধ্যে পুরুষ ১১৬ ও ৮২ জন নারী। এদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে রয়েছে ৭২, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫২, রাজশাহী বিভাগে ৯, খুলনা বিভাগে ২৬, বরিশাল বিভাগে ৭, সিলেট বিভাগে ১৮, রংপুর বিভাগে ৬ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ৮ জন। এদের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে মারা গেছেন ১৫১, বেসরকারি হাসপাতালে ৪১ এবং বাড়িতে ৩ জন মারা যান। এছাড়াও আরও তিনজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়।
মৃতদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ১, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ৯, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১১, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ১৯, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৪১, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ৬৯, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ৩৪, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে ১২ ও ৯১ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে ২ জন রয়েছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে এসেছেন ১ হাজার ৭১৭ ও আইসোলেশন থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৪ হাজার ৯১৬ জন। এ পর্যন্ত আইসোলেশনে এসেছেন ৩ লাখ ৪৬ হাজার ২৪৪ জন। আইসোলেশন থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ২ লাখ ৭০ হাজার ৫৬৪ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ৭৫ হাজার ৬৮০ জন।
