২০২০ টোকিও অলিম্পিকে সাত নারী অংশ নিয়েছিলেন যারা শুধু খেলোয়াড় নন, পেশাগত দিক থেকে বিজ্ঞানীও। তাদের সবার ঝুলিতে পদক না এলেও খেলায় তারা সবাই ছিলেন স্বতঃস্ফূর্ত। এই সাত নারীকে নিয়ে লিখেছেন আরফাতুন নাবিলা
আনা কিসেনহোফের
অলিম্পিক ২০২০-এ বেশ কয়েকটি ভিন্ন ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে উলেখযোগ্য একটি ঘটনা সাইক্লিং রোড রেসে অস্ট্রিয়ার আনা কিসেনহোফের স্বর্ণ জেতা। এই পর্বে সবচেয়ে ফেভারিট ছিলেন নেদারল্যান্ডসের তিন বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন অ্যানেমিক ফন ভিøউটেন। কিন্তু সময়ের হিসাব-নিকাশে কিছুটা গরমিল হওয়ায় এই গণিতবিদের কাছে হারতে হয় ভিøউটেনকে। মাউন্ট ফুজি ইন্টারন্যাশনাল স্পিডওয়ের ওপর দিয়ে তিনি এগিয়ে যাওয়ার সময়ও প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে ছিল ফিনিশিং লাইন। ৭৫ সেকেন্ড সময়ের ব্যবধানে এই ইভেন্টের হট ফেবারিটকে পেছনে ফেলেন কিসেনহোফের। অলিম্পিকে স্বর্ণ জিতলেও এই ইভেন্টের জন্য তার কোনো কোচ ছিল না, অনুশীলন করেননি কোনো পেশাদার দলের সঙ্গে। পদক তার হাতে আসবে, এমনটি কেউ ভাবেননি। তবু অলিম্পিক অভিষেকে সাইক্লিং ইভেন্টে গত ১২৫ বছরের মধ্যে তিনি প্রথম স্বর্ণ এনে দিয়েছেন অস্ট্রিয়াকে। তার কোনো দলও ছিল না। ১৮৯৬ এথেন্স অলিম্পিকে সাইক্লিংয়ে অস্ট্রিয়ার হয়ে সর্বশেষ স্বর্ণ জিতেছিলেন অ্যাডল শ্যামার।
কিসেনহোফের ঠিক কতটা পথ এগিয়ে ছিলেন, ভিøউটেন এবং তার বাকি সতীর্থরা বুঝতে পারেননি। অন্যদিকে কিসেনহোফেরের হিসাব ছিল সোজাসাপ্টা, ‘এসব হিসাব-নিকাশের জন্য উচ্চতর গণিতের কোনো প্রয়োজন নেই। মনে ইচ্ছা থাকা জরুরি। এই রেস নিয়ে আমি শুধু ভেবেছি কখন কোথায় কতটা পথ এগোতে হবে, কতটুকু খাবার নিতে হবে। শেষ পর্যন্ত সবার আগে রেস শেষ করতে পেরে ভালো লাগছে।’
অস্ট্রিয়ান সাইক্লিংয়ে কিসেনহোফের টাইম ট্রায়াল চ্যাম্পিয়ন। খেলেছেন ট্রায়াথলনও। কিন্তু অলিম্পিক অভিষেকে এই প্রতিযোগিতায় তাকে কেউ ফেভারিটের চোখে দেখেনি। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের পর কাতালোনিয়া পলিটেকনিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবহারিক গণিতে পিএইচডি করেন কিসেনহোফের।
রেস পরিকল্পনা, পুষ্টির জোগান কেমন ও কতটুকু হবে এসব কিসেনহোফের নিজেই ঠিক করেন। এই প্রেরণার পুরোটাই পেয়েছেন গণিত থেকে। তিনি বলেন, ‘গণিতবিদদের কিন্তু একাই সমস্যার সমাধান করতে হয়। সাইক্লিংয়েও এটি প্রয়োগ করেছি। অনেকে এসব কাজের জন্য লোক নিয়োগ করলেও আমি তা করিনি। একটু আলাদা হয়ে থাকতেই ভালো লাগে আমার।’
হাদিয়া হুসনি
ব্যাডমিন্টনে হাদিয়া হুসনির চমৎকার একটি ক্যারিয়ার আছে। সেই ক্যারিয়ারের জন্যই হোক অথবা খেলার প্রতি ভালোবাসা অলিম্পিক ২০২০-এ ব্যাডমিন্টনে অংশ নিয়েছিলেন হুসনি। এ নিয়ে তিনবার অলিম্পিকে খেললেন তিনি। ৩২ বছর বয়সী মিসরীয় হুসনি শুধু একজন অ্যাথলেটই নন, মিসরের স্পোর্ট অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির একজন সংসদ সদস্যও। খেলাধুলার সঙ্গে জড়িত হুসনি বর্তমানে কায়রো ইউনিভার্সিটির ফার্মাকোলজিতে পিএইচডি করছেন। ২০২২ সাল নাগাদ শেষ হবে তার এই উচ্চশিক্ষা। একইসঙ্গে কর্মরত আছেন মিসরের ব্রিটিশ ইউনিভার্সিটির ফার্মাসি বিভাগে। আমেরিকার বাথ ইউনিভার্সিটি থেকে বায়োলজিক্যাল সায়েন্সে মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করেছিলেন হুসনি। ২০১০ সালের আফ্রিকান চ্যাম্পিয়নশিপে উইমেন’স সিংগেলস টাইটেল এবং ২০১৯ সালে আফ্রিকান গেমসের উইমেন’স ডাবলসে স্বর্ণপদক জিতেছিলেন তিনি।
মিসরীয় এই অ্যাথলেট বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমি অনেক কিছু করেছি। তবে কোনো কাজ করে শেষ পর্যন্ত তাতে জয় পেতেই সবচেয়ে ভালো লাগে আমার। যে কোনো কাজে আমি আমার পুরোটা দিই। আমি তেমন প্রতিভাবান নই, তবে আমি পরিশ্রম করতে ভালোবাসি। ফার্মাকোলজি হোক অথবা ব্যাডমিন্টন, পার্লামেন্টের একজন সদস্য হই অথবা শিশুদের কোচ সব জায়গাতেই আমি আমার পুরোটা দিয়ে করি। আমি কোনো স্বপ্নকে অধরা রাখতে চাই না। ২০০৮ সালের বেইজিং আমার জন্য খুবই উত্তেজনাময় ছিল। অলিম্পিক গেমসের মাত্র দশ দিন আগে আমাকে বাছাই করা হয়েছিল। এরপর অংশ নিয়েছিলাম ২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিকসে। তবে এবারের অংশগ্রহণ ছিল অন্য রকম আনন্দের। কারণ এবার আমি একই সঙ্গে মিসরের অ্যাথলেট এবং সংসদ সদস্য হয়ে খেলেছি। একইসঙ্গে তরুণদের নিজের খেলা দিয়ে মুগ্ধ করা এবং তাদের স্বপ্নপূরণে এগিয়ে আসা আমার জন্য সত্যিই গর্বের।’
শার্লট হিম
শার্লট হিম একজন ফ্রেঞ্চ স্ট্রিট স্কেট বোর্ডার এবং প্যারিসের নিউরোসায়েন্টিস্ট। হিম জন্ম নিয়েছেন প্যারিসে। বড় হয়েছেন বুলভার্ড রিচার্ড লিনোইরে। রাস্তায় অনেক মানুষকে স্কেট করতে দেখে বারো বছর বয়সে তারও ইচ্ছা হয় স্কেট করার। শার্লট বলেন, ‘বারো বছর বয়সে জন্মদিনে বাবা-মায়ের কাছে স্কেটবোর্ড চেয়েছিলাম। কারণ প্রতিবেশীদের প্রায় সবাইকেই রাস্তায় স্কেট করতে দেখতাম। দারুণ লাগত দেখতে। তাই আমিও চেয়েছিলাম ওরকম কিছু করতে। ভেবেছিলাম যে বন্ধুরা ইতিমধ্যে স্কেট করে ফেলেছে তাদের কাছ থেকে শিখতেও পারব।’
স্পেনের বার্সেলোনায় ২০২০ সালে ইমাজিন এক্সট্রিম ইভেন্টে মোস্ট ভ্যালুয়েবল ট্রিকস অ্যাওয়ার্ডও জিতেছেন শার্লট। অলিম্পিকে স্কেটবোর্ড চালু হওয়া মানে নতুন একদল দর্শকের আগ্রহ তৈরি হওয়া বলে মানেন শার্লট। তিনি বলেন, ‘অলিম্পিকের কারণে স্কেটবোর্ডিংয়ে অন্যদেরও নজর পড়বে। প্রধান চ্যানেলগুলোতে সরাসরি প্রচারণার কারণে তরুণদের মধ্যেও উৎসাহ বাড়বে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পুরুষদের মতো অনেক নারীও অপেক্ষা করছেন নিজেদের প্রমাণ করার জন্য। ফ্রান্সের অনেক শহরে স্কেটবোর্ড খেলা নিষিদ্ধ ছিল। ২০১৬ সালে অলিম্পিকে যুক্ত হওয়ার পর থেকে অনেক মানুষকে উৎসাহী করেছে এর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য। আমি নিজেই সরাসরি আগ্রহী হয়েছি।’
অলিম্পিকে অংশ নেওয়া শার্লট শুধু একজন অ্যাথলেটই নন। লেখাপড়াতেও তিনি বেশ তুখোড়। ২০১৩ সালে প্যারিস ইউনিভার্সিটি থেকে স্পোর্টস সায়েন্সে ব্যাচেলর ডিগ্রি এবং ২০১৫ সালে মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন। ২০১৯ সালে নিউরোসায়েন্স ও সাইকোলজিতে ডক্টরাল ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন। শার্লট বলেন, ‘আমার ডক্টরাল রিসার্চ ছিল নতুন মা ও শিশুদের নিয়ে। মা ও শিশুর আত্মিক বন্ধন নিয়ে গবেষণা করেছি আমরা। এ নিয়ে দারুণ কিছু তথ্য জেনেছি। চার বছর পড়ালেখা শেষে এবং থিসিসের কাজ শেষ করে এখন সম্পূর্ণভাবে নিজেকে স্কেটবোর্ডিংয়ে নিয়োজিত করেছি। যেহেতু এই বিষয়ে আমার আগ্রহ আছে, কাজেই আমি হয়তো পরে এ সম্পর্কিত কোনো চাকরিতেও ঢুকতে পারি। কারণ শুধু স্কেটবোর্ডিং করেও আমার জীবন চলবে না। আমার স্পন্সররা শুধু জিনিসগুলো দেয়, কোনো অর্থ প্রদান করে না।’
গ্যাবি থমাস
আমেরিকার ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড অ্যাথলেট গ্যাবি থমাস। ২০২০ সালের অলিম্পিকে দুটি পদক পেয়েছেন তিনি। বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ গতিসম্পন্ন নারী গ্যাবি। এর আগে আর কোনো হার্ভার্ড স্নাতক এমন নজির গড়তে পারেননি। ১৮৯৬ সালে ট্রিপল জাম্পে একজন হার্ভার্ড ছাত্র স্বর্ণ জিতলেও হার্ভার্ডের স্নাতক ডিগ্রি তার ছিল না। চলতি অলিম্পিকে ২০০ মিটার দৌড়ে ব্রোঞ্জ পেয়েছেন গ্যাবি। তবে এই অর্জন সহজ ছিল না মোটেও। অলিম্পিকের দৌড়ে বারবার বাধার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে।
১৯৯৬ সালে জর্জিয়ার আটলান্টায় জন্ম গ্যাবির। তার পুরো নাম গ্যাব্রিয়েল টমাস। আমেরিকার ম্যাসাচুসেটসের স্কুলে পড়ার সময় সকার ও সফটবল খেলতেন গ্যাবি। কিন্তু মেয়েকে অ্যাথলেট হওয়ার জন্য জোর করেন মা। তারপরই ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে অনুশীলন শুরু হয় তার। দুরন্ত গতির জন্য হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্যাবি খুবই জনপ্রিয় ছিলেন। মাঠের পাশাপাশি ক্লাসেও তিনি ছিলেন প্রথম সারির পড়–য়া। স্নাতকে স্নায়ুবিদ্যা ও বিশ্ব স্বাস্থ্য নিয়ে পড়াশোনা করেন। স্নায়ুবিদ্যা বেছে নেওয়ার পেছনে ব্যক্তিগত একটি কারণ ছিল। গ্যাবির যমজ ভাই অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাকটিভিটি ডিসঅর্ডার (এডিএইচডি) নামে এক রোগে এবং ছোটভাই অটিজমে আক্রান্ত। হার্ভার্ড থেকে পাস করে বের হওয়ার পর টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এপিডেমিওলজি নিয়ে স্নাতকোত্তর করছেন গ্যাবি। পাশাপাশি চালিয়ে যাচ্ছিলেন টোকিও অলিম্পিকের জন্য প্রস্তুতি। অলিম্পিক প্রস্তুতিপর্বে ভালো খেলতে পারছিলেন না গ্যাবি। পর পর দু’বছর খুব খারাপ ফল ছিল তার। যার জেরে ২০২০ সালে তাকে কোচ টনজা বুফর্ড বহিষ্কারও করে দিয়েছিলেন। হাল ছাড়েননি গ্যাবি। কঠোর পরিশ্রম করে নিজেকে অলিম্পিকের যোগ্য করে তুলেছিলেন। সব প্রস্তুতি যখন শেষ, ঠিক সে সময়েই গ্যাবির শরীরে একটি বড় রোগ ধরা পড়ে। ২০২১ সালে এমআরআই-এ দেখা যায় তার যকৃতে একটি টিউমার হয়েছে। গ্যাবির অলিম্পিক যাত্রা ফের অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। টিউমারে ক্যানসারের জীবাণু না থাকলে দেশের নাম উজ্জ্বল করবেন, নিজের কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছিলেন গ্যাবি। বায়োপসি করে ক্যানসার জীবাণু মেলেনি টিউমারে। দেশকে দুটো পদক এনে দিয়ে নিজেকে করা প্রতিজ্ঞা পূরণ করেছেন গ্যাবি।
লুইস শানাহান
লুইস শানাহান প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ২০২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিকের জন্য। অপ্রত্যাশিতভাবে এবার টোকিও অলিম্পিকে ৮০০ মিটার দৌড়ে অংশ নিয়েছেন এই অ্যাথলেট। ২৪ বছর বয়সী ত্রিনিতি কলেজের এই শিক্ষার্থী নির্বাচিত হয়েছিলেন আয়ারল্যান্ডের হয়ে খেলার জন্য। শানাহান বলেন, ‘আমি প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম ২০২৪ সালের জন্য। এজন্য অভ্যন্তরীণ খেলাগুলোতেই অংশ নিচ্ছিলাম। কিন্তু টোকিও কার্ড নিশ্চিত হয়ে গেলে আমি সত্যিই খুব অবাক হয়েছিলাম। বিষয়টি আরও আশ্চর্যের ছিল কারণ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বেশ কয়েকটি নিয়ম মানতে হয়েছে এবারের অলিম্পিকে।’
সুপারভাইজারের পরামর্শে যুক্তরাজ্য থেকে প্রাগ, জেনেভা ও আয়ারল্যান্ডে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য গিয়েছিলেন শানাহান। সুইজারল্যান্ড থেকে কেমব্রিজে ফেরার সময় বিমানে বসে জানতে পারেন তাকে নির্বাচন করা হয়েছে। সে সময় তার কাছে প্রচুর ফোন আসতে থাকে। শানাহান বলেন, ‘আমার কাছে প্রচুর ফোন আর মেসেজ আসতে থাকে। প্রথমে আমার বিশ্বাস হয়নি। যখন সব মেসেজে আমি নির্বাচিত হয়েছি বলা হচ্ছিল তখন বুঝতে পারি সত্যিই জীবনে নতুন ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে।’
আয়ারল্যান্ডের কর্ক ইউনিভার্সিটি থেকে কোয়ান্টাম ফিজিক্সে গ্রাজুয়েশন করে বর্তমানে ইংল্যান্ডের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করছেন। তার গবেষণার বিষয় ন্যানো-ডায়মন্ড ব্যবহার করে মানব শরীরের তাপমাত্রা পরিমাপ করে দেখা হয় কীভাবে ক্যানসারের চিকিৎসায় রেডিয়েশন কমানো যায়।
নাদিন অ্যাপেজ
২১ বছর বয়সে শিক্ষার্থী থাকাকালে শুধু আগ্রহ থেকে বক্সিং জিমে যোগ দিয়েছিলেন নাদিন অ্যাপেজ। অল্প দিনেই বক্সিং তার নেশা হয়ে যায়। ৩৫ বছর বয়সী জার্মান এই অ্যাথলেট বলেন, ‘অন্য যে কোনো কিছুর চেয়ে বক্সিং প্রচুর ভালো লাগতে শুরু করে। এরপর একটি ক্লাবে যুক্ত হই। কিন্তু কখনো বুঝিনি যে অলিম্পিকে খেলতে পারব।’
২০০৭ সালে নাদিন যখন উইমেন’স বক্সিং শুরু করেন তখন জার্মানিতে এটি একদম নতুন নতুন খেলা ছিল। ২০১২ সালে লন্ডন অলিম্পিকে যখন প্রথমবার এই খেলা যুক্ত হয় তখন স্বাভাবিকভাবেই জার্মানি থেকে কারও জয়ের কোনো আশা ছিল না। এতদিনে অবশ্য অনেকেই আগ্রহী হয়েছেন অলিম্পিকে খেলার জন্য। তার মধ্যে নাদিন একজন। তিনি বলেন, ‘আমি শুধু চিন্তামুক্ত থেকে খেলতে চেয়েছি। যে সুবিধাই পেয়েছি, ভেবেছি সেটাকেই কাজে লাগানোর জন্য।’ ২০২০ টোকিও অলিম্পিকে অংশ নিতে পেরে ভীষণ খুশি নাদিন। তার মতে, আভ্যন্তরীণ যত ক্লাবেই খেলা হোক না কেন, অলিম্পিকের নেশা অন্য রকম। জার্মানি থেকে অলিম্পিক বক্সিংয়ে অংশ নেওয়া তিনিই প্রথম নারী।
বক্সিংয়ে নাদিন যেমন পারদর্শী, তেমনই লেখাপড়াতেও অনেকটা এগিয়ে। ২০১১ সালে জার্মানির ব্রিমেন ইউনিভার্সিটি থেকে নিউরোসায়েন্সে মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন। ২০১৬ সালে কলোগনির ইউনিভার্সিটি হসপিটালে ডক্টরেট শুরু করেছেন। তার গবেষণার বিষয় পারকিনসন্স রোগ ও মস্তিষ্কের গভীরে উদ্দীপনা। এতে তিনি গবেষণা করছেন এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মস্তিষ্কের ঝাপসা হয়ে যাওয়া নির্দিষ্ট একটি জায়গায় বিদ্যুৎ প্রয়োগ করে স্মৃতি ফিরিয়ে আনা যায় কি না তা নিয়ে।
আন্দ্রিয়া মুরেজ
আন্দ্রিয়া মুরেজ একজন ইসরায়েলি-আমেরিকান অলিম্পিক সাঁতারু। ২০১৬ সালেও সামার অলিম্পিকসে ইসরায়েলের হয়ে খেলেছেন তিনি। ২০২০ অলিম্পিকেও অংশ নিয়েছেন একই দেশ থেকে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় অস্ট্রিয়ায় সাঁতারু ছিলেন আন্দ্রিয়ার দাদা জো মুরেজ। তার কাছ থেকেই আন্দ্রিয়ার সাঁতারের হাতেখড়ি। জো মুরেজ অস্ট্রিয়া থেকে আমেরিকায় চলে আসেন ১৯৩৮ সালে। আন্দ্রিয়ার জন্ম আমেরিকাতেই। ইসরায়েলের জাতীয়তা পেয়েছিলেন ম্যাকাবি খেলার সূত্রে। অলিম্পিকে খেললেও ১২ বছর বয়স পর্যন্ত সাঁতার একদম পছন্দ করতেন না আন্দ্রিয়া। তিনি বলেন, ‘আমি একদম সাঁতার পছন্দ করতাম না। সাঁতার শেখার জন্য তিন চার ঘণ্টা পানিতে থাকতে হতো। তখন থেকে পানি ভীষণ অপছন্দ করতাম। পানিতে নামালেই আমি চিৎকার করতাম যেন বাবা-মা আমাকে পানি থেকে উঠিয়ে নেন।’ পানি অপছন্দ করা আন্দ্রিয়া ২০২০ টোকিও অলিম্পিকে অংশ নিয়েছেন ৫০, ১০০, ২০০ মিটার ফ্রি স্টাইল সাঁতারে।
হাই স্কুল শেষে আন্দ্রিয়া স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে জীববিজ্ঞানে মেজর করে এখানেই কাজ করছেন। সঙ্গে নিয়মিত সাঁতার কেটেছেন। ২০১৩ সালে প্রফেশনালি সাঁতার দলে যুক্ত হন।
