বিআইডিএসের আলোচনা সভায় পরিকল্পনামন্ত্রী

বাংলাদেশের উন্নয়ন মডেল বৈষম্য বাড়াচ্ছে

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২১, ০৪:৩২ এএম

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, বাংলাদেশ উন্নয়নের যে মডেল অনুসরণ করছে তাতে অর্থনৈতিক বৈষম্য বাড়ছে। বৈষয়িক বাস্তবতার আলোকে বাংলাদেশ যে উন্নয়নের মহাসড়কে চলছে, সংগত কারণে এতে বৈষম্য বাড়ছে। তবে, বাস্তব বিবেচনায় এটা অনুসরণ না করার কোনো বিকল্প নেই।

গতকাল বুধবার বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) আয়োজিত স্মরণসভায় এসব কথা বলেন বক্তারা। ‘বঙ্গবন্ধুর কাছ থেকে দেখা : রিমেমবারেন্স বাই হিজ কনটেমপোরারিজ’ শীর্ষক স্মরণসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. বিনায়ক সেনের সঞ্চালনায় ওয়েবিনার স্মরণসভায় বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে নানান সময়ে দায়িত্বপালনকারী বিশেষজ্ঞরা আলোচনা করেন।

এম এ মান্নান বলেন, ‘মনে হয় না উই আর রং বাট উই আর ট্র্যাপড ইন দ্যাট স্পিড,  যেখানে ইনিশিয়ালি বৈষম্য বাড়ার কথা। বৈষম্য খুব সহসা কমবে, এমন সম্ভাবনা কম।’

পরিকল্পনা কমিশনের প্রথম ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নুরুল ইসলাম যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভিডিও বার্তায় বলেন, বাংলাদেশকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল সুদূরপ্রসারী। তিনি বাংলাদেশকে সুইজারল্যান্ড বানানোর স্বপ্ন দেখতেন। ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের বিষয়ে তিনি বলেন, খাদ্য সরবরাহ করতে পারিনি এটিই আমাদের ব্যর্থতা। এই দুর্ভিক্ষের আগে মজুদদারদের খাদ্য সরবরাহ বাড়ানোর কোনো নির্দেশনা দেওয়া যায় কি না এমন পরামর্শ দেন তিনি।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর দর্শন ছিল শোষণমুক্ত সমাজ গড়ার। যেখানে পিছিয়ে পড়া বিশেষ করে শ্রমিক, কৃষক, দরিদ্র মানুষদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারবে। বঙ্গবন্ধু কমিউনিস্ট ছিলেন না তবে তিনি সমতায় বিশ্বাস করতেন। সমাজতন্ত্রে বিশ্বাস করতেন।

ড. বিনায়ক সেন বলেন, বঙ্গবন্ধুর সমাজতান্ত্রিক দর্শনে জমিদারি বা সামন্তবাদী প্রথা ছিল না। সাধারণ পুঁজিবাদে বিশ্বাস করলেও একচেটিয়া পুঁজিবাদ পছন্দ করতেন না। তার আদর্শ ছিল সব মৌলিক প্রয়োজন মেটানো এবং বৈষম্য কমিয়ে আনা। আর শ্রমিক কৃষক ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর মধ্যে যে শোষণ সেটা কমিয়ে আনা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. এম ফরাসউদ্দীন বলেন, ১৫ আগস্টের আগ পর্যন্ত ১৫ দিনের তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী সবচেয়ে বেশি দেখা করেছেন। ১৪ তারিখে একটি চিঠিও পেয়েছিলেন। সেই চিঠি তৎকালীন প্রেস সেক্রেটারি তোয়াব খানকে দেখিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, পাকিস্তানি মেজর জেনারেলরা তার ক্ষতি করতে পারেনি। আর দেশের এই পুঁচকেরা কিছুই করতে পারবে না। দেশের প্রথম ডিমনিটাইজেশন প্রক্রিয়ার স্মৃতিচারণ করেন তিনি। রাজনৈতিক বৈরী আছে এমন রাজনীতিবিদদের সন্তানদের প্রতি খুব খেয়াল রাখতেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন।

গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেন, আমাদের উপলব্ধি করতে হবে দেশ স্বাধীন হওয়ার ৫০ বছর পরেও কেন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন হয়নি। সমাজে বৈষম্য বাড়ছে। আর না বাড়লেও বৈষম্য কিন্তু কমছে না। দীর্ঘদিনের শোষণ বঞ্চনা থেকে মুক্তি পেতে, নিজেদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যেই আমরা স্বাধীন হয়েছি। স্বাধীনতার ৫০ বছর পরে কোথায় কোথায় আমাদের ঘাটতি আছে সেটা আমাদের খুঁজে বের করতে হবে।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেন, বঙ্গবন্ধু দুটি লক্ষ্য নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিলেন। সেটা হলো- দেশ স্বাধীনের মাধ্যমে রাজনৈতিক মুক্তি এবং অর্থনৈতিক মুক্তি। ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে তিনি মুক্তির কথা বলেছিলেন। এরপর বঙ্গবন্ধু যখন দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন তখন তাকে হত্যা করা হয়েছে।

এম সাইদুজ্জামান বলেন, বঙ্গবন্ধুর অবদান বাংলা ভাষা আন্দোলনেও ছিল। সাহায্য প্রদানকারী দেশগুলোর নিয়ে তিনি একটি আলাদা গ্রুপ করার পরামর্শ দেন। বঙ্গবন্ধুকে বিদেশি সাংবাদিকরা জিজ্ঞেস করেছিলেনÑ আপনার একমাত্র প্রায়োরোটি এজেন্ডা কী হবে। তিনি বলেছিলেন, আমার প্রায়োরোটি এরিয়া খাদ্য উৎপাদন ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত