টাকা নিয়ে পণ্য না দেওয়ার প্রতারণা মামলায় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জের সোনিয়া মেহজাবিন ও তার স্বামী মাসুকুর রহমানসহ পাঁচজনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত। গতকাল বুধবার অর্থ আত্মসাতের মামলায় তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর হাকিম রাজেশ চৌধুরী ওই পাঁচজনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া অন্য তিনজন হলেন আমানউল্লাহ, বীথি আক্তার ও কাউসার আহমেদ।
এদিকে ই-অরেঞ্জের চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) আমানউল্লাহকে গতকাল রাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এক লাখ গ্রাহকের ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গত মঙ্গলবার ই-অরেঞ্জের বিরুদ্ধে রাজধানীর গুলশান থানায় মামলা হয়। মামলা নথিভুক্তের পর সেদিনই ই-অরেঞ্জের দুই মালিক সোনিয়া মেহজাবিন ও তার স্বামী মাসুকুর রহমান আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।
মামলার বাদী তাহেরুল ইসলামের অভিযোগ, গত ২৮ এপ্রিলের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে পণ্য কেনার জন্য ই-অরেঞ্জকে টাকা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের পরও প্রতিষ্ঠানটি পণ্য সরবরাহ করেনি। ভুক্তভোগীরা ই-অরেঞ্জের অফিসে গিয়ে পণ্য সরবরাহ করার কথা বললে অফিসে থাকা কর্মকর্তারা ও মালিকপক্ষ জানান পণ্যগুলো কিছুদিনের মধ্যে সরবরাহ করা হবে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি পণ্য সরবরাহ না করে প্রায় এক লাখ গ্রাহকের ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে।
সিওও আমানউল্লাহ গ্রেপ্তার : মামলার এক দিন পর ই-অরেঞ্জের চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) আমানউল্লাহকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে পুলিশের একটি দল গতকাল রাতে তাকে আটক করে বলে গুলশান থানার ওসি আবুল হাসান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। ভুক্তভোগী তাহেরুল ইসলামের করা মামলায় আমানউল্লাহ তিন নম্বর আসামি।
বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া পাঁচজনের মধ্যে সোনিয়া ও মাসুকুর কারাগারে আছেন। গতকাল গ্রেপ্তার হলেন আমানউল্লাহ। পলাতক বীথি আক্তার ও কাউসার।
অর্ডার করা পণ্য পেতে গত সোমবার রাজধানীর গুলশান-১ নম্বরে সড়ক অবরোধ করেন ই-অরেঞ্জের গ্রাহকরা। এই প্রতিষ্ঠানের শুভেচ্ছা দূত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও সংসদ সদস্য মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। তবে মাশরাফী এ বিষয়ে তার অবস্থান স্পষ্ট করে গণমাধ্যমে বক্তব্য দিয়ে জানিয়েছেন, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জের শুভেচ্ছাদূত ছিলেন তিনি। তবে তার মেয়াদ ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। তারপরও প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ ওঠার পর তিনি এর গ্রাহকদের মামলায় সহায়তা করেছেন।
