বরিশালে ইউএনওর বাসভবনে মেয়রের কর্মীদের হামলা

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২১, ০২:৪৩ এএম

বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বাসভবনের সামনে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে পুলিশ ও আনসার সদস্যসহ আওয়ামী লীগের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা দাবি করেছেন, সংঘর্ষের সময় বরিশাল সিটি কপোরেশনের (বিসিসি) মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তবে মেয়র জানিয়েছেন, তিনি গুলিবিদ্ধ হননি। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের টানানো ব্যানার সরানোকে কেন্দ্র করে গত বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা বরিশাল মহাসড়কের থানা কাউন্সিল এলাকায় বরিশাল সদর উপজেলা কম্পাউন্ডে ওই সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ ও ইউএনওর পক্ষ থেকে করা দুটি মামলার একটিতে বিসিসি মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে আসামি করা হয়েছে।

এদিকে ইউএনওর সরকারি বাসভবনে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত শেষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। আর ওই হামলার ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

জানা গেছে, গত বুধবার রাতে বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদ কম্পাউন্ডে ব্যানার সরাতে যায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসায় দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা তাদের সকালে আসতে বলে। এরপরও তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসার দিকে অগ্রসর হতে চাইলে উপস্থিত আনসার সদস্যরা তাদের বাধা দেন। এতে সেখানে হট্টগোল শুরু হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছোড়ে। একই সঙ্গে দফায় দফায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় নিরাপত্তার স্বার্থে ইউএনওর বাসার আনসার সদস্যরা ফাঁকা গুলি ছোড়েন। 

এদিকে মেয়রের ওপর হামলার খবর পেয়ে ছাত্রলীগ ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা থানা কাউন্সিলের প্রধান ফটকে এসে জড়ো হন। পরে তারা বিক্ষুব্ধ হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এসময় পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে বিক্ষুব্ধরা বরিশাল পুটয়াখালী মহসড়কে অবস্থান নিলে সেখান থেকেও তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়। এসময় পুলিশের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ৩৫ জন আহত হয়।

আহতরা হলেন, বিসিসির প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস, বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া, ২৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. মনির, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার বাবু, বিসিসির প্যালেন মেয়র রফিকুল ইসলাম খোকন, হারুন, শাওন সিকদার, রাজু, জাহিদুল, রোমান, রায়হান, আরমান, সুমন খান ও মান্না।

সংঘর্ষে আহত হয়েছেন আবু বকর ও শরিফুল নামে দুই পুলিশ সদস্য। আরও আহত হয়েছেন ইউএনওর সরকারি বাসভবনে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য ফারুক হোসেন ও নাসির উদ্দিন নামে আরেকজন। তাদের সবাইকে পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সংঘর্ষের বিষয়ে বরিশাল সদর উপজেলার ইউএনও মুনীবুর রহমান বুধবার রাতে সাংবাদিকদের বলেন, ‘রাত সাড়ে ৯টার দিকে বেশ কয়েকজন লোক কম্পাউন্ডের মধ্যে প্রবেশ করে। সেখানে থাকা আনসার সদস্যরা তাদের ভেতরে আসার কারণ জানতে চায়। এসময় জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিব হোসেন গেটের ভেতরে ঢুকে ব্যানার খোলার কথা বলেন। আমি তাদের সকালে আসতে বলি। এসময় গেটে বেশ কয়েকজন লোক ছিল। পরে আমার বাসায় সামনে ৬০ থেকে ৭০ জন লোক দেখে দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা ভয়ে বাসার উপরে চলে আসে। এরমধ্যে আমার বাসার গেটে ভাঙচুর করে তারা। পরে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান মাহমুদ বাবু পরিচয়ে এক ব্যক্তি ভেতরে আসে। বিষয়টি দেখতে আমি নিচে নামলে তারা আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও একপর্যায়ে ঘিরে ধরে। আমি বুঝতে পেরে উপরে ওঠার চেষ্টা করি। এসময় আনসার সদস্যরা তাদের ছত্রভঙ্গ করতে ফাঁকা গুলি ছোড়ে। আর আমি নিজেই ওই হাসান মাহমুদ বাবুকে ধরে ফেলি, আর আনসার সদস্যদের হাতে তুলে দিই।’

তিনি আরও বলেন, ‘এমন একটি ভয়াবহ পরিস্থিতি হয়েছিল যে, আপনাদের বলে বোঝাতে পারব না। আমার বাবা-মা দুজনেই করোনা আক্রান্ত। ওরা তাদেরও গালিগালাজ করেছে। তারা আমার ওপর হামলা চালানোর জন্য বাসার নিচের রুম পর্যন্ত চলে আসে।’

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান বলেন, ‘একটি অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার সৃষ্টি হয়েছিল। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করে উত্তেজিতদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কত রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছে সে বিষয়ে পরে জানানো হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এই ঘটনায় হাসান মাহমুদ বাবুসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।’

বরিশালের জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার বলেন, ‘যারা অপরাধ করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগতভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাদের বিনয়ের সঙ্গে সকালে আসতে বলেছিলেন। এটি তারা তোয়াক্কা না করে অপমান করার চেষ্টা করেছেন। বিষয়টি আমাদের জানালে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যেত।’

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এনামুল হক বলেন, ‘উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা যেটুকু জানিয়েছেন, তার বাসভবন এলাকায় কিছু লোক ব্যানার খুলতে আসে। কিন্তু সংরক্ষিত এলাকা হওয়ায় রাতের বেলা এভাবে ব্যানার খুলতে নিষেধ করেন তিনি। সেসময় আগত লোকদের সঙ্গে বাগ-বিতণ্ডা হয় এবং তারা নির্বাহী কর্মকর্তার নিষেধ অমান্য করে বাসভবনে প্রবেশ করতে উদ্যত হন। এসময় নিরাপত্তার খাতিরে দায়িত্বরত আনসার বাহিনী গুলি ছোড়ে। পরে খবর পেয়ে পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। সেসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনের দিকে কিছু লোক এগিয়ে গেলে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়। এসময় একাধিক পুলিশ সদস্য আহত হয়। এছাড়া ইউএনও দাবি করেছেন তার বাসভবনে দায়িত্বরত কয়েকজন আনসার সদস্যও আহত হয়েছে।’

এ বিষয়ে বরিশাল সিটি কপোরেশনের মেয়র সেমরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ বলেন, ‘শহর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে আমি বিসিসি’র কর্মীদের বলেছি ছেড়া, শুভেচ্ছা পোস্টার, ব্যানার খুলে ফেলতে। তারই পরিপেক্ষিতে ওরা বরিশাল সদর উপজেলা কম্পাউন্ডে যায়। কিন্তু সদর উপজেলার ওই স্থানটিতো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসা না। তিনি নাকি ওদেরকে গালিগালাজও করেছে। পরে সিটি কপোরেশন ও আমার দলের সিনিয়র নেতাকর্মীরা সেখানে গেলে আনসার সদস্যরা তাদের উপর গুলি করে। আমি খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই এবং নিজে মেয়র পরিচয় দেওয়ার পরও আনসার সদস্যরা গুলি ছুড়তে থাকে। তবে আমি গুলিবৃদ্ধ হই নাই। আমার সাথে থাকা নেতাকর্মীরা আমাকে জড়িয়ে রাখে। পরে আমি সেখান থেকে চলে আসি। বাসায় এসে জানতে পারলাম আমার অনেক নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে আছে। এমনকি তাদেরকে নাকি আটকও করা হবে। এই ঘটনার একটি তদন্ত করে যে দোষি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’

এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় রাত ৯টা থেকে ঢাকা বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। উপজেলা পরিষদের সামনে সিএন্ডবি রোডে বিসিসি’র পরিচ্ছন্নতার কাজে ব্যবহৃত ময়লার গাড়ি সড়কে রেখে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি কতরা হয়। এমনকি ময়লা আবর্জনা এনে উপজেলা পরিষদের সামনে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়।

আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দুই মামলা, আটক ১২: বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনিবুর রহমানের সরকারি বাসভবনে হামলার ঘটনায় পুলিশ  ও ইউএনও বাদী হয়ে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় পৃথক দুটি মামলা করেছেন। বৃহস্পতিবার মামলা দুটি দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কোতয়ালী থানা পুলিশ।

মামলায় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগসহ অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের ৩০ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও শতাধিক নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার  করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তবে গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মহানগর আওয়ামী লীগের ১নং যুগ্ম আহবায়ক হাসান মাহমুদ বাবু’র ও রুপাতলী বাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আহম্মেদ শাহারিয়ার বাবু’র নাম জানাগেলেও বাকিদের নাম জানাযায়নি।

৭ ঘন্টা বন্ধ বাস ও লঞ্চ চলাচল : বরিশালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকবর্তার সরকারি বাসভবনে হামলা ও পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের পর বরিশাল থেকে বাস ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সকাল থেকে বাস ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকায় দূভোগে পড়ে কয়েক হাজার যাত্রী। পরে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বাস ও লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক হয়। এবিষয়ে বরিশাল মহানগর শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক ও রূপাতলি জেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি পরিমল চন্দ্র দাস জানান, বুধবার রাতে সদর উপজেলা পরিষদ এলাকায় অবৈধ ব্যানার উচ্ছেদে যান বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) কর্মীরা।

এ সময় ইউএনওর উপস্থিতিতে তাদের ওপর গুলি চালান আনসার সদস্যরা। খবর পেয়ে মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ সেখানে গেলে তাকে লক্ষ্য করেও গুলি ছোড়া হয়, তবে গুলি তার গায়ে লাগেনি।

এ সময় সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র, কর্মকর্তা, বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আহম্মেদ শাহারিয়ার বাবুসহ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের বহু নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তাই ইউএনওর বিচারের দাবিতে বরিশাল থেকে বাস, লঞ্চ ও মাহিন্দ্রা চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি আ. লীগের : সংঘর্ষের ঘটনার ব্যাখা তুলে ধরে বরিশালে সংবাদ সম্মেলন করেছে জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগ। গতকাল বিকেল ৪টায় নগরের কালি বাড়ি রোডের মেয়রের বাস ভবন আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বাসায় এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে বরিশাল সিটি কপোরেশনের প্যানেল মেয়র গাজী নঈমুল হোসেন লিটু বলেন,

এপর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুসারে ৬০ জন নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং ৫০ জনের অধিক পুলিশের লাঠিচার্যে আহত হয়েছেন।

মেয়রের বিরুদ্ধে মামলা : ইউএনও’র বাসভবনে হামলার ঘটনায় কোতয়ালি মডেল থানায় হওয়া একটি মামলায় বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে আসামি করা হয়েছে।

এছাড়া মামলায় ৩০ থেকে ৪০ জনের নাম উল্লেখ এবং  অজ্ঞাতনামা কয়েকশ জনকে আসামি করা হয়েছে। গতকাল ইউএনও মুনিবুর রহমান বাদী হয়ে এই  মামলাটি করেন। এছাড়া সরকারি কাজে বাঁধা ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে পৃথক আরেকটি মামলা দায়ের করেন।

বরিশাল সিটি করপেরেশনের মেয়রকে আসামি করে মামলা দায়ের হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ কমিশনার দক্ষিণ আলী আশরাফ মিঞা। 

তিনি বলেন, মামলা আসামি করা হয়েছে বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে। মামলাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তদন্ত শেষে ব্যবস্থা-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী : বরিশালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরকারি বাসভবনে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত শেষে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এই কথা বলেন তিনি।

আসাদুজ্জামান খান বলেন, তদন্তাধীন বিষয়ে এখনই খোলাখুলিভাবে বলতে পারব না। তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে কার ভূমিকা কী ছিল? কেউ যদি ভুলভ্রান্তি করে থাকেন, তাহলে তদন্ত শেষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যখনই কোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়, তখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখা। বরিশালের ঘটনা যে পর্যায়ে গিয়েছিল তাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে যায় এবং বর্তমানে বরিশাল শহরে উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থা নেই। এই ঘটনায় কারও প্ররোচনা ছিল কিনা তদন্ত শেষে বলা যাবে।

জড়িতদের আইনের আওতায় আনার ঘোষণা কাদেরের: বরিশালে ইউএন’র বাসভবনে হামলার ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মহিলা আওয়ামী লীগের শোক দিবসের অনুষ্ঠানে একথা বলেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এই হামলায় যারাই জড়িত থাকুক অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে। নিজ দলের হলেও কোনো ছাড় দেয়া হবেনা।’

মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিয়া খাতুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, দপ্তর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারি ব্যরিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বেগম কৃক প্রমুখ।

মেয়র সাদিকের গ্রেপ্তার চান প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা : বরিশাল সদর উপজেলার ইউএনওর বাসভবনে হামলার ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটি বলেছে, দুর্বৃত্তদের আইনের মাধ্যমেই মোকাবিলা করা হবে। এ ঘটনায় সংগঠনটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় সংগঠনের সভাপতি ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব কবির বিন আনোয়ারের সভাপতিত্বে সংগঠনের কার্যনির্বাহী পরিষদের জরুরি সভা হয়। পরে রাতে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে এ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত