মালের রাশমি ধান্দু স্টেডিয়ামে বিকেল ৪টায় কাঠফাটা রোদে শুরু হয় খেলা। এমনিতেই ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। খোলা প্রেস বক্সে বসে মনে হচ্ছিল মগজ গলে বেরিয়ে যাবে। তীব্র রোদ-তাপে যে খেলাটা হলো, তাকে অনায়াসে দু’ভাগে ভাগ করে দেওয়া যায়। প্রথম এক ঘণ্টা খেলল বসুন্ধরা কিংস। আর বাকি সময় বেঙ্গালুরু এফসি। ফলাফল গোলশূন্য। তাতে হয়তো কিংসের প্রধান লক্ষ্য পূরণ হচ্ছে না। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এক পয়েন্ট নিয়ে এএফসি কাপের ডি গ্রুপ সেরার লড়াইয়ে ভালোভাবেই আছে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নরা। মঙ্গলবার ভারত জায়ান্ট মোহনবাগানের ম্যাচেই নিষ্পত্তি হবে গ্রুপের শ্রেষ্ঠত্ব। কিংসের স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজন যেন এটাই চাইছিলেন। তাই তো, ম্যাচের শেষভাগে আক্রমণে না গিয়ে প্রায় পুরো দল ব্যস্ত রইল ঘর সামলানোয়। সুনীল ছেত্রীদের মরিয়া আক্রমণ ঠেকিয়ে সফল তারা।
গরম যেমন কোনো অজুহাত হতে পারে না ঠিক তেমনি ম্যাচে রেফারির সিদ্ধান্তের ওপর কোনো কথা চলে না। সে চল আন্তর্জাতিক ফুটবলে নেই। কিন্তু প্রথা ভেঙে কাল এএফসি’র দিকে সমালোচনার তীর ছুড়েছেন বেঙ্গালুরুর জার্মান কোচ মার্কো পেজ্জাওলি। এই কোচের দাবি ৭৪ মিনিটে দীর্ঘদেহী ডিফেন্ডার এনরিকে কস্তার হেড ক্রসবারের ভেতরের অংশে লেগে গোললাইন অতিক্রম করার পর কিংস কিপার আনিসুর রহমান জিকো আয়ত্তে নেন। যা চোখ এড়িয়েছে রেফারির। এই কোচের মতো অবশ্য রেফারি বা এএফসি’র সমালোচনার পথে হাঁটেননি ব্রুজন। চাইলে তিনিও বলতে পারতেন। ৫৫ মিনিটে রবসন রবিনহো’র একটি শট বেঙ্গালুর কিপার গুরপ্রিত সিং সান্ধুর পায়ে লেগে মনে হচ্ছিল গোললাইন অতিক্রম করেছে। এক ডিফেন্ডার সেটা ব্যাকভলি করে ফেরানোর চেষ্টা করেন। ম্যাচে যদি ভাগ্য বিপক্ষে যায় তবে দু’দলেরই গিয়েছে। ব্রুজন বরং এই আলোচনায় না গিয়ে লক্ষ্যপূরণের কথাই বেশি বেশি বললেন, ‘আমি মনে করি না যে ভাগ্যের জোরে আমরা পয়েন্ট পেয়েছি। প্রথম ৬০ মিনিট খেলা আমাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। আমরাই সুযোগ তৈরি করেছি। শেষ ৩০ মিনিটে ওরা চেষ্টা করেছে খেলোয়াড় বদল করে আধিপত্য বিস্তার করতে। তাদের আসলে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে তিন পয়েন্টের বিকল্প ছিল না। তাই তারা চড়াও হয়েছে সে সময়। কিন্তু তারা গোল করতে পারেনি।’
গ্রুপসেরা হওয়ার প্রশ্নে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী মনে হয়েছে ব্রুজনকে, ‘আমাদের ভালো সুযোগ আছে। আমরা চাই সুযোগটা শেষ ম্যাচে কাজে লাগাতে। আমি অবশ্যই এই ফলাফলে খুশি। ৬০-৭০ মিনিট আমরা খুব ভালো খেলেছি। শেষ দিকে ফলটাকে ধরে রাখার দিকেই আমরা মনোযোগ দিই, যাতে আমাদের আশা শেষ ম্যাচ পর্যন্ত বেঁচে থাকে।’
মাজিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে গতিময় কিংসকে এই ম্যাচে দেখা যায়নি। কোচও মেনে নিচ্ছেন সেরা, ‘আমি ঠিক নিশ্চিত নই যে ছেলেরা ক্লান্ত ছিল কি না। আমার সেটা মনে হয়নি। তবে এটা ঠিক কিছু কিছু কমতি চোখে পড়েছে। কাউন্টার অ্যাটাকগুলো আগের ম্যাচের মতো ক্ষুরধার ছিল না। হয়তো অনেক বেশি নিখুঁতও হতে পারেনি। তবে প্রথমার্ধে রবিনহো’র গোলটা হয়ে গেলে ম্যাচের চেহারাই বদলে যেত। শেষ দিকে আমরা ড্রয়ের জন্য খেলেছি। পরপর দু’টি বড় দলের বিপক্ষে আমরা ক্লিনশিট থেকেছি। এটা অনেক বড় ব্যাপার।’
ব্রুজনের খানিক আগে এসে এএফসিকে এক হাত নিয়েছেন বেঙ্গালুরুর কোচ। আধুনিক গোললাইন প্রযুক্তি, ভিএআর-এর ব্যবহার না করায় দারুণ ক্ষেপেছেন মোহনবাগানের কাছে হেরে শুরু করা দলের কোচ, ‘আমাদের ক্লাব এই টুর্নামেন্টে খেলার জন্য অনেক টাকা বিনিয়োগ করে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি এএফসি আধুনিক প্রযুক্তির জন্য বিনিয়োগ করেনি। নইলে আমাদের নিশ্চিত গোলটা বাতিল হতো না। এটা আসলেই খুব হতাশার। আমি ম্যাচ শেষে ভিডিওতে দেখেছি বলটা গোললাইন অতিক্রম করেছিল। এএফসি যদি আধুনিক পথে না হাঁটে, তবে শুধু আমরা নই, সব দলই ভুগবে।’ ব্রুজন অবশ্য সেই পথে হাঁটেননি, ‘বেঙ্গালুরু কোচ কী বলেছেন এ নিয়ে কোনো কথা বলতে চাই না। রেফারির সিদ্ধান্তের ব্যাপারে কথা বললে তো আমাদের গোলের সুযোগটার কথাও বলতে পারতাম। আমরা সেটা বলব না।’
