চীন-ভিয়েতনামকে ছাড়িয়ে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২১, ১২:২৮ এএম

প্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েতনামের কাছে ‘দ্বিতীয় অবস্থান’ হারানোর পর একক দেশ হিসেবে তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ পোশাক রপ্তানিতে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। করোনা মহামারীর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক রপ্তানির প্রবৃদ্ধিতে চীন ও ভিয়েতনামকে টপকে গেছে বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব কমার্সের ‘অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেলসের (ওটেক্সা) প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

ওটেক্সার প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে প্রায় ২৭ শতাংশ। আর্থিকভাবে যার পরিমাণ ৩১৩ কোটি ডলার। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ভিয়েতনামের পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ২০ দশমিক ৪৫ শতাংশ এবং চীনের বেড়েছে ২৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ। টাকার অঙ্কে কম হলেও চলতি বছরের প্রথমার্ধে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক পণ্য রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশ চীন এবং ভিয়েতনামের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ।

২০২০ সালের মার্চ থেকে করোনা সংক্রমণের বিপর্যয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে দেশটির আমদানি-রপ্তানি ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়। তবে চলতি বছর দেশটিতে ব্যাপকভাবে মানুষকে করোনার টিকা দেওয়া শুরু হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। যুক্তরাষ্ট্রে করোনা পরিস্থিতি উন্নতি হওয়ায় সে দেশের অভ্যন্তরীন চাহিদা চাঙ্গা হয়েছে। যে কারণে অন্যান্য দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশি পোশাকের রপ্তানিও বেড়েছে। এর ফলে অভ্যন্তরীণ ভোগব্যয় ও মানুষের কেনাকাটাও বেড়েছে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের ওপর।

ওটেক্সার প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনার কারণে ২০২০ সালের প্রথম ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক পণ্যের রপ্তানি কমে যায় ৩০ শতাংশ। ওই সময়ে বাংলাদেশ থেকে পোশাক আমদানি কমে ২০ শতাংশ। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রের  পোশাক আমদানিতে উল্লম্ফন দেখা গেছে, যার সুফল পাচ্ছে বাংলাদেশও।

স্থানীয় পোশাক রপ্তানিকারকরা বলছেন, তাদের হাতে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশের প্রচুর ক্রয়াদেশ রয়েছে। ফলে আগামী মাসগুলোতেও ভালো রপ্তানির আশা করছেন তারা।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী বর্তমানে একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের মোট পোশাকপণ্য রপ্তানি হয় প্রায় ১৯ শতাংশ। ইউরোপীয় ইউনিয়ন জোটভুক্ত  দেশগুলোতে ৬২ শতাংশ। গত অর্থবছরে বাংলাদেশে মোট পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৩ হাজার ৮৭৫ কোটি ডলার। এর মধ্যে  তৈরি পোশাক পণ্যের অবদান ৩ হাজার ১৪৫ কোটি ডলার। ওটেক্সার প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রবৃদ্ধিতে এগিয়ে গেলেও আর্থিক ও পরিমাণগত দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে এখনো তৃতীয় অবস্থানেই আছে বাংলাদেশ। চীন যথারীতি শীর্ষে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভিয়েতনাম।

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে মোট ৩ হাজার ৫৩৮ কোটি ডলারের পোশাক আমদানি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে ৭৩২  কোটি ডলারের পোশাক গেছে চীন থেকে। ভিয়েতনাম থেকে ৬৮১ কোটি ডলারের এবং বাংলাদেশ থেকে ৩১৩ কোটি ডলারের পোশাক নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত