পোশাক রপ্তানিতে আগের অবস্থান পাওয়ার সুযোগ

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২১, ০৫:২৭ এএম

কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের ঘাড়ের ওপর নিঃশ্বাস ফেলছিল ভিয়েতনাম। তবে করোনা মহামারীর সুযোগে শেষ পর্যন্ত বিশ্বে পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশকে টপকে দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থানে চলে গেছে ভিয়েতনাম। আর বাংলাদেশ নেমে গেছে তৃতীয় স্থানে। গত জুলাই মাসে প্রকাশিত বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) ওয়ার্ল্ড ট্রেড স্ট্যাটিসটিকস রিভিউ ২০২১ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ তথ্য। তবে তৈরি পোশাক খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভিয়েতনাম যে কারণে বাংলাদেশকে টপকে গিয়েছিল সেই একই কারণে এখন বাংলাদেশের সামনে আগের অবস্থান উদ্ধারের সুযোগ এসেছে।

কয়েক যুগ ধরে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের পণ্য হিসেবে প্রথম সারিতে আছে তৈরি পোশাক শিল্প। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বাধা এলেও দেশের সিংহভাগ রপ্তানি আয়ের উৎস এ খাতটি এখনো বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম মাধ্যম। তবে গত বছর থেকে বিশ্বব্যাপী চলমান মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে বড় ধরনের হোঁচট খায় খাতটি। লকডাউনে দীর্ঘদিন কারখানা বন্ধ রাখা, করোনা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক থাকায় ক্রয়াদেশ হারাতে হয় বাংলাদেশকে। এর ফলে বাতিল হওয়া ক্রয়াদেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যা চলে যায় ভিয়েতনামের দখলে। এর মাধ্যমে দেশটি উঠে আসে তৈরি পোশাক রপ্তানির তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে ভিয়েতনামের করোনা পরিস্থিতিও মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। করোনার শুরুর দিকে আশ্চর্যজনকভাবে নিরাপদ থাকা দেশটি এখন ভুগছে করোনার ডেল্টা ধরনে। বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটির সঙ্গে সারা দেশের যোগাযোগব্যবস্থা। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে মাঠে নামানো হয়েছে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের। ১৫ জুলাই থেকে ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়তে দেওয়া হয় ১৫ দিনের লকডাউন। শুধু সরকারি অফিস, হাসপাতাল ছাড়া সব ধরনের প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়। এর মধ্যে ২৩ জুলাইথেকে সারা দেশে লকডাউন দিতে বাধ্য হয় ভিয়েতনাম সরকার। ফলে সেখানে বন্ধ রয়েছে কলকারখানা। যে কারণে ভিয়েতনামের কিছু ক্রয়াদেশ আবার বাংলাদেশে ফিরে আসছে বলে জানিয়েছেন পোশাক শিল্প মালিকরা। তাই এ সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে দেশের পোশাক শিল্প ঘুরে দাঁড়িয়ে আরও বড় বাজার দখল করতে পারবে বলে মনে করেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সম্মানিত ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত বছর আমাদের দেশে করোনা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হওয়ায় অনেক অর্ডার বাতিল হয়। বায়ার বিকল্প খোঁজায় সে সুযোগ কাজে লাগায় পোশাক খাতের মূল প্রতিযোগী দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ভিয়েতনাম। বর্তমানে দেশটিতে এখন করোনা পরিস্থিতিও উদ্বেজনক। এ সুযোগে আমাদের শিল্পকারখানায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে উৎপাদন অব্যাহত রাখতে হবে। একই সঙ্গে বায়ারদের কাছে এটা তুলে ধরতে পারলে আরও অর্ডার আসবে বলে মনে করি।’

বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত বছর লকডাউন দেওয়ায় প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয় পোশাক খাতে। বায়াররা তাদের ক্রয়াদেশ বাতিল করে। সে ক্রয়াদেশের কিছুটা ফিরে আসছে আবার। তবে সে অনুপাত খুব কম। এরই মধ্যে গত বছর সারা বিশ্বের অবস্থা খারাপ থাকায় ক্রয়াদেশের সাথে সাথে দামও কমে যায়। এ অবস্থা থেকে উত্তরণ হচ্ছে ধীরে ধীরে। আমরা সব পোশাক মালিকরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, প্রতিযোগিতা করে আর পণ্যের দাম কমাব না। আশা করছি এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে আমরা আরও উন্নতি করব।’

দেশের পোশাকশ্রমিকদের টিকা দেওয়ার ব্যাপারে ফারুক হাসান বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা ১০ শতাংশ শ্রমিককে টিকার আওতায় আনতে পেরেছি। টিকার অপর্যাপ্ততার জন্য সঠিক সময়ে টিকা দেওয়া শুরু করতে না পারলেও এখন প্রচুর টিকা আসায় আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে টিকা প্রদান শতভাগ করতে পারব। সরকার আমাদের শ্রমিকদের গুরুত্বের সাথে টিকা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে।’

সুযোগ কাজে লাগিয়ে আমাদের শিল্পকারখানা স্বাস্থ্যবিধি মেনে উৎপাদন অব্যাহত রাখার পাশাপাশি বায়ারদের কাছে তা তুলে ধরতে পারলে দেশে আরও অর্ডার আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিকেএমইএর সহসভাপতি ফজলে শামীম এহসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ভিয়েতনামের ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কারখানা বন্ধ আছে। এর মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলের কারখানা বেশি বন্ধ। উত্তর-মধ্যসহ অন্য কারখানায় এখনো উৎপাদন চলছে। সেখান থেকে বায়াররা সরে এসে আমাদের ক্রয়াদেশ দেবে এ দৃষ্টান্ত আমরা চাই না। অর্ডার করার পর সে অর্ডার আমাদের কাছে আসার চেয়ে নতুন অর্ডার নিয়ে আসাকে আমরা সাধুবাদ জানাব। দেশটির দক্ষিণাঞ্চল বন্ধ থাকায় ‘ম্যান মেইড ফাইবার’-এর বেশ কিছু অর্ডার আমরা পাব বলে আশা করি। তবে এর সুফল আমরা ২ থেকে ৩ মাস পর দেখতে পারব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত