অষ্টম শ্রেণি : শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২১, ১১:২৩ পিএম

তৃতীয় অধ্যায়

স্বাস্থ্যবিজ্ঞান পরিচিতি ও স্বাস্থ্যসেবা

সাধারণ প্রশ্ন

১. অল্পবয়সী মেয়েরা এইডস সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকে কেন?

উত্তর : সব বয়সের মানুষের পক্ষে সব কাজ করা সম্ভব হয় না। বয়সের কোনো পর্যায়ে মানুষ আবেগ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় আবার কোনো পর্যায়ে সেই আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখে। অল্পবয়সী মেয়েরা আবেগ দ্বারা পরিচালিত হয়।

অল্পবয়সী মেয়েরা এইডস সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকার কারণ : অনেক দেশে অনিয়ন্ত্রিত মাদকের ব্যবহার, অসচেতনতা, অশিক্ষা, দারিদ্র্য প্রভৃতি কারণে অল্পবয়সী মেয়েদের মধ্যে এইডস সংক্রমণ মহামারী আকার ধারণ করেছে। বিভিন্ন দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি থেকে জানা যায় যে, নতুন এইচআইভিতে আক্রান্তদের অর্ধেকই ১৫-২৪ বছর বয়সী। এ বয়সী মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় অধিক ঝুঁকিতে রয়েছে। এর প্রধান কারণগুলো হচ্ছে-

১. আর্থ-সামাজিক কাঠামোতে মেয়েদের দুর্বল অবস্থান।

২. এইচআইভি /এইডস সম্পর্কে জ্ঞানের অভাব।

৩. অনিয়ন্ত্রিত ও অনিরাপদ যৌন সম্পর্ক স্থাপনে বাধা দেওয়ার ক্ষমতা কম।

৪. নারী-পুরুষের বৈষম্যের কারণে নারীর নিগৃহীত হওয়া।

৫. মেয়েদের বিশেষ শারীরিক বৈশিষ্ট্য।

৬. অনৈতিক ও অনিরাপদ দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন।

৭. আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা।

২. অনৈতিক দৈহিক সম্পর্ক কী? এইডস মানব দেহে কীভাবে সংক্রমিত হয়?

উত্তর : মানুষ পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ জীব। তার মূল্যবোধ, মনুষ্যত্ব, বিবেক এগুলো তার একটা নৈতিক চরিত্র নির্ধারণ করে। কোনো মানুষ যখন এগুলো হারিয়ে ফেলে তখন তার নৈতিক অবক্ষয় শুরু হয় এবং সে নানা রকম অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ে।

অনৈতিক দৈহিক সম্পর্ক : বিবাহ বহির্ভূত যৌনমিলনকে অনৈতিক দৈহিক সম্পর্ক বলে। লিভ টুগেদার অনৈতিক দৈহিক সম্পর্কের একটি অংশ। প্রধানত কৌতূহল এবং আবেগের বশবর্তী হয়ে কিশোর-কিশোরীদের অবৈধভাবে পরস্পর যৌন সম্পর্কে মিলিত হওয়াকে অনৈতিক দৈহিক সম্পর্ক বলে। চরিত্রগত অবক্ষয়ের ফলে এরকম সম্পর্ক হয়ে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে কিশোর-কিশোরীরা বাবা-মায়ের ওপর অভিমান করে এরকম অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে।

এইডস মানব দেহে যেভাবে সংক্রমিত হয় : এইচআইভি ভাইরাস মানবদেহের কয়েকটি তরল পদার্থে যেমন : রক্ত, বীর্য ও মায়ের বুকের দুধে বেশি থাকে। ফলে মানব দেহের এই তরল পদার্থগুলোর আদান-প্রদানের মাধ্যমে এইচআইভি ছড়াতে পারে। এইচআইভি সুনির্দিষ্টভাবে যে সব উপায়ে ছড়ায়, তা হলো-

১. এইচআইভি/এইডস আক্রান্ত রোগীর রক্ত কোনো ব্যক্তির দেহে পরিসঞ্চালন করলে।

২. আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত সুচ বা সিরিঞ্জ অন্য কোনো ব্যক্তি ব্যবহার করলে।

৩. আক্রান্ত ব্যক্তির কোনো অঙ্গ বা দেহকোষ অন্য কোনো ব্যক্তির দেহে প্রতিস্থাপন করলে।

৪. আক্রান্ত মায়ের মাধ্যমে (গর্ভধারণকালীন, প্রসবকালে বা মায়ের দুধ পানকালে) তার শিশু এই রোগে সংক্রমিত হতে পারে।

৫. অনৈতিক ও অনিরাপদ দৈহিক মিলন করলে।

৬. অন্যের ব্যবহৃত ব্লেড বা রেজার ব্যবহার করলে।

পরিশেষে আমরা বলতে পারি এইচআইভি/এইডস কী, কীভাবে সংক্রমিত হয়, লক্ষণ, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা কী প্রভৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা ও সবাইকে সচেতন করা প্রয়োজন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত