পুঁজিবাজারে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগে বাংলাদেশ ব্যাংকের কড়া নজরদারির মধ্যেই সূচকের বড় উত্থান দেখা দিয়েছে। গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) কেনাবেচা হওয়া ব্যাংকসহ বড় মূলধনী অধিকাংশ শেয়ারের দরবৃদ্ধিতে প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৮১ পয়েন্ট বেড়ে উঠেছে ৬৮৪২ পয়েন্টে। ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে চালুর পর এটাই এ সূচকের এ সর্বোচ্চ অবস্থান। প্রথমবারের মতো ৭০০০ পয়েন্টের মাইলফলকের পথে রয়েছে সূচকটি।
পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গতকাল পর্যন্ত চলতি আগস্টের প্রথম ১৫ কার্যদিবসে ডিএসইর প্রধান সূচকটি বেড়েছে ৪১৭ পয়েন্ট। এর মধ্যে ১২ কার্যদিবসে প্রায় ৪৫৪ পয়েন্ট বেড়েছিল। বাকি তিন দিন প্রায় ৩৭ পয়েন্ট কমেছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, সূচকের ঊর্ধ্বগতিতে পুঁজিবাজারে যাতে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা দেখা না দেয় সে জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি সর্বোচ্চ মার্জিন ঋণ নিশ্চিত করতে এ সংক্রান্ত নীতিমালা আগেই শিথিল করে রেখেছে। আগের নীতিমালা অনুযায়ী, সূচক ৭০০০ পয়েন্ট অতিক্রম করা মাত্র মার্জিন ঋণের হার বিদ্যমান ৮০ শতাংশ থেকে কমে ৫০ শতাংশে নামার কথা ছিল। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ন্ত্রক সংস্থা বলছে, ৭০০০ নয়, ৮০০০ পয়েন্ট অতিক্রম করলে এ নীতি কার্যকর হবে। মার্জিন ঋণে এসইসি এমন সুবিধা বজায় রাখায় সূচকের আরও ঊর্ধ্বগতির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এদিকে পুঁজিবাজার ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ কড়া নজরদারিতে রাখার বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষণার নেতিবাচক প্রভাব কাটিয়ে উঠেছে। অধিকাংশ ব্যাংকের বিনিয়োগ আইনি সীমায় থাকায় তা নিয়ে শঙ্কা কাটিয়ে উঠেছে বাজার। ফলে গতকাল লেনদেনের শুরু থেকেই সূচকের ঊর্ধ্বগতি শেষ পর্যন্ত বজায় ছিল।
গতকাল ডিএসইতে ৩৭৬ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ২৪৭টির বা প্রায় ৬৬ শতাংশের বাজারদর বেড়েছে। বিপরীতে ৯৬টি বা সাড়ে ২৫ শতাংশের দর কমেছে। অপরিবর্তিত ছিল বাকি ৩৩ শেয়ারের দর। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বীমা এবং সিরামিক ছাড়া গতকাল বাকি সব খাতের অধিকাংশ শেয়ারের দর বেড়েছে। সূচকের বৃদ্ধিতে সর্বাধিক ভূমিকা রেখেছে ব্যাংক খাত। গতকাল এ খাতের সার্বিক দর বেড়েছে ১ দশমিক ৮৭ শতাংশ। এছাড়া জ¦ালানি ও বিদ্যুৎ, বস্ত্র, এনবিএফআই ও সিমেন্ট খাতের দরবৃদ্ধি সূচক বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। গতকাল ডিএসইতে সর্বমোট ২ হাজার ৭০৬ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে।
