নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের দলে নেই মোহাম্মদ মিঠুন। অন্য সব ক্রিকেটারের মতো অবশ্য বাস্তবতাটা তিনি ভালোভাবেই জানেন। ভালো খেললে দলে থাকা যাবে, ভালো না খেললে বাদ। তাই এটা তার জন্য বড় কোনো ধাক্কা নয়। কিন্তু গেল কিছুদিন যে মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছে, সে জন্য নিজেকে কীভাবে তৈরি রাখতে পারতেন, মিঠুন ভেবে পান না তা।
এক সাক্ষাৎকারে তাই মিঠুন বললেন ‘মানুষ আপনাকে উপহাসের পাত্র বানালে সেটি অপমানজনক। প্রথমত, কারো সেই অধিকার নেই। একজন মানুষ হিসেবেও আপনার এমন ব্যবহার প্রাপ্য নয়’।
যোগ করেন, ‘আমি কেবল একজন জাতীয় দলের ক্রিকেটারের কথাই বলছি না। এটি সবার জন্যই প্রযোজ্য। আপনার জীবনের ওপর আপনার নিজের নিয়ন্ত্রণ আছে এবং আপনার পরিবারের মানুষ ছাড়া কেউই আপনাকে এভাবে বলতে পারে না। দ্বিতীয়ত, আসলে আমাদের অভ্যাসই এমন হয়ে গেছে এবং এগুলো পরিবর্তনও হচ্ছে না’।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো তারকাদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যঙ্গ বা ট্রল করা নিত্য ঘটনা। ক্রিকেটাররা এখানে বড় টার্গেট। এমনকি ক্রিকেটারদের পরিবারকেও আক্রান্ত হতে হয়। ছন্দে না থাকায় মিঠুনও তাই রীতিমতো ট্রলে পরিণত হচ্ছিলেন গেল কিছুদিন।
মিঠুনকে নিয়ে ট্রলের শুরু ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে ব্যর্থ হওয়ার পর থেকে। এরপর যদিও নিউজিল্যান্ড সফরে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৫৭ বলে অপরাজিত ৭৩ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। কিন্তু সেই ইনিংস তাকে নিয়ে ট্রল থামাতে পারেনি। কারণ তার এরপরের স্কোরগুলো ছিল- ৬, ৪, ১ এবং ০।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজেও মিঠুন ভালো খেলতে পারেননি। এরপরও অবশ্য জিম্বাবুয়ে ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের দলে রাখা হয় তাকে। যা নিয়েও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রল হয়েছে।
যদিও দুই সিরিজে একটি ম্যাচও সুযোগ পাননি মিঠুন। আর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তো বাদই পড়ে গেলেন দল থেকে।
মিঠুন অবশ্য এই বাদ পড়াকে স্বাভাবিকভাবেই নিয়েছেন, ‘এখানেই আমার ক্যারিয়ারের শেষ নয় এবং আমার অনেক বেশি বয়সও হয়নি। যখন একজন খেলোয়াড় ভালো করতে পারবে না সে দল থেকে বাদ পড়বে। এটি খুবই স্বাভাবিক। আমি আগেও দল থেকে বাদ পড়েছি। তাই আমাকে চেষ্টা করতে হবে আরো ভালো একজন খেলোয়াড় হয়ে কীভাবে দলে ফেরা যায়’।
শেষ এক বছরে ৯ ওয়ানডেতে মিঠুনের গড় ২৩.১৬। অন্য দুই ফরম্যাটে চার ইনিংসে তার রান মাত্র ৩০। সবশেষ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে যে ওয়ানডে সিরিজটিতে খেলেছেন, তাতে তিন ইনিংস তার রান মাত্র ৫১।
তৃতীয় ম্যাচে অবশ্য চাপের মুখে দারুণ একটা জুটি উপহার দিয়েছিলেন নুরুল হাসান সোহানের সঙ্গে। যা বাংলাদেশের জয়ে বড় ভূমিকা রাখে। ৫৭ বলে ৩০ রান এসেছিল মিঠুনের ব্যাট থেকে। ২০ জুলাই হারারেতে হওয়া সেই ম্যাচটিই এখন পর্যন্ত মিঠুনের শেষ ম্যাচ।
এই টপ অর্ডার ব্যাটার অবশ্য শক্তিশালী হয়ে ফেরার স্বপ্ন দেখছেন। বলছিলেন, ‘অধারাবাহিক হয়ে খেলার চেয়ে আমি একজন ভালো ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ফিরতে চাই, যে দলকে ভালো কিছু দিতে পারবে। আমি সব সময়ই বাংলাদেশের পক্ষে ভালো খেলতে চাই কিন্তু সব সময় হয়তো সেটা বাস্তবায়ন হয় না। আপনি ভালো খেললেই মানুষ আপনার প্রশংসা করবে, খারাপ করলেই দল থেকে বাদ পড়বেন। খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার’।
তবে ক্রিকেটারদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এভাবে উপহাস করা মানতে পারেন না মিঠুন, ‘অনলাইন অ্যাবিউজ নিয়ে সিনিয়র ক্রিকেটাররা আগেও কথা বলেছেন, কিন্তু কিছুই পরিবর্তন হয়নি। আমার মনে হয়, যারা আমাকে নিয়ে উপহাস করছে, তাদের ক্রিকেট সম্পর্কে ধারণাই নেই। আমি নিজে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করি না। কিন্তু আপনি কী সবকিছুই এভাবে এড়িয়ে যেতে পারবেন? আপনার বন্ধুরা আপনাকে এসব দেখাবে’।
মিঠুন অনুপ্রেরণা খুঁজছেন ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলির একটি কথা থেকে, ‘ইংল্যান্ড সিরিজের আগে দীনেশ কার্তিকের সাথে বিরাট কোহলির সাক্ষাৎকার দেখছিলাম আমি। আমি কোহলির সাথে একমত, সে বলছিল যারা তাকে গালিগালাজ করে তারা তো তার কাছে কিছুই না। সে এখন যে পর্যায়ে আছে, সেই কোহলিকে তারা বানায়নি। তাই তাদের কথা নিয়ে কেন সে বিচলিত হবে’।
