মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। গতকাল সোমবার সাক্ষ্যগ্রহণের প্রথম দিন কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলার বাদী সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়া আদালতে সাক্ষ্য দেন। সকাল সোয়া ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বাদী আদালতে জবানবন্দি দেন এবং ১৩ আসামির আইনজীবী তাকে জেরা করেন। আজ মঙ্গলবার মূল আসামি বরখাস্ত ওসি প্রদীপ ও বরখাস্ত পরিদর্শক লিয়াকত আলীর আইনজীবী তাকে জেরা করবেন বলে জানা গেছে। বাদীর সাক্ষ্যগ্রহণের পর আগামীকাল পর্যন্ত অন্য সাক্ষীদের সাক্ষগ্রহণ চলবে।
এর আগে সকাল ১০টায় এ মামলার সব আসামিকে আদালতে নিয়ে আসা হয়। মামলায় ৮৩ জন সাক্ষীর মধ্যে বাদীসহ ১ থেকে ১৫ নম্বর সাক্ষী এই তিন দিন সাক্ষ্য দেবেন। এ মামলায় অভিযুক্ত ১৫ জন আসামিই কক্সবাজার জেলা কারাগারে রয়েছেন।
গত ২৬, ২৭ ও ২৮ জুলাই এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ ছিল। মহামারী করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় সরকারঘোষিত ‘লকডাউনের’ কারণে হাইকোর্টের নির্দেশে সারা দেশের মতো কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ওই তারিখে চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করা যায়নি।
কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম জানান, গত ২৭ জুন কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল আসামিদের উপস্থিতিতে মামলাটির চার্জ গঠন করে ২৬, ২৭ ও ২৮ জুলাই তিন দিন বাদীসহ ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করে আদেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু করোনার কারণে লকডাউনে আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি। সরকার গত ১১ আগস্ট থেকে লকডাউন তুলে নিলে আদালতের কার্যক্রম শুরু হওয়ায় জেলা ও দায়রা জজ নতুন করে এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ধার্য করেন। যথাসময়ে বাদীসহ সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করবেন আদালত।
২০২০ সালের ৩১ জুলাই ঈদুল আজহার আগের রাত সাড়ে ৯টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর এপিবিএন চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান। হত্যাকান্ডের পাঁচ দিনের মাথায় ৫ আগস্ট নিহত সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস বাদী হয়ে পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত ও টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপসহ নয়জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
