খন্দকার মোশতাক আহমেদের ছেলে ও নাতির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে কুমিল্লার এক আদালত। পারিবারিক সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগে করা ২০২০ সালের এক মামলায় গতকাল বুধবার কুমিল্লার ৩ নম্বর আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. গোলাম মাহবুব খান এ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। মামলাটি করেছিলেন খন্দকার মোশতাকের ভাগ্নে খন্দকার জাবির আহমেদ সারোয়ার। গতকাল বিকেলে তার আইনজীবী ইফতেখার হোসেন জানান, মোশতাকের ছেলে খন্দকার ইশতিয়াক আহমেদ বাবু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি। তিনি ও তার ছেলে খন্দকার ইফতেখার আহমেদ শাদ এখন কানাডায় পলাতক। মামলার অন্য আসামি সম্পত্তির কেয়ারটেকার নিজামুদ্দিন জামিনে রয়েছেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, খন্দকার মোশতাকের বাবা খন্দকার কবির উদ্দিন আহমেদের পাঁচ ছেলে ও পাঁচ মেয়ে। মোশতাকের ছেলে খন্দকার ইশতিয়াক তার দাদা খন্দকার কবির উদ্দিন আহমেদ ট্রাস্ট, বাড়ি ও মাজার দখল করে আছেন। একই সঙ্গে বাড়ির অন্য ওয়ারিশদের সম্পত্তি দখলে রেখে এলাকায় সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন করেন। কানাডা থেকে তিনি সন্ত্রাসী দিয়ে বাড়ির অন্য সদস্যদের হয়রানি করছেন ও সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করছেন। বেশ কিছু সম্পত্তি জাল দলিল ও ভুয়া স্বাক্ষরে বিক্রি করে দিয়েছেন।
খন্দকার জাবির আহমেদ সারোয়ার সাংবাদিকদের জানান, খন্দকার ইশতিয়াক আহমেদ বাবু তাদের পূর্বপুরুষের সম্পত্তি দখলে রাখতে এলাকায় ‘একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তোলেন’। এরই মধ্যে বেশ কিছু সম্পত্তি জাল দলিল ও ভুয়া স্বাক্ষরে বিক্রি করে দেন। এতে সম্পত্তির উত্তরাধিকার হিসেবে অংশীদারিত্ব পেতে তিনজনকে আসামি করে গত বছর অক্টোবর মাসে মামলাটি করেন তিনি।
সম্পত্তির অন্য ওয়ারিশ কাজী রেহা কবির বলেন, ‘খুনি মোশতাক তার নানার পরিবারের সদস্য হলেও আদর্শগত কারণে তাদের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক নেই।’ পলাতক আসামিদের অবিলম্বে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেপ্তার করে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, মামলার আসামি খন্দকার ইশতিয়াক আহমেদ বাবু ও খন্দকার ইফতেখার আহমেদ শাদ বিদেশে পলাতক। পরোয়ানা হাতে পেলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরামর্শক্রমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
