মাত্র ৩৬ মিলিমিটার (মি.মি.) বৃষ্টির পানিতে হাঁটু-কোমরসমান পানিতে ডুবেছে চট্টগ্রাম নগরীর অধিকাংশ এলাকা। গত বুধবার রাতভর ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নগরীর অধিকাংশ নিম্নাঞ্চল বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যায়। এতে দুর্ভোগ পড়েছেন নগরবাসী। এদিকে, পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস, গতকাল বুধবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত ৩৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরসমূহে কোনো সতর্কবার্তা না থাকলেও নদীবন্দরসমূহকে ১ নম্বর সতর্কতা সংকেত জারি করেছে।
এদিকে, ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নগরীর মুরাদপুর এলাকায় ফুটপাত দিয়ে চলাচলের সময় পা পিছলে নালায় পনে সালেহ আহমদ নামে এক ব্যক্তি নিখোঁজ হয়েছেন। এর আগেও গত ৩০ জুন নগরীর ষোলশহর ২ নম্বর গেইট এলাকার মেয়র গলিতে বৃষ্টির সময় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নালায় পড়ে দুজনের মৃত্যু হয় এবং তিনজন আহত হয়।
রাতভর ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে গতকাল নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক, গলি ও উপগলি হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া নগরীর বহদ্দারহাট মোড়, মুরাদপুর, ২ নম্বর গেট, ফরিদারপাড়া, চকবাজার, বাদুরতলা, কাপাসগোলা, ষোলশহর, মোগলটুলি, আগ্রাবাদ, ট্রাঙ্ক রোড, বাকলিয়া ডিসি রোড, তালতলা, জিইসি মোড়, চাঁন্দগাও, খতিবেরহাট, সিঅ্যান্ডবি কলোনি, চাকতাই, খাতুনগঞ্জ, আগ্রাবাদ, ঈদগাঁও, নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটি, কাতালগঞ্জ, শুলকবহর, হালিশহরসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এতে স্থানীয়দের দুর্ভোগ চরম পর্যায়ে ঠেকেছে। সড়কের পাশাপাশি অলিগলি, নিচু এলাকার বাসাবাড়ি ও দোকানে পানি ঢুকে পড়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় ও পথচারীরা। এমনকি আগ্রাবাদের মা ও শিশু হাসপাতালের নিচেও পানি ঢুকে রোগী ও রোগীর স্বজনরা চরম বেকায়দায় পড়েছেন।
এদিকে, বহদ্দারহাট এলাকার বাসিন্দা তৌফিক হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, বৃষ্টি হলেই এখন আমাদের এলাকায় পানি উঠবেই। বহদ্দারহাট মোড়, বাদুরতলার অলিগলির রাস্তা পেরিয়ে এখন মেইন রোডেও পানি ওঠে। আগে কম উঠলেও এখন বেশি ওঠে পানি। এলাকার গলির রাস্তাগুলো উচু করায় ড্রেনগুলো নিচু হয়ে গেছে। এতে পানি চলাচল ঠিকমতো হচ্ছে না। তাই বৃষ্টি হলেই পানি জমে থাকে। কোনো সংস্থাই এখন এই বিষয়ে উদ্যোগ নিচ্ছে না।
এ প্রসঙ্গে পতেঙ্গা অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ ও পূর্বাভাস কর্মকর্তা উজ্জ্বল কান্তি পাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, মৌসুমী বায়ুর সক্রিয় প্রভাবে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। গতকাল বুধবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ৩৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সমুদ্রবন্দরসমূহে কোনো সতর্ক বার্তা না থাকলেও নদীবন্দরসমূহকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে।
নালায় পড়ে বৃদ্ধ নিখোঁজ : ভারী বৃষ্টিপাতে নগরী ডুবে যাওয়ায় গতকাল বেলা পৌনে এগার দিকে নগরীর মুরাদপুর এলাকার অতিরিক্ত স্রোতের কারণে নালায় পড়ে সালেহ আহমদ (৬৮) নামে এক বৃদ্ধ নিখোঁজ হন। পরে খবর পেয়ে নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধারে প্রায় পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। নিখোঁজ সালেহ আহমদের বাড়ি পটিয়া উপজেলায় বলে জানা গেছে।
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের লিডার বিপ্লব কুমার নাথ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে মুরাদপুর এলাকার নালা ডুবে যায়। তখন ফুটপাত দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পা পিছলে নালায় পড়ে যান এক ব্যক্তি। এ সময় প্রচুর স্রোত থাকায় তলিয়ে যান ওই ব্যক্তি। পরে খবর পেয়ে ৮ সদস্যের ডুবুরি দল ৫ ঘণ্টারও বেশি সময় উদ্ধার কাজ চালায়। ওই নালা হয়ে দীর্ঘ এলাকায় উদ্ধারের চেষ্টা চালানো হয়। পরে সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় আর উদ্ধার কাজ চালানো সম্ভব হয়নি।
এদিকে, চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে সিডিএর উদ্যোগে গত আড়াই বছর ধরে একটি মেগা প্রকল্প এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডও একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। কিন্তু এসব প্রকল্প এখনো নগরবাসীর কোনো কাজে না আসায় নগরবাসীর অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। নগরবাসীর প্রত্যাশা, নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে সকল সংস্থা মিলে কার্যকরী উদ্যোগ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
