চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের দ্বিতীয় মাস আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ কিছুটা কমেছে। গত ১ জুলাই থেকে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের নিট ঋণ দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৬৯২ কোটি টাকা। মূলত বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করায় নিট ঋণ কমে আসে। অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ ১১ হাজার কোটি টাকার বেশি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ আগস্ট পর্যন্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে সরকার ঋণ করে ১৬ হাজার ৯২৭ কোটি টাকা। একই সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণ শোধ করা হয় ১০ হাজার ২৩৪ কোটি টাকা। ফলে ব্যাংক থেকে সরকারের নিট ঋণ দাঁড়ায় ৬ হাজার ৬৯২ কোটি ৯৯ লাখ টাকা।
ঘাটতি বাজেট অর্থায়নে চলতি অর্থবছরের ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ৭৬ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা নিট ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। সেই হিসেবে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার ৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ ঋণ নিয়েছে সরকার।
গত অর্থবছরের পুরো সময়ে সরকারের ১৮ হাজার কোটি টাকা নিট ঋণের প্রয়োজন হয়। সেই হিসেবে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে গত অর্থবছরের পুরো সময়ের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম দেড় মাসে ৩৭ শতাংশ ঋণ নিয়েছে সরকার।
গত ১৯ আগস্ট শেষে সরকারের ব্যাংক ঋণের স্থিতি দাঁড়ায় ২ লাখ ৮ হাজার ২৩২ কোটি টাকা। গত জুন শেষে এই স্থিতি ছিল ২ লাখ ১ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা।
গত অর্থবছরের ধারাবাহিকতার দিক দিয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে সরকারের ব্যাংকঋণে উল্লম্ফন ঘটলেও এর আগের বছরগুলোর তুলনায় এটাকে স্বাভাবিক মনে করছেন অর্থনীতির বিশ্লেষকরা।
গত অর্থবছরে সরকারের ব্যাংকঋণ ছিল লক্ষ্যমাত্রার অনেক নিচে। মূল বাজেটে সরকারের ব্যাংকঋণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮৪ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা। তবে সঞ্চয়পত্র থেকে প্রত্যাশার তুলনায় বেশি ঋণ আসায় সংশোধিত বাজেটে ব্যাংকঋণের লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ৭৯ হাজার ৭৪৯ কোটি টাকা করা হয়।
এর আগের অর্থবছরে (২০১৯-২০) সরকার ব্যাংকঋণ নিয়েছিল ৬৬ হাজার ৯০৭ কোটি টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সরকারের ব্যাংকঋণ কিছুটা কম ছিল, ১৮ হাজার ২৬৯ কোটি টাকা। মূলত সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগের ওঠানামার কারণে গত কয়েক বছর ধরে ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত ঋণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান দেখা যাচ্ছে।
গত অর্থবছরেও মূল বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে নিট ঋণ ২০ হাজার কোটি টাকা নেওয়ার পরিকল্পনা করে সরকার। কিন্তু সঞ্চয়পত্র বিক্রি বাড়ায় সংশোধিত বাজেটে এই লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ৩০ হাজার ৩০২ কোটি টাকা করা হয়। তবে জুন শেষে ওই অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের নিট ঋণ ৪১ হাজার ৯৫৯ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। অর্থাৎ সংশোধিত বাজেটের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৩৮ দশমিক ৪৭ শতাংশ ঋণ বেড়েছে ব্যাংকবহির্ভূত এ খাত থেকে। এই ঋণ এর আগের (২০১৯-২০) অর্থবছরের নিট ঋণের তুলনায় ১৯১ শতাংশ বা প্রায় তিনগুণ বেশি। ২০১৯-২০ অর্থবছরের পুরো সময়ে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের নিট ঋণ আসে ১৪ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা।
২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে অনুদান বাদ দিলে ঘাটতির সম্ভাব্য পরিমাণ দাঁড়াবে ২ লাখ ১১ হাজার ১৯১ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৬ দশমিক ২ শতাংশ। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে আসবে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকা। ব্যাংক থেকে ৭৬ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা ঋণের বাইরে ব্যাংকবহির্ভূত উৎস থেকে ঋণ আসবে ৩৭ হাজার ১ কোটি টাকা। এর মধ্যে আবার সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ আসবে ৩২ হাজার কোটি টাকা।
