ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বিধবা নারীকে মাথা ন্যাড়া করে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরাইলের পানিশ্বর ইউনিয়নের বেড়তলা গ্রামে গত ২২ জুলাই এ ঘটনা ঘটলেও তা প্রকাশ পায় গত বৃহস্পতিবার। বিধবা ওই নারীর চুল ন্যাড়া করার ভিডিও চিত্র ধারণ করে রাখে নির্যাতনকারীরা। সেই ভিডিও ক্লিপ গত বৃহস্পতিবার ফেইসবুকের একটি আইডি থেকে ভাইরাল হয়ে পড়লে ওইদিন সন্ধ্যায় পুলিশ অভিযানে চালিয়ে নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত চারজনকে আটক করে।
জানা গেছে, বরিশালের তাসলিমা বেগম নামে এক নারীর (৪০) বিয়ে হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুহিলপুরে। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে তিনি স্বামীর বাড়িতেই বসবাস করছিলেন। এরই মাঝে নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করার সুবাদে সরাইলের নোয়াগাঁও ইউনিয়নের তেরকান্দা গ্রামের মেরাজুলের (৩৫) সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়। কিন্তু বিষয়টিকে পরকীয়ার সম্পর্ক অনুমান করে মেরাজুলের স্ত্রী তানজিনা বেগম তাসলিমার ওপর ক্ষিপ্ত হন। এ নিয়ে মেরাজুল-তানজিনা দম্পতির মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। এরই জেরে গত ২২ জুলাই মেরাজুলের স্ত্রী ওই বিধবা নারীকে তার বাবার বাড়ি বেড়তলায় কৌশলে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে তিনি, তার বোন ও ভাইয়ের স্ত্রী মিলে ওই বিধবাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তার মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করে দেন। আর এর ভিডিও চিত্র ধারণ করে রাখে তারা। সেই ভিডিও ক্লিপ গত বৃহস্পতিবার ফেইসবুকের একটি আইডি থেকে ভাইরাল হয়ে পড়ে। সেদিন বিকেলের দিকে বিষয়টি জানতে পেরে সরাইল থানা পুলিশ অভিযানে নামে। পরে সন্ধ্যায় পুলিশ মেরাজুল, তার স্ত্রী তানজিনা (২৪), তানজিনার বড় ভাইয়ের স্ত্রী রাশেদা (৩৫) ও রাশেদার ভাইয়ের স্ত্রী ফেরদৌসাকে (২২) গ্রেপ্তার করে। এছাড়া পুলিশ নির্যাতনের শিকার নারীকে ঢাকায় তার এক স্বজনের বাসা থেকে উদ্ধার করে গতকাল শুক্রবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিয়ে আসে। এরপর তিনি বাদী হয়ে সরাইল থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার চারজনকে আসামি করা হয়েছে।
নির্যাতনের শিকার নারী মামলায় অভিযোগ করেন, তিনি মেরাজুলের সঙ্গে নির্মাণশ্রমিকের কাজ করতেন। এ কারণে তাদের মধ্যে সম্পর্ক রয়েছে। তিনি মেরাজুলের কাছে কিছু টাকাও পাওনা ছিলেন। পাওনা টাকা চাইলে মেরাজুলের স্ত্রী কৌশলে তাকে টাকা দেওয়ার কথা বলে বেড়তলা নিয়ে যায়। সেখানে তাকে তারা মারধর করে মাথার চুল কেটে দেয়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সরাইল থানার ওসি মো. আসলাম হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা বিধবা নারীর চুল কাটা এবং সেই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার খবর পেয়েই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত চারজনকে আটক করি। এছাড়া রাতেই ঢাকা থেকে নির্যাতিতাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হই। আটকদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’
