নেত্রকোনা ও সিরাজগঞ্জে তিন মাদ্রাসাছাত্র শিক্ষকের যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। পৃথক দুই ঘটনায় দুই মাদ্রাসা শিক্ষককে আটক করা হয়েছে। এদিকে দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলায় এক প্রতিবন্ধী কিশোরী (১৫) ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় দিপু চন্দ্র রায় (৩৭) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গাজীপুর কোনাবাড়ি আমবাগ এলাকায় পাঁচ বছর বয়সী শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। বিস্তারিত আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে
নেত্রকোনায় দ্ইু ছাত্রকে যৌন নির্যাতন : নেত্রকোনার সদর উপজেলায় কুনিয়া মাইজপাড়া এলাকায় নয় ও সাত বছরের দুই ছাত্রকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে এক মাদ্রাসাশিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার দুপুরের দিকে কুনিয়া মাইজপাড়া তানকুল উলুম মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ মোবাশি^র (৩০) নামে ওই শিক্ষককে আটক করা হয়। অভিযুক্ত হাফেজ মোবাশি^র সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় টেকেরঘাট দক্ষিণপাড়া এলাকার মৃত আজমল হোসেনের ছেলে। দুই সন্তানের জনক তিনি।
জানা যায়, কুনিয়া মাইজপাড়া এলাকায় তানকুল উলুম নামে এলাকাবাসী নিজেদের অর্থায়নে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন। সাত-আট মাস আগে ওই মাদ্রাসার শিক্ষকতা পেশায় যোগদেন করেন অভিযুক্ত শিক্ষক। এলাকাবাসী তাকে পরিবারসহ থাকার জন্য ঘর তৈরি করে দেন। তিনি স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তান নিয়ে এখানে থেকে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দেন।
নেত্রকোনা মডেল থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ হাফেজ মোবাশি^রকে আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দুই শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকগণ থানায় এসেছেন। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।
সিরাজগঞ্জে ছাত্র যৌন নির্যাতনের শিকার : সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলা ও সলঙ্গা থানার নলকা ইউনিয়নের কুমাজপুর দারুল আবরার কওমি হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিশু ছাত্রকে (১২) প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যৌন নির্যাতন করেছে এক মাদ্রাসাশিক্ষক। তার নাম আবু রায়হান (২৪) গতকাল শুক্রবার ভোরে ঢাকার বাড্ডা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
সিরাজগঞ্জ র্যাব এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, রায়গঞ্জ উপজেলা ও সলঙ্গা থানার নলকা ইউনিয়নের নলছিয়া গ্রামের মাসুদ রানা তার ছেলেকে এক বছর আগে ওই মাদ্রাসায় ভর্তি করে। মাদ্রাসার আবাসিকে থেকে পড়ালেখা করার সুবাদে গত ১১ আগস্ট রাতে তাকে ভয় দেখিয়ে মাদ্রাসাশিক্ষক আবু রায়হান যৌন নির্যাতন করে। পরে সে বাড়ি চলে যেতে চাইলে তাকে ছুটি না দিয়ে আটকিয়ে রাখে। ১৯ আগস্ট মাদ্রাসা থেকে কৌশলে পালিয়ে বাড়ি গিয়ে সে বিষয়টি তার বাবা মাকে জানায়। এ বিষয়ে ওই মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির কাছে বিচার চেয়ে না পেয়ে শিশুর বাবা ২২ আগস্ট সলঙ্গা থানায় একটি মামলা করেন। এ মামলা সূত্রে সিরাজগঞ্জ র্যাব-১২ এর একটি দল ঢাকার ভাটারা থানার বাড্ডা এলাকা থেকে শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে সলঙ্গা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
দিনাজপুরে প্রতিবন্ধী কিশোরী ধর্ষণ : দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলায় এক প্রতিবন্ধী কিশোরী (১৫) ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় দিপু চন্দ্র রায় (৩৭) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। গতকাল শুক্রবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে তাকে বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বাড়ি চিরিরবন্দর উপজেলার পুনট্টি আশ্রমপাড়া এলাকায়।
চিরিরবন্দর থানার ওসি সুব্রত কুমার সরকার জানান, এই ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে এবং মামলার মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ভিকটিমকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহারে গ্রেপ্তারকৃত ছাড়াও আরও চারজনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলো- পুনট্টি পূর্বপাড়া এলাকার মৃত মনমোহন রায়ের ছেলে ব্রজেন নাথ রায় (৬০), পুনট্টি আশ্রমপাড়া এলাকার হিরেন্দ্র রায়ের ছেলে রাহুল চন্দ্র রায় (২৮), গোবিন্দপুর গ্রামের জেহের আলীর ছেলে মহসীন আলী (৪০) ও পুনট্টি গুচ্ছগ্রাম (গমিরাহাট) এলাকার তপন চন্দ্র শীলের স্ত্রী সুমিত্রা রানী (৩৩)।
গাজীপুরের পাঁচ বছরের শিশু ধর্ষণের শিকার : গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ি আমবাগ এলাকায় পাঁচ বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার ওই শিশুর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আমবাগ বাংলালিংক টাওয়ার এলাকা থেকে হেলাল উদ্দিন নামে ওই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বাড়ি নাটোরের সিংড়া উপজেলার ছোট চৌগ্রাম এলাকায়।
জিএমপি কোনাবাড়ী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম জানান, বৃহ¯পতিবার দুপুরে কোনাবাড়ী আমবাগ বাংলালিংক মোড় এলাকায় স্থানীয় মোক্তার হোসেনের বাড়ির ভাড়াটিয়া হেলাল উদ্দিন ওই শিশুকে বাসায় একা পেয়ে নিজের রুমে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে। রাতে শিশুটি তার মা-বাবা কে বিষয়টি জানায়। পরে শিশুর বাবা বাদী হয়ে জিএমপি কোনাবাড়ী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাতেই হেলাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
