এলডিসি-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা

স্থানীয় বাজারে সক্ষমতা বাড়াতে হবে

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২১, ০১:০৩ এএম

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্থানীয় বাজারের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি শুল্ক ও কর কাঠামোর যুগোপযোগীকরণ আবশ্যক। একই সঙ্গে অটোমেশন, পণ্য উৎপাদন ও সাপ্লাই চেইন ইকোসিস্টেমের উন্নয়ন, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, মানবসম্পদের দক্ষতা উন্নয়ন ও স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণসহায়তা জরুরি।

গতকাল শনিবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ-পরবর্তী সময়ের প্রস্তুতি, স্থানীয় বাজারের উন্নয়ন’ শীর্ষক ভার্চুয়াল সংলাপে এসব কথা উঠে আসে।

বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি দাস বলেন, এলডিসি-পরবর্তী সময়ে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের প্রদত্ত সরাসরি ভর্তুকিসহ নানা সুবিধা কমবে। এ অবস্থায় রপ্তানির বাজার সম্প্রসারণে আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরে গুরুত্ব দিতে হবে। এলডিসি-পরবর্তী সময়ে ব্যবসায়ীদের নগদ সহায়তা দিতে না পারলেও অন্যান্য পন্থায় সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

সংলাপে ডিসিসিআই সভাপতি রিজওয়ান রহমান বলেন, এলডিসি পরবর্তী সময়ে ২০২৬ সালের পর বাংলাদেশের রপ্তানির বাজারকে অনেক ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি শুল্ক-অশুল্ক প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হবে, যা স্থানীয় বাজারকে প্রভাবিত করবে। আমাদের জিডিপিতে কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য ও সেবা খাতের অবদান প্রায় ৬০ শতাংশ। এছাড়া ফ্যাশনওয়্যার, ফুটওয়্যার ও ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্যের চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে।

এ অবস্থায় শুল্ক ব্যবস্থাপনা, কর কাঠামো ও ভোক্তাদের আচরণ পরিবর্তন বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয় বাজারের উন্নয়ন, পণ্য উৎপাদন, সাপ্লাই চেইন ইকোসিস্টেম ও সর্বোপরি সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান ডিসিসিআই সভাপতি। স্থানীয় উদ্যোক্তাদের শক্তিশালী করতে ঋণ পরিশোধের সময়সীমা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক (গবেষণা) ড. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, কভিড-১৯ মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক বেশকিছু প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় উদ্যোক্তাদের সহায়তা দিয়েছে। সম্প্রতি ঘোষিত মুদ্রানীতিতে অনেকাংশেই সুদের হার কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে উদ্যোক্তারা স্বল্পসুদে আর্থিক সহায়তা পাবেন। তিনি জানান, পর্যটন খাতে করোনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ৫০০ কোটি টাকার একটি পুনঃঅর্থায়ন তহবিল ঘোষণা করা হবে।

বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সদস্য শাহ মো. আবু রায়হান আলবেরুনী বলেন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে আমাদের শুল্ক ও ট্যারিফ কাঠামো এবং নীতিমালায় প্রয়োজনীয় সংস্কার আবশ্যক। তিনি স্থানীয় বেকওয়ার্ড লিংকেজ খাতের উন্নয়নে উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান এবং জাপান ও কোরিয়ার উদাহরণকে অনুসরণ করে দেশের কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়নে জোর দেন।

ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল বাসার হাওলাদার বাংলাদেশের অবকাঠামোসহ অন্যান্য খাতে বিনিয়োগের জন্য স্বল্পসুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণসহায়তার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে রপ্তানি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ,  তৈরি পোশাকের পাশাপাশি অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতে সহযোগিতার প্রস্তাব করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত