ক্যানসার চিকিৎসায় দীর্ঘমেয়াদি ফলোআপ

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২১, ০১:২২ এএম

ক্যানসার চিকিৎসার সফলতা নির্ভর করে রোগীদের ফলোআপ ব্যবস্থার ওপর। ফলোআপ ক্যানসার চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ বা অধ্যায়। নির্ধারিত চিকিৎসা সম্পন্ন হওয়ার পর নির্দিষ্ট সময় অন্তর-অন্তর নিয়মিত ফলোআপ প্রয়োজন। আর এই ফলোআপ পরীক্ষার জন্য ক্যানসার চিকিৎসার স্বীকৃত কেন্দ্রগুলোতে রোগীকে যেতে হবে। ফলোআপ নির্ভর করে রোগের ধরন, প্রাপ্ত চিকিৎসা, রোগীর শারীরিক অবস্থা, সামাজিক, পারিপার্শ্বিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর। তবে সময়মতো চিকিৎসক ও ফলোআপে থাকলে আরোগ্য সম্ভব।

ফলোআপ করার সময়

রোগীর কোনো নতুন অভিযোগ থাকলে তা ডাক্তারকে জানাতে হবে। চিকিৎসা গ্রহণের আগের অবস্থার সঙ্গে বর্তমান অবস্থার তুলনা করে দেখতে হবে রোগী আগের থেকে কতটা ভালো হয়েছে। চিকিৎসকের উপদেশ অনুযায়ী শারীরিক পরীক্ষা করাতে হবে। প্রয়োজনীয় প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার দরকার হয়। ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী নির্দেশ মেনে চিকিৎসা চলতে থাকবে।

পুনর্বাসন

নির্ধারিত চিকিৎসা সম্পন্ন হওয়ার পর জীবন স্বাভাবিক ও সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক কাজকর্মে ফিরে আসার নামই পুনর্বাসন। ক্যানসার চিকিৎসার ক্ষেত্রে পুনর্বাসন একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সফল ক্যানসার চিকিৎসা রোগীর সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অক্ষত রেখে ফিরিয়ে দেয় সহজ স্বাভাবিক জীবন। তবে জীবন রক্ষার্থে কখনো কখনো অঙ্গহানিও ঘটে যায়। এসব রোগীর পুনর্বাসন কষ্টসাধ্য হলেও অঙ্গ প্রতিস্থাপন অনেক ক্ষেত্রেই সফল করা যায়।

প্রতিকার

ক্যানসারের অন্যতম উপায় হচ্ছে ধূমপান। ধূমপানের সঙ্গে ক্যানসার অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। বিশ্বে যত ধরনের ক্যানসার আছে, তার মধ্যে ৯০ শতাংশ ক্যানসারই ধূমপানের কারণে হয়। এ ছাড়া সূর্যের আলো শরীরে ভিটামিন-ডি-এর সঞ্চার হয় ও মেলানিনের সৃষ্টি হয়, যা আমাদের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়ায়। তবে সূর্যের তাপ নির্গত অতিবেগুনি রশ্মি আমাদের স্বাস্থ্য ও ত্বকের ওপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে, যা থেকে হয় স্কিন ক্যানসার। তাই সূর্যের তাপ থেকে শরীরকে বাঁচিয়ে চলুন। স্বাস্থ্যকর খাদ্যগ্রহণের অভ্যাস করতে হবে। শরীরের নানা রোগের পেছনে খাদ্যাভ্যাসের প্রত্যক্ষ প্রভাব রয়েছে। অনিয়মিত খাওয়া শরীরের জন্য ক্ষতিকর। প্রচুর পরিমাণে সবুজ শাকসবজি ও মৌসুমি ফল খান। ব্যায়াম ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়। নিয়মিত ব্যায়ামে শরীরের হরমোন প্রবাহ, কোষ বৃদ্ধির হার, ইনসুলিন সংবেদনশীলতা থাকে স্বাভাবিক। সেই সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ে। সুতরাং প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট শরীর চর্চার পেছনে সময় দিন। সব সময় কম আঁচে খাবার রান্না করুন। গবেষকরা বলেন, যারা অতিরিক্ত ভাজা-পোড়া জাতীয় খাবারে অভ্যস্ত, তাদের বেশির ভাগেই অগ্ন্যাশয়, কোলোরেক্টাল ও প্রোস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি থাকে। পরিবারের সদস্যদের পুরনো কোনো রোগ আছে কি না, সেই সম্বন্ধে আগে জানুন। প্রতি ছয় মাস পরপর অন্তত একবার হেলথ চেকআপ করান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত