সামনের লিগে শিরোপায় চোখ শেখ জামালের

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২১, ১২:১৩ এএম

২০০৯ থেকে ২০২১। এক যুগে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের শো-কেসে জায়গা পেয়েছে ফুটবল-ক্রিকেটের ২৩টি শিরোপা। সর্বশেষটি শেষ হতে চলা বাংলাদেশ প্রিমিয়ার ফুটবল লিগের রানার্সআপ হওয়া। অনামি স্থানীয়দের সঙ্গে চারজন ভালোমানের বিদেশি এনেই আবাহনী, সাইফ, চট্টগ্রাম আবাহনী, শেখ রাসেলকে টেক্কা দিয়ে চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংসের ঠিক পরের স্থানটা পেয়েছে তিনবারের সাবেক চ্যাম্পিয়নরা যা তাদের সামনে খুলে দিয়েছে সামনের বছর এএফসি কাপে খেলার অবারিত সুযোগ। সে সুযোগ নিতে হলে ক্লাব লাইসেন্সিংয়ের আনুষ্ঠানিকতা সাড়তে হবে তাদের। তবে এখনই এএফসি কাপ নিয়ে না ভেবে শেখ জামাল চোখ রাখছে সামনের মৌসুমের লিগ শিরোপার দিকে। ওমর জোবে, সলমন কিং, সুলেমান সিল্লাহ, ওতাবেকসহ স্থানীয় কয়েকজন ফুটবলারকে ধরে রেখে এবং দলের এবারের ঘাটতিগুলো পূরণ করে তারা চায় চতুর্থ লিগ শিরোপার স্বাদ পেতে। লক্ষ্য পূরণে সর্বোচ্চ চেষ্টার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ক্লাবটির প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ও গভর্নিং বডির বর্তমান চেয়ারম্যান মনজুর কাদের। গতকাল রানার্সআপশিপ উদযাপন করতেই ছোট পরিসরে খেলোয়াড়দের গুলশানে নিজ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে ডেকেছিলেন বর্ষীয়ান এই সংগঠক। রানার্সআপ হওয়ায় একটা আর্থিক বোনাসও তুলে দিয়েছেন খেলোয়াড়দের হাতে।

উদযাপন মঞ্চে মনজুর কাদেরের পাশে ছিলেন ক্লাবটির পরিচালক নজিব আহমেদ, ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান আশরাফউদ্দিন আহমেদ চুন্নু, ফুটবল দলের খ-কালীন কোচ মোশাররফ হোসেন বাদল, দলটির গাম্বিয়ান অধিনায়ক সলমন কিং, দলের ম্যানেজার আনোয়ারুল করিম হেলাল। মাঝারিমানের দল নিয়েও কঠিন একটা মৌসুমে দ্বিতীয় হওয়াটাকে বড় কৃতিত্ব হিসেবেই অভিহিত করেছেন সাবেক ফুটবল তারকা চুন্নুÑ ‘খেলোয়াড়, ক্লাব কর্মকর্তা, কোচিং স্টাফ, বল বয়, এমনকি যারা খাবার রান্নার দায়িত্বে ছিল প্রত্যেকেই এই কৃতিত্বের ভাগীদার। আরামবাগের কাছে হেরে যাওয়ার পর খুব ভেঙে পড়েছিলাম। এরপর অবশ্য ঘুরে দাঁড়িয়েছি। বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা জানাব চার বিদেশিকে, যারা ছিল আমাদের দলের প্রাণভোমরা। তিন বিদেশি মিলে করেছে ৪০ গোল। আশা করছি তারা সামনেও আমাদের ক্লাবেই খেলবেন। অন্য কোথাও যাওয়ার কথা ভাববেন না।’

সামনের মৌসুমে প্রিয় ক্লাবে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সলমন কিং বলেছেন, ‘এই সাফল্য সংঘবদ্ধ একটা ইউনিট হিসেবে খেলায়, এই খেলোয়াড়রা অনেক সম্মান প্রাপ্য। একেকজন লড়াকু সৈনিক। আমাদের দলে জাতীয় দলের খেলোয়াড় ছিল না। তারকা ছিল না। জার্নিটা অনেক কঠিন ছিল। আমরা সব বাধা হাতে হাত রেখে টপকে গেছি। বিশ্বাস ছিল আমরা একতাবদ্ধ থাকলে আমরা পারব। এটা একটা শুরু। সামনে আরও বড় কাজ, বড় লক্ষ্য। সামনের বছর আমরা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্যই ঝাঁপাব।’ লিগের পাঁচ ম্যাচ বাকি থাকতে হেড কোচ শফিকুল ইসলাম মানিককে বরখাস্ত করে ক্লাব। তার জায়গায় দলের দায়িত্ব দেওয়া হয় বাদলকে। কাল এই সাফল্যের সব কৃতিত্ব ভারপ্রাপ্ত কোচ দিয়েছেন খেলোয়াড়দের, ‘রানার্সআপ হওয়ার সব কৃতিত্ব আমাদের খেলোয়াড়দের। তারা জান-প্রাণ দিয়ে খেলেছে বলেই এই সাফল্য এসেছে।’

খেলোয়াড়দের ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি শেখ জামালের ১২ বছরের অতীতে অবদান রাখায় সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন মনজুর কাদের, ‘২০০৯ সালের ২৮ এপ্রিল প্রতিষ্ঠা করি ক্লাবটি। সেদিন ছিল আমার বাল্যবন্ধু বঙ্গবন্ধুপুত্র শেখ জামালের জন্মদিন। পাড়ার সবার সঙ্গে আলোচনা করে পাড়ার ছেলে জামালের নামে ক্লাবের নামকরণ করি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু প্রতি ঈদে উনি ঈদের জামাত পরতেন। একটা সময় ক্লাবের অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়ে গিয়েছিল। তখন হাল ধরেছিলাম অনেকের সহায়তা নিয়ে। তাই তো ১২ বছরে আমরা ২৩টি শিরোপা জিততে পেরেছি।’ শেখ জামাল ভবিষ্যতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দল গড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে কাদের বলেন, ‘চার বিদেশির খেলায় আমি মুগ্ধ ও তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। তারা আমাদের সঙ্গেই থাকবে বলে বিশ্বাস করি। তাদের হয়তো অনেকে প্রলোভন দেখাবে। কিন্তু তাতে টলা যাবে না। কারণ জামাল সব সময় শিরোপায় চোখ রেখে দল গড়ে। সামনে আমাদের লক্ষ্য থাকবে শিরোপা উদযাপন করা। এর জন্য আমরা আমাদের সব সামর্থ্য দিয়ে চেষ্টা করব।’

ব্যক্তিগত কারণে দেশের বাইরে থাকায় কাল অনুষ্ঠানে ছিলেন না ফুটবল কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল গাফফার। মালদ্বীপ থেকে ফোনে এই সাবেক ফুটবলার দলকে শুভ কামনা জানিয়েছেন, ‘দলের সব ফুটবল, কোচ ও কর্মকর্তাদের অনেক অনেক শুভকামনা জানাই। সবার মিলিত প্রচেষ্টায় একটা সাধারণ মানের দল হয়েও আমরা রানার্সআপ হয়েছি। সামনে আমাদের লক্ষ্য থাকবে শিরোপা জেতা।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত