ডিসিসিআইয়ের সংলাপে ব্রিটিশ হাইকমিশনার

বিনিয়োগ পেতে ব্যবসা পরিচালন সূচকে উন্নতি দরকার

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২১, ১২:২০ এএম

ব্রিটেনের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশি পণ্যে জিএসপি সুবিধা বহাল রাখার প্রস্তাব করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন খাতে ব্রিটিশ ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগও চেয়েছে বাণিজ্য সংগঠনটি। তবে বিনিয়োগ পেতে ‘ব্যবসা পরিচালন সূচক’-এ বাংলাদেশকে আরও উন্নতি করতে হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসন।

গতকাল রোববার ডিসিসিআই আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা : প্রেক্ষিত সেবা খাত’ শীর্ষক ভার্চুয়াল ডায়ালগে এই আহ্বান জানানো হয়। বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসন প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। 

ডায়ালগের স্বাগত বক্তব্যে ডিসিসিআই সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, ব্রেক্সিট যুক্তরাজ্যের জন্য বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনা উন্মোচন করেছে। বাংলাদেশের সেবা খাতসহ ব্যাংকিং, জ¦ালানি, অবকাঠামো, কেমিক্যাল, পর্যটন, মানবসম্পদের দক্ষতা উন্নয়ন প্রভৃতি খাতে ব্রিটিশ উদ্যোক্তারা আরও বেশি হারে বিনিয়োগে এগিয়ে আসবে বলে তিনি আশা করেন। ডিসিসিআই সভাপতি বাংলাদেশ ও ব্রিটেনের মধ্যকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর না হওয়া পর্যন্ত ব্রেক্সিট পরবর্তী সময়েও বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিতে জিএসপি সুবিধা বহাল রাখারও প্রস্তাব করেন।     

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসন বলেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে ‘ব্যবসা পরিচালনা সূচক’-এ বাংলাদেশের অবস্থান উন্নয়ন করতে হবে। এজন্য সরকার ও বেসরকারি খাত একযোগে কাজ করতে পারে। পাশাপাশি তিনি সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে জোরারোপ করেন।

হাইকমিশনার জানান, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের স্টার্টআপদের জন্য ব্রিটিশ ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্টদের বিনিয়োগপ্রাপ্তির সম্ভাবনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশের ব্রিটিশ দূতাবাস কাজ করছে। তিনি জানান, যুক্তরাজ্য বাংলাদেশে ২য় বৃহত্তম বিনিয়োগকারী দেশ। সামনের দিনগুলোতে বাংলাদেশের সেবা খাতসমূহ বিশেষ করে ব্যাংকিং, স্বাস্থ্য, তথ্যপ্রযুক্তি এবং শিক্ষা খাতে ব্রিটিশ বিনিয়োগের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। করোনা মহামারী পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের অর্থনীতির গতিধারা অব্যাহত রাখতে বেসরকারি বিনিয়োগ আরও বৃদ্ধি করতে হবে বলে রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসন মত প্রকাশ করেন।           

নির্ধারিত আলোচনায় বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক অথরিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকর্ণ কুমার ঘোষ বলেন, ইতিমধ্যে সারা দেশে ৮টি আইটি পার্ক বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে এবং চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ৪টির কাজ সম্পন্ন হবে। তিনি জানান, বাংলাদেশের হাইটেক পার্কসমূহে ইতিমধ্যে ১৬০টি দেশি-বিদেশি কোম্পানি বিনিয়োগ করেছে, যেখানে ২১ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরও জানান, দেশে প্রতি বছর ৩.৫ কোটি স্মার্ট নতুন মোবাইল ফোনের চাহিদা রয়েছে এবং স্থানীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় ৭৫ লাখ হ্যান্ডসেট উৎপাদন করে থাকে।

বেসিস-এর সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ ১.৩ বিলিয়ন, যুক্তরাজ্যে মোট রপ্তানির ১৩%। বর্তমানে বাংলাদেশে বিশে^র ৮০টি দেশে নিজেদের উৎপাদিত তথ্যপ্রযুক্তি, সফটওয়্যার রপ্তানি করছে। স্থানীয় বাজারের পরিমাণ ১.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশ প্রতি বছর ২২ হাজারের বেশি আইটি ইঞ্জিনিয়ার তৈরি করে থাকে এবং এ ধরনের মানবসম্পদ ব্যবহার করে ব্রিটিশ উদ্যোক্তারা তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ করতে পারে। 

এছাড়াও বাংলাদেশ সিমপ্রিন্টস টেকনোলোজি লিমিটেডের কান্ট্রি ডিরেক্টর মো. আসাদ-উর-রহমান নীল, জেনেক্স ইনফোসিস লিমিটেডের কো-ফাউন্ডার ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আদনান ইমরান এবং এমএফ এশিয়া লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফকির তানভীর আহমেদ প্রমুখ আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত