আলোচনা সভায় তথ্যমন্ত্রী

অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ জিয়ার নামে ঢাকায় কবর দেওয়া হয়

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২১, ০২:১০ এএম

চট্টগ্রাম থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ নিয়ে এসে ঢাকায় জিয়াউর রহমানের নামে কবর দেওয়া হয় বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, ‘ইতিহাস বিকৃতি এবং স্বাধীনতার পরাজিত অপশক্তিকে নিয়ে রাজনীতি চিরদিনের জন্য বন্ধ করতে হবে। স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃতি ঘটিয়েছে বিএনপি। লাশ নিয়ে কথা হচ্ছে। ঘটনার পর জিয়াউর রহমানের লাশ খুঁজে বের করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে রাঙ্গুনিয়ায় তিনটি কবরের মধ্য থেকে একটি লাশ জিয়াউর রহমানের নামে ঢাকায় এনে কবর দেওয়া হয়।’

গতকাল রবিবার জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫০ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও বঙ্গবন্ধুকে খাটো করার অপচেষ্টা ক্ষান্ত হয়নি। খলনায়কদের নায়ক বানানোর চেষ্টা করা হয়েছে। জিয়ার আহ্বানে নয়, বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামে তখন কর্মরত, সোয়াত জাহাজ থেকে অস্ত্র খালাস করার জন্য যাচ্ছিলেন। সোয়াত জাহাজ থেকে যেন অস্ত্র খালাস করতে না পারে, সে জন্য রাস্তায় ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছিল। বাধাগ্রস্ত হয়ে তিনি ফেরত আসেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ঘোষণা করার পর সমগ্র বাংলাদেশে তা প্রচার করা হয়। অনেকে মাইকিং করে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচার করেন। চট্টগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগ নেতারা ২৭ মার্চ মনে করেন, একজন সেনা সদস্য দিয়ে স্বাধীনতার ঘোষণাটি পাঠ করালে একটি যুদ্ধ যুদ্ধ ভাব মনে হবে। পরে ঘোষণা পাঠ করানোর জন্য জিয়াউর রহমানকে নিয়ে আসা হয়। প্রথমে ভুলভাবে পাঠ করেছিলেন জিয়াউর রহমান। প্রথমে নিজের নামে ভুলভাবে ঘোষণাপত্রটি উপস্থাপন করেছিলেন। পরে ‘অন বিহাফ অব’ কথাটি যুক্ত করে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। সেই রেকর্ড রয়েছে। তাছাড়া চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগ অফিসের বেয়ারা নুরুল হক জীবন হাতে নিয়ে মাইকিংয়ের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেছিলেন। স্বাধীনতা ঘোষণার বিষয়ে তাহলে নুরুল হককে কৃতিত্ব দেওয়া উচিত।’

বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আব্দুল হাইয়ের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ক্যাপ্টেন (অব.) এ বি তাজুল ইসলাম এমপি, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা সফিকুল বাহার মজুমদার টিপু, বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন পাহাড়ী, আওয়ামী লীগ নেতা এম এ করিম প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত