আলোচনা সভায় মন্ত্রী মোজাম্মেল

চন্দ্রিমা উদ্যান থেকে সরানো হবে জিয়ার কবর

আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০২১, ০১:৫৪ এএম

রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যান থেকে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবর সরানো হবে বলে আবারও মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ হত্যা রোধে করণীয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি আরও বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে ‘দালিলিক প্রমাণ’ থাকায় জিয়ার মুক্তিযুদ্ধের খেতাবও বাতিল করা হবে।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যাওয়ার পর গত নবম ও দশম জাতীয় সংসদের একাধিক বৈঠকে জাতীয় সংসদ এলাকা থেকে জিয়ার কবরসহ লুই আই কানের নকশাবহির্ভূত সব স্থাপনা সরানোর বিষয়ে কথা ওঠে। তখন বিএনপির পক্ষ থেকে প্রবল আপত্তি তোলা হয়েছিল। তবে ওই আলোচনা একসময় স্তিমিত হয়ে পড়েছিল। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক বক্তৃতায় বলেন, ওই কবরে জিয়ার লাশ নেই। এরপর আওয়ামী লীগ নেতাদের একই বক্তব্য এবং বিএনপি নেতাদের পাল্টা জবাবের মধ্যে গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের অনুষ্ঠানে এ প্রসঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রিসভার প্রবীণতম সদস্য মোজাম্মেল হক।

তিনি বলেন, ‘জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় নকশাবহির্ভূত শুধু জিয়ার কবরই না, আরও যত কবর আছে বা অন্য কিছু অবৈধ স্থাপনা, সব অপসারণ করতে হবে। সংসদের মূল নকশার বাইরে কোনো কিছু থাকা উচিত নয়। তা আইনবহির্ভূত।’

কবর ঢাকায় থাকতে হবে এমন কোনো কথা নেইমন্তব্য করে মোজাম্মেল বলেন, ‘জিয়ার লাশ কোথাও যদি থেকে থাকে, সেখানে গিয়ে তাকে সম্মান জানাতে পারে তার অনুসারীরা।

চন্দ্রিমা উদ্যানের কবরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়ার ‘লাশ নেই’ উল্লেখ করে প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা মোজাম্মেল বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের লাশ পাওয়া যায়নি। সেই কফিনের মধ্যে কী ছিল, মানুষ ছিল না অন্য কিছু ছিল সেটা আল্লাহ মালুম...জানি না। একটা কাঠের বাক্স সেখানে দাফন করেছে। সেই কবরে কোনো কিছু থেকে থাকে, তার ডিএনএ টেস্ট করে প্রমাণ করুন। যদি প্রমাণ হয় (জিয়ার লাশ রয়েছে), জাতির কাছে নাকে খত দিয়ে ক্ষমা চাইব।’

মুক্তিযুদ্ধকালীন জেড ফোর্সের অধিনায়ক জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের খেতাব বাতিল করা হবে জানিয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, ‘যদি কেউ জাতির পিতাকে হত্যা করে, আর তাকে শ্রেষ্ঠ সম্মান দেব, এমন সন্তান তো আমি হতে পারি না। তাই বঙ্গবন্ধুর কোনো হত্যাকারীরই খেতাব থাকতে পারে না।’

বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের খেতাব বাতিল করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান যে জড়িত ছিল সারকামস্টেনশিয়াল এভিডেন্স তো আছেই। দালিলিক প্রমাণ আছে সেটাও বলব। এখনো করিনি, অপেক্ষায় আছি প্রমাণ সাপেক্ষে।’

মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম কেন্দ্রীয় সংসদ ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের যৌথ আয়োজনে আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, মুক্তিযুদ্ধের সাব সেক্টর কমান্ডার মাহবুব উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম বক্তব্য দেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত