কৌশিক বসু তার “৫০-এ বাংলাদেশ” শিরোনামের একটি সম্পাদকীয় মতামতে মন্তব্য করেছিলেন, “আজ স্বাধীনতার অর্ধ-শতাব্দী উদযাপনের এই দিনে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক উন্নয়নের এমন এক রোল মডেল হয়ে উঠেছে, যা খুব কম মানুষই ভাবতে পেরেছে”। জাতি হিসেবে উদার ও মানবতাবাদী দৃষ্টিভঙ্গীর অধিকারী এবং জীবন সংগ্রামে হারা না মানা এক জনগোষ্ঠী নিয়ে বাংলাদেশ আজ দক্ষিণ এশিয়ার “অর্থনৈতিক ষাঁড়” হয়ে উঠেছে।
সেই ধারাবাহিকতায় অনাবাসী বাংলাদেশী উদ্যোক্তা মাহবুবুল মতিন তার জন্মভূমি দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে বিভিন্ন মহাদেশজুড়ে তরঙ্গ পাঠানো এবং তার দেশের পতাকা বহন করাকে নিজের জীবনের মিশন হিসাবে গ্রহণ করেছেন। দিল্লি, ঢাকা ও লন্ডনে শিক্ষিত এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত, অল্প বয়সেই একজন বিনিয়োগ ব্যাংকার এবং একজন স্ব-প্রতিষ্ঠ উদ্যোক্তা মাহবুবুল মতিন জন্মসূত্রে একজন বাংলাদেশী। তিনি অর্থনীতি এবং প্রযুক্তির একটি অনন্য মিশ্রণ নিয়ে এসেছেন, এবং তার প্রযুক্তি-সক্ষম গ্রুপ ডটলাইনস বিশ্বের ১১টি দেশের রাজধানীতে প্রভাব ও প্রবৃদ্ধির এক নতুন গল্প বুনছেন, এবং একটি কানেক্টেড ইকোসিস্টেমের নতুন নজির স্থাপন করছেন।
মাত্র ১৬ বছর আগে ২০০৫ সালে একটি ইউনিক ডোমেইনে নিজের উদ্যোগ শুরু করেছিলেন মতিন। স্থানীয় বাস্তবতা এবং সূক্ষ্মতাকে কাজে লাগিয়ে দেশীয়ভাবে বেড়ে ওঠা এই ইআরপি অবিলম্বে দেশের দ্রুত বর্ধনশীল লিজ অর্থায়ন খাতের সিংহভাগ অংশ দখল করে নেয়। এরপর তিনি তার উদ্যোক্তা জীবনের প্রথম দিনগুলিতে আরেকটি বাড়ন্ত খাতে মনোনিবেশ করেছিলেন- টেলিকম প্ল্যাটফর্ম এবং পরিষেবা। বাংলাদেশের টেলিকম খাতে অভূতপূর্ব প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি মতিনের স্বপ্নও বেড়ে উঠছিল। তিনি এবং তার টিম সময়মতোই মালয়েশিয়া ভিত্তিক একটি বড় বৈশ্বিক সংস্থার জন্য কাজ করার সুযোগ পেয়ে যান।
দূর-প্রাচ্যের প্রাণবন্ত প্রযুক্তি কেন্দ্রগুলির কাছাকাছি থাকায় তিনি সিঙ্গাপুরে ডটলাইনস নামের একটি কম্পানি প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেন এবং আইটি প্ল্যাটফর্মের উপর ভিত্তি করে একটি লিংকড ইকোলজি বা সংযুক্ত বাস্তুতন্ত্র স্থাপনের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। বাইরের দিক থেকে এটিকে বৈচিত্র্যময় মনে হতে পারে, তবে মূল অংশে, প্রতিটি উপাদান একটি অন্যটির সঙ্গে পুরোপুরি সংযুক্ত।
ডটলাইনের রয়েছে পিউরপ্লে কানেক্টিভিটি (কার্নিভাল ইন্টারনেট), যার মাধ্যমে এই কম্পানি নিরাপত্তা (Audra), দক্ষতা তৈরি (Ghoori Learning), বীমা ও ক্ষুদ্র আর্থিক সেবা (Carnival Assure ), পেমেন্টস (EasyPayWay, Foster Payments and Sohoj), লাইফস্টাইল (যেমন, BanglaCut) ), লজিস্টিকস এবং অনলাইন থেকে অফলাইন লেনদেন (eCourier and Carnival Point) ইত্যাদি খাতে সেবা দিয়ে থাকে। এর সমস্ত আন্তঃসংযুক্ত ইকোসিস্টেমগুলি শক্তিশালী ডিজিটাল পরিষেবা প্ল্যাটফর্ম এবং এআই চালিত রোবোটিক প্রসেস অটোমেশন সলিউশন (যেমন, Pulse) এর সাপোর্ট পায়। ডটলাইনস গ্রুপে বিশ্বজুড়ে এখন ১১০০ উদ্যমী কর্মীর নেতৃত্ব দিচ্ছেন মতিন।
ডটলাইনের সিস্টার কোম্পানি কার্নিভাল ইন্টারনেট গ্রামের পর গ্রামকে ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযুক্ত করে আধা-শহুরে এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেটের আসল স্বাদ দিয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের বৃহত্তম মিশন “গ্রাম হয়ে যাবে শহর” কার্নিভাল ইন্টারনেটের মিশনের সাথে নিখুঁতভাবে মিলে যায়। কার্নিভাল ইন্টারনেট ইতিমধ্যেই দেশের প্রধান প্রধান জেলার ৮০% এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। মতিন গর্বের সাথে আরো জানান, “আমাদের দেশের বর্তমান নেতৃত্বকে ধন্যবাদ যে গত দশ বছরে আমরা সকল সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচকে অভূতপূর্ব উন্নতি করেছি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, দেশের গ্রামীণ সেক্টরজুড়ে যে বিপুল পরিমাণ উন্নয়ন হয়েছে, তা বাংলাদেশকে শুধু দক্ষিণ এশিয়ায় নয়, সম্ভবত বিশ্বের সব উন্নয়নশীল দেশের জন্য একটি রোল মডেল করে তুলেছে”।
