করোনাভাইরাস প্রতিরোধে শুরু থেকেই টিকা নিতে অনীহা। এজন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা ছাড়াও টিকা নিতে আগ্রহী করে তুলতে উপহার সামগ্রী দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
জার্মানিতেও করোনা প্রতিরোধী টিকার প্রতি মানুষকে আগ্রহী করে তুলতে গত সোমবার অভিনব একটি কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। দেশটির রাজধানী বার্লিনে গোটা ট্রেনকে ‘টিকা ট্রেন’ হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয় এবং দিনভর সেখানে আসা যাত্রীদের টিকা দেওয়া হয় বলে খবর দিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস।
রেল কর্র্তৃপক্ষ জানায়, এস-বানে (ট্রেনে) তিন ঘণ্টায় অন্তত ১০০ জনকে জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকা দেওয়া হয়। আগে থেকেই নিবন্ধনধারীদের পাশাপাশি ট্রেনে উঠে তাৎক্ষণিকভাবে টিকা নেওয়া গেছে। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে বেশিরভাগ উৎপাদক প্রতিষ্ঠান দুটি ডোজ চালু করলেও জনসন অ্যান্ড জনসনের একটি ডোজই যথেষ্ট।
বার্লিনের ১৮ বছর বয়সী বাসিন্দা মাক্স কিৎজম্যান বলেন, ‘সত্যিই দারুণ আয়োজন। আমি প্রতিদিন এস-বানে চড়ি। এখানেই টিকা পাওয়ায় আমার জন্য সুবিধা হয়েছে। আমাকে সময় বের করে টিকা কেন্দ্রে যেতে হচ্ছে না। বিষয়টি খুবই সহজ। আমি স্টেশনে ভোরে স্টেশনে এসে এস-বানে উঠেছি। এরপর টিকা নেওয়া শেষ।’ করোনার সম্ভাব্য চতুর্থ ঢেউ সামলাতে জার্মান কর্র্তৃপক্ষ নাগরিকদের টিকাদানের ওপর জোর দিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে গত মাসে দিনে গড়ে ১০ লাখ মানুষকে টিকা দিয়েছে। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির তথ্যে, এখন পর্যন্ত জার্মানি তাদের ৬০ শতাংশ মানুষকে টিকা দিতে পেরেছে। অথচ হার্ড ইমিউনিটির জন্য ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকা দিতে হয়।
জার্মান রেলের মেডিকেল দলের প্রধান ডা. ক্রিস্টিয়ান গ্রাভার্ট বলেন, ‘অনেক মানুষ আছেন, যারা টিকার বিরোধী নন। কিন্তু নানা ব্যস্ততায় কেন্দ্র কিংবা চিকিৎসকের কাছে গিয়ে তাদের টিকা নেওয়া হয়ে ওঠেনি। তাদের জন্যই আমরা এই ব্যবস্থা করেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘টিকাদানের কারণে ট্রেন চলাচলে কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি। আগে আমি একইভাবে অ্যাপেনডিক্স অপসারণের কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছি। তারই আলোকে এবারের কর্মসূচি নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ছিলাম।’
