বিএনপির ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:৩৮ এএম

দরিদ্রদের বিনামূল্যে চিকিৎসা, পোস্টারিং, সংবাদপত্রে ক্রোড়পত্র প্রকাশসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে গতকাল বুধবার রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে দলের ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করেছে বিএনপি। সকালে নেতাকর্মীদের নিয়ে শেরেবাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিদেবন করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘গণতন্ত্রহীন বাংলাদেশ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং খালেদা জিয়ার মুক্তিকেই এখন বিএনপির কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।’

সংসদ অধিবেশন উপলক্ষে সকাল থেকে চন্দ্রিমা উদ্যানে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সাধারণের প্রবেশাধিকারে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। ফলে বিএনপির ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শ্রদ্ধা নিবেদনে নেতাকর্মীদের প্রবেশ করতে দেয়নি পুলিশ। সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে চন্দ্রিমা উদ্যানের প্রবেশপথ দিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসসহ ১০-১২ জন হেঁটে জিয়াউর রহমানের সমাধিস্থলে আসেন। আগে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের গাড়ি নিয়ে প্রবেশ করতে দিলেও এবার পুলিশ তা দেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা। এ বিষয়ে মির্জা ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, ‘আজকে আমাদের নেতাকর্মী নিয়ে আসতে দেওয়া হয়নি। সরকার বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। সম্পূর্ণভাবে তারা বিধিনিষেধ জারি করেছে। পুলিশ আগেই জানিয়ে দিয়েছে আজকে ৩০ জনের বেশি আসা যাবে না। এটা নাকি এখন তাদের (পুলিশ) কন্ট্রোলের মধ্যে নেই। আরও বড় নিরাপত্তার আন্ডারে চলে গেছে। এভাবে তারা বাধার সৃষ্টি করেছে, আমাদের বাধার সৃষ্টি করেছে।’

বিএনপির বাধার অভিযোগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তেজগাঁও জোনের এডিসি রুবাইয়াত জামান সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখানে বাধা দেওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। আপনারা (সাংবাদিকরা) উপস্থিত ছিলেন কারা কারা এসেছেন দেখেন। প্রত্যেকে কিন্তু বাধাহীনভাবে প্রবেশ করেছেন এবং শ্রদ্ধা নিবেদন করে চলে গেছেন। সুন্দরভাবে তারা তাদের কর্মসূচি সম্পন্ন করেছেন। আপনারা জানেন আজকে বিকেলে সংসদ অধিবেশন বসছে। এ জন্য ডিএমপির পক্ষ থেকে যে নির্দেশনা আছে, কিছু বিধিনিষেধ আছে, সেটা জেনেই তারা (বিএনপি) তাদের কর্মসূচি সম্পন্ন করেছেন।’

এরপর দুপুরে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ড্যাবের উদ্যোগে হেলফ ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন বিএনপি মহাসচিব। এ সময় ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক হারুন আল রশিদ ও মহাসচিব অধ্যাপক আব্দুস সালামসহ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা দুস্থ ও গরিব মানুষদের চিকিৎসাপত্র ও বিনামূল্যে ওষুধ দেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন।

‘কবরে জিয়াউর রহমানের মরদেহ আছে কি না, তা নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাদের সন্দেহের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এগুলোর উত্তর দেওয়াটা আমাদের পক্ষে কঠিন, ছোট মনে করি। নিকৃষ্ট, রুচিতে বাধে।’

সাংবাদিকদের সামনে দলের ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরতে গিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকে জনগণ ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আজকে নির্বাচন হয় না, নির্বাচন কমিশন একটা সম্পূর্ণ আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। পুরো প্রশাসনকে দলীয়করণ করা হয়েছে, বিচার বিভাগকে দলীয়করণ করা হয়েছে। সার্বিক অর্থে একটি ছদ্মবেশী একদলীয় স্বৈরাচারী ব্যবস্থা এখানে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি ৪৩ বছর লড়াই সংগ্রাম করেছে। লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়েই আজকে ৪৩ বছর পার করে ৪৪ বছরে পড়েছে। এখন বিএনপির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ, সেই চ্যালেঞ্জ হচ্ছেÑ দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা এবং গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গত এক যুগ আন্দোলন-সংগ্রামের কারণে আমাদের সারা দেশে ৩৫ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, ৫০০-এর অধিক নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে, সহস্রাধিক  নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। এ অবস্থার পরও বিএনপি আজকে নিঃসন্দেহে নিজের পায়ের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। সীমিত পরিসরের মধ্যেও বিএনপি তার কাজগুলো করছে। আমরা এই সীমিত পরিসরের মধ্যেও আমাদের দলকে সংগঠিত করছি এবং রাস্তায় জনগণের যে দাবিদাওয়া আছে তা নিয়ে আন্দোলন করছি। আমরা আশা করি, সামনের বছর এবং তার পরের বছরও নিঃসন্দেহে এ দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারব আমাদের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে।’

দেশে দলের প্রতিষ্ঠাতার অবদানের কথা তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘একদলীয় শাসনব্যবস্থা থেকে দেশকে মুক্ত করে জিয়াউর রহমান দেশে একটি বহুদলীয় গণতন্ত্রের মূল কাঠামো নির্মাণ, মুক্তবাজার অর্থনীতি চালু, বিভিন্ন অর্থনৈতিক সংস্কারসহ নানা কার্যক্রম শুরু করেন।’

এ সময় মির্জা ফখরুল ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস, যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন, খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, মহানগর বিএনপির উত্তরের সদস্য সচিব আমিনুল হক, দক্ষিণের রফিকুল আলম মনজু, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নিরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু প্রমুখ। পরে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় দলের স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু ও ঢাকা জেলার সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবু আশফাক উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত