বর্তমান নির্বাচন কমিশনের (ইসি) মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি। পরবর্তী ইসি গঠনে আওয়ামী লীগ সার্চ কমিটি গঠনের কথা বলে আসছে। তবে সার্চ কমিটি গঠনের ব্যাপারে বিএনপির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদকে কোনো প্রস্তাব দেওয়ার সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছেন দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দলটির নেতারা গতকাল শুক্রবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এবার নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে এক দফার আন্দোলনে যেতে পারি আমরা। নতুন ইসি গঠনে অতীতের মতো সার্চ কমিটির কাছে নাম দিয়ে রাষ্ট্রপতিকে চিঠি দিলে কোনো লাভ হবে না। তাই এবার নির্বাচনের আগে নিরপেক্ষ সরকার গঠন ও নিরপেক্ষ সরকার গঠনের পর তাদের মাধ্যমে নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের দিয়ে নতুন ইসি গঠন করতে হবে। এই দাবি নিয়ে রাজপথে নামতে পারি আমরা।’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ইসি গঠনে সার্চ কমিটিতে নাম দিয়ে রাষ্ট্রপতিকে চিঠি দেব কি না, সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তা ছাড়া অতীতে সার্চ কমিটিতে নাম দিয়েও কোনো লাভ হয়নি। সরকার যে কমিশন গঠন করেছিল, সেই কমিশন সরকারের কথাতেই চলেছে। তাই এবার চিঠি দেব কি না কিংবা অন্য কোনো পন্থায় অগ্রসর হব, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি। দলের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে সময়মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
এদিকে বিএনপির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নতুন ইসি গঠনের লক্ষ্যে বিএনপি রাষ্ট্রপতিকে চিঠি দেবে কি না, তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। কারণ আমরা মনে করছি, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকলে নতুন ইসি সঠিকভাবে কাজ করতে পারবে না। তাই নির্বাচনের আগে নিরপেক্ষ সরকার দরকার। সে জন্য বিএনপি আন্দোলন করবে। প্রয়োজনে এক দফার আন্দোলনে যাবে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য একটি কমিটি কাজ করছে পৃথকভাবে। তারা প্রস্তাবনা দিলে তা নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
তারা বলেন, ‘নতুন ইসি গঠন, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন আদায়ে সরকারবিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে বিরোধী সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলাপ করবে। এ জন্য ২০-দলীয় জোট, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টসহ জোটের বাইরের বিরোধী রাজনৈতিক দলের কাছেও চিঠি দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অতীতে আমরা সার্চ কমিটির নাম অন্তর্ভুক্ত করে চিঠি দিয়েছিলাম। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। এবার চিঠি দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত কিংবা আলোচনা হয়নি। তা ছাড়া আগামী দিনে সরকারবিরোধী আন্দোলনে সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের কাছে চিঠি দেওয়ার যে আলোচনা উঠছে, সে বিষয়েও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় থাকলে নতুন ইসি সংবিধান মোতাবেক দায়িত্ব পালন করতে পারবে না। বর্তমান ইসি তার প্রমাণ। সে ক্ষেত্রে নতুন ইসি গঠনে নাম প্রস্তাব করে রাষ্ট্রপতিকে চিঠি দিলে লাভ হবে কি না, তা ভেবে দেখা দরকার।’
সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোকে চিঠি দেওয়ার বিষয়ে দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রাষ্ট্রপতিকে চিঠি দেওয়া কিংবা সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের চিঠি দেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানি না। তা ছাড়া এখনো সময় আছে। সময় হলে বলা যাবে।’
তিনি বলেন, ‘সময় হলে দলের নেতাদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। তাদের চিঠি দেওয়া হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এ এক বিশাল কর্মযজ্ঞ।’
