চাকরিতে অজানা ঝুঁকি

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:২৩ এএম

যেকোনো সাফল্যেই ঝুঁকি আছে। কোথাও বেশি, কোথাও বা কম। চাকরিতেও ঝুঁকি আছে। কিন্তু কেন এই ঝুঁকি! কীভাবে ঝুঁকি কমাবেন। পরামর্শ দিলেন ব্রিজ ইনস্টিটিউট অব ট্রেনিং অ্যান্ড কনসালট্যান্সির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আখতারুজ্জামান

 ঝুঁকি মূলত ‘সমাধানের পথ না পাওয়ার কারণে’ বা ‘অচেনা সমাধান’ থেকেই উৎপত্তি। যা কিছু আবছা, অজানা, অস্পষ্ট এবং ধোঁয়াটে এর সবই ঝুঁকির কারণ। আর যদি সমাধান জানা থাকে! তাহলে ঝুঁকি নেওয়ার প্রশ্নই আসে না। সুতরাং যত অজানা তত ঝুঁকির নেওয়ার সম্ভাবনা। শুধু একবার সাহস করে এগিয়ে যান, জেনে নিন অজানা বিষয়টি। ব্যাস, ঝুঁকি কমে যাবে।

  অজানা বিষয় জানা হয়ে গেলেই অধিকাংশের ভেতর আত্মবিশ্বাস ফিরে আসে। কিন্তু কোনো কোনো ক্ষেত্রে ঠিক এর উল্টোটাও হয়। যখন অজানা ছিল তখন খুব সাহস ছিল, জানার পরে ভয় পেয়ে বসেছে। কিন্তু মনে রাখবেন এ ভয় খুবই সাময়িক। বরং সামনের দিকে অনন্তযাত্রার আগে শক্তি সঞ্চয়ের জন্য কিছুটা পিছিয়ে আসার মতো। দেখবেন ঝুঁকি নেওয়ার কারণগুলো আস্তে আস্তে কমে আসছে।

 যে নতুন দায়িত্বে বা পদে আপনাকে দেওয়া হচ্ছে তার দায়িত্ব ও কর্তব্যগুলো খুব ভালোভাবে বোঝার চেষ্টা করুন। যে দিকগুলো বুঝতে পারছেন না, সেগুলোর নোট নিন। নতুন দায়িত্ব পেয়েই ঝুঁকিমূলক কাজে হাত দেবেন না। ঝুঁকি নিলেও বুঝেশুনে নিন।

 নোট করা পয়েন্টগুলো নিয়ে ভাবুন, কাছের বন্ধুর বা পরিচিত পেশাদার কারও পরামর্শ নিন। আলোচনা করুন। যত বেশি আলোচনা করবেন, বিষয়টি পরিষ্কার হবে। আপনার ভয়ও কমতে শুরু করবে।

 অভিজ্ঞদের পরামর্শ নিন। ঝুঁকি কমাতে পরামর্শ নেওয়ায় নিজের ছোট হয়ে যাওয়ার কিছু নেই। বরং আপনি সফল হলে বাহবা আপনারই প্রাপ্য হবে। সংকোচ করবেন না। ঝুঁকি এড়ানোর সব পথে সমাধান খুঁজুন। শুভাকাক্সক্ষী এবং অভিজ্ঞরা অনেকভাবেই আপনাকে সাহায্য করতে পারেন।

 বর্তমান সময় ইন্টারনেটের। এমন কিছু খুঁজে পাওয়া খুবই মুশকিল। যার কিছু না কিছু আপনি ইন্টারনেটে পাবেন না। আপনার নতুন চাকরি বা দায়িত্ব সম্পর্কে তথ্য ও তত্ত্ব জেনে নিন। সাহস পাবেন। যে বিষয়ে ঝুঁকি নিতে হচ্ছে তার কেসস্টাডি দেখুন।

 টিভি প্রোগ্রাম, বই, পেশাভিত্তিক ম্যাগাজিন এসবও এখন অনেক কাজে লাগে। অনেক নতুন নতুন বিষয় জানা যায়, যা আপনার নতুন চাকরি, দায়িত্ব বা পেশা-সংক্রান্ত। মোট কথা, হাতের নাগালে যত সূত্র আছে তাকে ঠা-া মাথায় ব্যবহারের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।

 যা আগে কখনোই ছিল না, সেসব কাজ কী করে শুরু হয়েছিল? যার আগের কোনো তথ্য নেই, অভিজ্ঞতা আছে। এমন কোনো লোক নেই পরামর্শ নেওয়ার মতো। তাহলে উপায় কী? সে ক্ষেত্রে আপনি নিজের মেধা খাটিয়ে যা করবেন তা-ই মাইলফলক হয়ে থাকবে। ভুল হলেও তা শুদ্ধপথের ঠিকানা পাওয়ার সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। তাই তো বলে, ব্যর্থতাই সাফল্যের চাবিকাঠি। তাই প্রথম কাজগুলো সাহস করে ঝুঁকি নিয়েই করতে হয়। শুধু খেয়াল রাখতে হয়, বিফল হলে বিকল্প কী পথে ক্ষতি পোষানো যাবে।

 ভুল হলে ঘাবড়াবেন না। নতুন দায়িত্বে অনেকেই আপনার প্রতি স্বাভাবিকভাবেই সহানুভূতিশীল থাকবেন। আপনি শুধু একটি দিকেই খেয়াল রাখবেন যাতে এক ভুল একবারের বেশি না হয়। ভুল থেকে শিখুন, অন্যের ভুল দেখেও শিখুন।

 আত্মবিশ্বাস বাড়ান। এমন অনেক সমস্যা প্রত্যেকের কর্মজীবনেই কখনো না কখনো আসে। যেখানে আপনি কিছুই জানেন না, কিছুই কারও কাছ থেকে জানতেও পারছেন না। এমন সময় স্রেফ নিজের ওপর ভরসা রাখুন। আত্মবিশ্বাস ঝুঁকি কমায়। ভুল হতেই পারে, কিন্তু এই ভুল থেকে শিক্ষাই আপনার পরবর্তী ঝুঁকি কমিয়ে দেবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত