বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে আর কোনো নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা ইতিমধ্যে দিয়েছে বিএনপি। এ অবস্থায় বর্তমান সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে দল ভূমিকা রাখবে কি না, রাখলে কেমন ভূমিকা রাখবে সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সরকারের মনোভাব বোঝার পর দলীয় ফোরামে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বিএনপি। গতকাল শনিবার দেশ রূপান্তরকে এসব কথা বলেন দলটির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা। নতুন ইসি গঠনের বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এখনই আমরা এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেইনি। সময় হলে দলীয় ফোরামে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা বলেন, ‘আমরাই চাই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে একটি নিরপেক্ষ সরকার। আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে তা আদায়ের পর আমরা একটি নিরপেক্ষ ইসি গঠনে ভূমিকা রাখব। সেক্ষেত্রে আমলা নয়, আমরা সাবেক একজন বিচারপতিতে সিইসি হিসেবে দেখতে চাই। তবে এগুলো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। সরকারের মনোভাব বুঝে দলীয় ফোরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব আমরা। তবে সার্চ কমিটির কাছে নাম দেওয়ার সম্ভাবনা এবার নেই বললেই চলে। শেষ পর্যন্ত দিলেও সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে একই নাম প্রস্তাব করার সম্ভাবনা কম।’
তারা আরও বলেন, ‘গত ১২ বছরে দুটি জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপির এক অভিজ্ঞতা হয়েছে যে, বর্তমান নির্বাচন কমিশন (ইসি) আসলে একটি নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু নির্বাচন করতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। সরকার জনগণের ভোটাধিকার যে হরণ করেছে তার বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আমরা দেখেছি ইসি সেখানে সহযোগীর ভূমিকা পালন করেছে। সেই কারণে আমরা মনে করি এই ইসির অধীনে, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনই অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠুভাবে হতে পারে না। সেই কারণে বর্তমান সরকারের অধীনে বা বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনো নির্বাচনে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। আমরা একটি নির্দলীয়, নিরপেক্ষ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন চাই। সেই সরকারকে যেই নামেই ডাকা হোক না কেন। আমরা দলনিরপেক্ষ সরকার চাই। দলনিরপেক্ষ এবং সরকারের প্রভাবমুক্ত একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন চাই।’ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমলা নয়, বিচার বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের মধ্য থেকে একজনকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) নিয়োগ দিলে ভালো হবে। বিগত দিনে সার্চ কমিটি গঠন করে রাষ্ট্রপতি নাম প্রস্তাব করেছিলেন রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে। কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয়নি। কারণ রাষ্ট্রপতি সরকারের বাইরে যেতে পারে না। তাই বিএনপির এবার প্রত্যাশা থাকবে সাবেক বিচারপতিদের মধ্য থেকে কাউকে সিইসি নিয়োগ দেওয়া হোক।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থায়ী কমিটির এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সিইসি কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বে বর্তমানে যে কমিশন আছে সে কমিশন গঠনের আগে বিএনপির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের সঙ্গে বৈঠক করেছিল দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল। সার্চ কমিটিতে নামও প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল সরকার তার পছন্দের লোক দিয়ে কমিটি গঠন করে।’
কেমন নির্বাচন কমিশন চায় বিএনপি জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন নিয়ে বিএনপিতে এখনো অফিসিয়ালি কোনো আলোচনা শুরু হয়নি। এখনো অনেক সময় বাকি। সময় হলেই দল কাজ শুরু করবে।’ তিনি বলেন, ‘বর্তমান কমিশন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন দূরের কথা বরং সরকারের আজ্ঞাবাহী হিসেবে কাজ করেছে। বিগত দিনে বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচনের আগে দফায় দফায় সরকারি দলের প্রার্থীদের নির্বাচনী আইন ভঙ্গ, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকাসহ বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ করা হলেও তারা কোনো সুরাহা করতে পারেনি। তাই নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের বিএনপি অভিজ্ঞতার আলোকে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।’
