পঞ্চম অধ্যায়
বাংলাদেশের নদ-নদী ও প্রাকৃতিক সম্পদ
সৃজনশীল
১. কাদির ঢাকা থেকে নৌপথে নানাবাড়ি কুষ্টিয়া যাচ্ছিল। কুষ্টিয়া যাওয়ার পথে লঞ্চটি ডুবোচরে আটকা পড়লে নদীবক্ষেই রাত কাটাতে বাধ্য হলো। কুষ্টিয়া গিয়ে দেখল নদীগর্ভে অনেক বাড়িঘর বিলীন হয়ে গিয়েছে।
ক. বাংলাদেশের নৌপথের দৈর্ঘ্য কত কিলোমিটার?
খ. পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা বলতে কী বোঝায়?
গ. কাদিরের ব্যবহৃত প্রধান নদীটির গতিপথ ব্যাখ্যা করো।
ঘ. অনুচ্ছেদে উল্লিখিত সংকটটি নিরসনে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে? তোমার মতামত দাও।
উত্তর
ক. বাংলাদেশের নৌপথের দৈর্ঘ্য ৯৮৩৩ কিলোমিটার।
খ. পানির পরিকল্পিত প্রাপ্যতা ও ব্যবহারকে পানি ব্যবস্থাপনা বলা হয়। শীত ও শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে পরিকল্পিতভাবে পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করার মাধ্যমে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা করা যায়। কৃষি, মৎস্য, পরিবহন, শিল্প এবং গৃহস্থালিতে পানি ব্যবহারে সুবিবেচনার পরিচয় দেওয়ার মাধ্যমে এ থেকে সর্বোচ্চ উপযোগ সৃষ্টি করা এবং পানির অপচয় ও দূষণরোধ করা পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার মূল লক্ষ্য। টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা এবং ব্যবহার নিশ্চিত করা পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার মূল আলোচ্য বিষয়।
গ. উদ্দীপকের কাদির ঢাকা থেকে কুষ্টিয়া যাওয়ার নৌপথে প্রধানত যে নদীটি ব্যবহার করেছে তা হলো পদ্মা নদী। পদ্মা নদী ভারত ও ভারতের উত্তরবঙ্গে গঙ্গা এবং বাংলাদেশে পদ্মা নামে পরিচিত। এর উৎপত্তিস্থল মধ্য হিমালয়ের গাঙ্গোত্রী হিমবাহে। উত্তর ভারতের কয়েকটি রাজ্য অতিক্রম করে গঙ্গা বাংলাদেশের রাজশাহী জেলায় প্রবেশ করেছে। গোয়ালন্দের কাছে ব্রহ্মপুত্রের প্রধানধারা যমুনার সঙ্গে মিলিত হয়েছে। পদ্মা নদী কুষ্টিয়া জেলার পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এটি আরও দক্ষিণে চাঁদপুরের কাছে মেঘনায় পতিত হয়েছে। পদ্মা-মেঘনার যৌথপ্রবাহ মেঘনা নামে নোয়াখালী বরিশাল হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
ঘ. উদ্দীপকের কাদির কুষ্টিয়া যাওয়ার পথে ডুবোচরে আটকা পড়ে এবং কুষ্টিয়া গিয়ে দেখে অনেক বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গিয়েছে। যা নদীর নাব্য হ্রাস ও নদীভাঙনকে নির্দেশ করে। এ সমস্যা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্তরায়। নদীর তলদেশে পলি জমা এবং উজানে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ার দরুন নদীর নাব্য হ্রাস পায়। ফলে নদীতে পরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যায় না। একই সঙ্গে নদীতে প্রচুর চর জেগে ওঠে এবং কৃষিকাজের প্রয়োজনীয় পানি পাওয়া যায় না। আবার একই চর পড়ার কারণে নদীর পানি ধারণক্ষমতা কমে যায়। ফলে বর্ষাকালে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। একই কারণে নদীর ভাঙন হয়। নদীর ভাঙনের ফলে কৃষিজমি, গ্রাম, শহর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিল্প-কারখানাসহ সবকিছু নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। নদীর নাব্য সংকট এবং নদীভাঙনের দরুন বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। অসংখ্য পরিবার বাস্তুভিটা থেকে উৎখাত হয়। সহায় সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যায়। এসব মানুষ শহরে এসে বস্তিতে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হয়। শহরের ওপর চাপ বাড়ে, সামাজিক অবক্ষয় বাড়ে। সামগ্রিকভাবে নদীর এরূপ প্রতিকূল প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
