গণটিকাদান কর্মসূচি

দ্বিতীয় ডোজ আজ থেকে শুরু

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:০৮ এএম

দেশে করোনার গণটিকাদান কর্মসূচির দ্বিতীয় ডোজ আজ থেকে শুরু হচ্ছে। সারা দেশে এক সপ্তাহ এ কার্যক্রম চললেও ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় টিকাদানের সময় তিন দিন করা হয়েছে। প্রথম ডোজের মতো দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে গণটিকার আদলেই। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলবে। প্রতিটি ইউনিয়ন, সিটি করপোরেশন, পৌরসভাসহ দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে আগের কেন্দ্রগুলোতেই দ্বিতীয় ডোজ টিকা পাবে মানুষ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে প্রথম ডোজ টিকা নেওয়া প্রত্যেককে দ্বিতীয় ডোজের জন্য আগেভাগেই খুদে বার্তা পাঠানো হয়েছে। সে অনুযায়ী নির্দিষ্ট তারিখ ও আগের কেন্দ্রে (প্রথম ডোজ যে কেন্দ্রে নিয়েছিলেন) গিয়ে প্রত্যেকেই টিকা নিতে পারবেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গণটিকাদান কর্মসূচির দ্বিতীয় ডোজ দিতে প্রথম ডোজের কেন্দ্রগুলো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য চালু করা হবে এবং টিকাদান শেষে আবার বন্ধ হয়ে যাবে। এ সময়ের মধ্যেই প্রথম ডোজ নেওয়া প্রত্যেককে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে। পরে স্থায়ী কেন্দ্র যেগুলো আছে, সেগুলোয় আগের মতোই টিকাদান কর্মসূচি চলবে।

ঢাকার দুই সিটিতে টিকাদান তিন দিন :  ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় টিকাদানের সময় কমিয়ে তিন দিন করা হয়েছে। গতকাল বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউসের সভাপতিত্বে কভিড-১৯ গণটিকা কার্যক্রমের আওতায় দ্বিতীয় ডোজ প্রদানের লক্ষ্যে একটি ভিডিও কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভা শেষে গতকাল রাতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রধান অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, আগামীকাল (আজ) থেকে দেশব্যাপী কভিড-১৯-এর দ্বিতীয় ডোজ গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। এর মধ্যে শুধু ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় টিকাদানের সময় পরিবর্তন করা হয়েছে। অন্যান্য এলাকায় টিকাদান কর্মসূচি আগের মতোই চলবে। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগস্টের ৭ ও ৮ তারিখে যারা প্রথম ডোজ টিকা গ্রহণ করেছেন, তারা একই কেন্দ্রে ৭ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণ করবেন। অনুরূপভাবে যারা আগস্টের ৯ ও ১০ তারিখে টিকা গ্রহণ করেছিলেন তারা ৮ সেপ্টেম্বর এবং যারা ১১ ও ১২ আগস্ট তারা ৯ সেপ্টেম্বর একই কেন্দ্রে দ্বিতীয় ডোজ টিকা গ্রহণ করবেন। দেশের অন্যান্য এলাকায় যারা যে কেন্দ্রে প্রথম ডোজ গ্রহণ করেছিলেন, প্রত্যেকেই একই কেন্দ্রে ৭ সেপ্টেম্বর থেকে দ্বিতীয় ডোজ টিকা নেবেন।

এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের টিকা কর্মসূচির পরিচালক ডা. শামসুল হক বলেন, আগামীকাল (আজ) থেকে গণটিকাদান কর্মসূচির দ্বিতীয় ডোজ প্রয়োগ শুরু হবে। এ ক্ষেত্রে প্রথম ডোজের টিকা যে কেন্দ্রে নিয়েছেন, সেই কেন্দ্রে গিয়েই দ্বিতীয় ডোজের টিকা নিতে হবে। অবশ্যই সবাইকে টিকা কার্ড নিয়ে আসতে হবে। এ কর্মসূচিতে প্রথম দুই ঘণ্টায় টিকা গ্রহণে অগ্রাধিকার পাবেন বয়োজ্যেষ্ঠ ও নারীরা। সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত প্রথম দুই ঘণ্টা সিনিয়র সিটিজেন ও নারীদের টিকা দেওয়ার পর অন্যদের টিকা দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, দ্বিতীয় ডোজের টিকা ক্যাম্পেইনের সময় আমাদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিও চলবে। নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোতে প্রথম এবং দ্বিতীয় টিকা স্বাস্থ্যকর্মীরা দেবেন। আগের তুলনায় দ্বিতীয় ডোজের ক্ষেত্রেও আমরা সফলভাবে টিকা কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারব। গণটিকা কর্মসূচির দ্বিতীয় ডোজের জন্য ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলায় পর্যাপ্ত টিকা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় টিকাও মজুদ রয়েছে সরকারের কাছে বলে জানান তিনি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, কতগুলো উদ্দেশ্য নিয়ে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছিল। একসঙ্গে অনেক মানুষকে টিকা দেওয়া, আমাদের সক্ষমতা যাচাই, টিকা নেওয়ার জন্য জনগণকে উদ্বুদ্ধ করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য। সে জন্যই এই কর্মসূচির বেশিরভাগ টিকা দেওয়া হয়েছে গ্রামপর্যায়ে। কারণ  গ্রামের মানুষের টিকার প্রতি আগ্রহ ছিল কম। তাদের টিকাকেন্দ্রে আনা যায়নি। এ কারণে আমরা এক দিনে অনেক মানুষকে টিকা দিয়েছি। এটা করতে পেরেছি বলেই এখন টিকার জন্য নিবন্ধনও বেড়েছে ও টিকার প্রতি মানুষের আগ্রহ জন্মেছে।

গণটিকার ছয় দিনে টিকা নেন ৪৮ লাখ : এই ছয় দিনে মোট টিকা নিয়েছেন ৪৭ লাখ ৪৮ হাজার ২২৭ জন। এর মধ্যে সিনোফার্মের টিকা নিয়েছেন ৩৫ লাখ ৩৯ হাজার ৫২ ও মডার্নার টিকা নিয়েছেন ১২ লাখ ৪৫ হাজার ১৭৫ জন।

গতকাল সোমবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, এ মাস থেকে করোনা প্রতিরোধী টিকা দেওয়ার কার্যক্রম আরও বেগবান হবে। এ মাসেই আড়াই কোটি টিকা পাওয়া যাবে। এর মধ্যে ২ কোটি সিনোফার্মের এবং বাকি ৫০ লাখ ফাইজারের টিকা আসবে।

যেভাবে চলে গণটিকা : কর্মসূচি ৭ থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত চলে। এই ছয় দিনে ৩২ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করেছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তবে শেষ পর্যন্ত এর চেয়েও বেশিসংখ্যক মানুষকে টিকা দেওয়া হয়েছে। এ সময় ২৫ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী মানুষ জাতীয় পরিচয়পত্রের পাশাপাশি জন্মনিবন্ধন সনদ দিয়েও টিকা নেন। যারা আগে থেকেই টিকার নিবন্ধন করতে পারেননি, কেন্দ্রে তাদের জন্য নিবন্ধনের ব্যবস্থা ছিল। এর আগে এই ছয় দিনের গণটিকাদান কর্মসূচিতে ১ কোটি মানুষকে টিকা দেওয়ার ঘোষণা দিলেও পরে তা ৩২ লাখে কমিয়ে আনে সরকার। পাশাপাশি ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সীদের টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাদ দেওয়া হয়। এ সময় সারা দেশে ৪ হাজার ৬০০টি ইউনিয়ন, ১ হাজার ৫৪টি পৌরসভা, সিটি করপোশেন এলাকার ৪৩৩টি ওয়ার্ডে এই বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি চলে। ১৫ হাজারের বেশি টিকাদান কেন্দ্রে ৩২ হাজার ৭০৬ জন টিকাদানকারী এবং ৪৮ হাজার ৪৫৯ জন স্বেচ্ছাসেবী এই কর্মসূচিতে যুক্ত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত