ঢাকার চারপাশে এলিভেটেড সার্কুলার রোড বা চক্রাকার উড়াল সড়ক তৈরির নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘মাটিতে যেহেতু জায়গা কম সেহেতু এলিভেটেড হলে ভালো হবে।’
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গণভবন থেকে যুক্ত হয়ে এ নির্দেশনা দেন একনেকের চেয়ারপারসন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা ও বালু নদীর তীরভূমিতে পিলার স্থাপন, তীররক্ষা, ওয়াকওয়ে ও জেটিসহ আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণ (দ্বিতীয় পর্যায়, প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প অনুমোদনের সময় ঢাকার চারপাশে এলিভেটেড ওয়ে নির্মাণ করতে সংশ্লিষ্টদের এ নির্দেশনা দেন তিনি। সভাশেষে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম।
প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন তুলে ধরে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম বলেন, ‘ঢাকার চারপাশে এলিভেটেড ওয়ে করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। কারণ ঢাকার চারপাশে জমি কম। যাতে করে সদরঘাট ও ওয়াইজঘাটের মতো অবস্থা না হয়, সেই জন্য ঢাকার চারপাশে এলিভেটেড ওয়ে নির্মাণ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন।’
এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাধিক দিকনির্দেশনা দিয়ে বলেছেন পরিছন্নতাকর্মীদের বংশানুক্রমিকভাবে চাকরির ব্যবস্থার কথা। এছাড়া তাদের কাছ থেকে ফ্ল্যাট ভাড়া না নেওয়ারও দিকনির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। এছাড়া উপকূলীয় অঞ্চলে বাঁধ কাটা রোধে এখন থেকে বাঁধ নির্মাণে আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা রাখার দিকনির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। যাতে চিংড়ি চাষের জন্য যখন ঘের মালিকদের পানির প্রয়োজন হবে তখন নেবে। আবার যদি না প্রয়োজন হয়, তখন পানি বের করে দেবে।’
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘সভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার রংপুর স্থাপন প্রকল্প অনুমোদন দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এই নভোথিয়েটারটি যেন শহরের প্রাণকেন্দ্র না হয়ে একটু ফাঁকা জায়গায় হয়, যাতে করে মানুষ এখানে বিনোদনের জন্যও আসতে পারে। এসময় তিনি ঢাকার নভোথিয়েটারের আদলে এটি নির্মাণ করার দিকনির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এলসি স্টেশনগুলোতে বডি ও মালামাল স্ক্যানার বসাতে হবে। নদীগুলো নিয়মিত মেইনটেন্যান্স ড্রেজিং ও ক্যাপিটাল ড্রেজিং করতে হবে। এছাড়া নদীর ধারে অবস্থিত শিল্পকারখানার বর্জ্য যাতে নদীতে ফেলা না হয় সেদিকে নজর রাখতে হবে। শিল্প-কারখানাগুলোতে ইটিপি স্থাপন করতে হবে।’
ব্রিফিংয়ে এক্সসিলারেটিং অ্যান্ড স্ট্রেনদেনিং স্কিলস ফর ইকোনমিক ট্রান্সফরমেশন প্রকল্প প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দক্ষতার অনেক অভাব রয়েছে। আর সেই দক্ষতার ঘাটতি পূরণ করতে এই প্রকল্পের আওতায় আমাদের যুবসমাজ, নারী ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে কর্মসংস্থানের উপযোগী ও চাহিদাভিত্তিক কর্মীবাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এছাড়া এর আওতায় কনসালট্যান্সি, সেমিনার ও কনফারেন্স, আইসিটি সরঞ্জাম, কম্পিউটারসামগ্রী ক্রয়, অফিস সরঞ্জামাদি, আসবাবপত্র, অন্যান্য যন্ত্রপাতি ক্রয়, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ সেক্টরে কভিড-১৯ মোকাবিলাসংক্রান্ত সচেতনতা সৃষ্টিতে সহায়তা দেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মশুরের ডালে আমাদের নির্ভরশীলতা অনেক বেশি। ডাল আমাদের আমদানিও করতে হয়। আমরা আমাদের ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে একটি প্রকল্পও নিয়েছি, যাতে করে আমরা ডালেও স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারি।’
ব্রিফিংয়ে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য মামুন-আল-রশীদ, আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য মোসাম্মৎ নাসিমা বেগম, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মোহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী এবং আইএমইডির সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তীসহ পরিকল্পনা কমিশনের অন্য সদস্যরা।
