নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ

হাসেম ফুডে আগুনে পোড়া আরও দুজনের দেহাবশেষ উদ্ধার

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:০৫ এএম

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাসেম ফুডস অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের দুই মাসের মাথায় কারখানা ভবনে তল্লাশি চালিয়ে আরও দুজনের পোড়া হাড় ও মাথার চুল উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) কারখানাটির আরও তিন শ্রমিক নিখোঁজের তথ্য তাদের স্বজনদের কাছ থেকে পাওয়ার পর গতকাল মঙ্গলবার সেখানে নতুন করে তল্লাশি চালানো হয়।

জানা গেছে, নিখোঁজ তিন শ্রমিককে খুঁজে বের করতে তাদের স্বজনরা সিআইডির কাছে আবেদন করেন। এরপর গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে কারখানার চতুর্থ তলায় তল্লাশি অভিযান চালিয়ে দুজনের পোড়া হাড় ও মাথার চুল উদ্ধার করেছেন সিআইডি ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা। গতকাল সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) জায়েদুল আলম।

নারায়ণগঞ্জ সিআইডির সুপার দেলোয়ার হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তিন শ্রমিক এখনো নিখোঁজ রয়েছে বলে তাদের পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে আমরা ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় তল্লাশি শুরু করি। চতুর্থ তলা থেকে হাড়ের অংশ উদ্ধার করেছি। এগুলো ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

নারায়ণগঞ্জ সিআইডির জ্যেষ্ঠ সহকারী সুপার হারুন উর রশীদ জানান, হাসেম ফুডস অ্যান্ড বেভারেজে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৪৫ জনের মরদেহ ইতিমধ্যে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি তিনটি মরদেহ হাসপাতালে রয়েছে। সেগুলো শনাক্ত করার জন্য তাদের স্বজনরা ডিএনএ নমুনা দিয়েছেন। এরই মধ্যে নতুন করে তিন শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছে বলে তাদের পরিবারের সদস্যরা আবেদন করেন। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে গতকাল ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সহযোগিতায় ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালনো হয়।

এই সিআইডি কর্মকর্তা আরও জানান, হাসেম ফুডস কারখানা ভবনের চতুর্থ তলার মেঝের তিন জায়গা থেকে নতুন করে মানবদেহের অংশবিশেষ ও মাথার চুল পাওয়া গেছে।

জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) জায়েদুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি শুনেছি দুটো কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করছে সিআইডি।’

গত ৮ জুলাই হাসেম ফুডস কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অর্ধশতাধিক শ্রমিক নিহত হন। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর আলাদা তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কারখানাটির নানা অনিয়মের চিত্র তুলে ধরা হয় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে মালিকপক্ষের অবহেলার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছিল। ওই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে কারখানার মালিক আবুল হাসেম ও তার চার ছেলেসহ আটজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করে। পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারের পর চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে আদালত থেকে তারা জামিনে বের হয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত