সরকারি গভীর নলকূপ তুলে বেচে দিলেন আ.লীগ নেতা!

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:৪১ এএম

গাজীপুরে কৃষকদের স্বল্প খরচে সেচ সুবিধার জন্য সরকারের দেওয়া গভীর নলকূপ তুলে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। এলাকাবাসী বলছে, সদর উপজেলার বাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রার্থী সেলিম খান মাস ছয়েক আগে প্রথমে ওই গভীর নলকূপটির সব পাইপ তুলে বিক্রি করেন। সর্বশেষ গত ২৯ আগস্ট তিনি ইঞ্জিনসহ নলকূপের অন্যান্য যন্ত্রাংশ ও মালামাল প্রকাশ্যে তুলে নিয়ে বিক্রি করে দেন। এদিকে নলকূপ তুলে বিক্রির সময় বিষয়টি এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) ক্ষুদ্র সেচ বিভাগের গাজীপুর সদর জোনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে জানানো হয়। কিন্তু ১১ দিন পার হলেও এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো আইনগত পদক্ষেপ নেয়নি বিএডিসি।

নলকূপ তুলে বিক্রি করে দেওয়া সেলিম খান বাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য। তিনি ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আসন্ন সম্মেলনে সভাপতি প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। সেলিম খান বাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা মো. হাবিবুর রহমান হাবিব খানের চাচাতো ভাই এবং কুমুনবাজার উত্তরপাড়া জামে মসজিদের সাধারণ সম্পাদক।

জানা গেছে, কৃষকদের স্বল্প খরচে সেচ সুবিধা দেওয়ার জন্য ১৯৭৬ সালে গাজীপুর সদর উপজেলার বাড়িয়া ইউনিয়নের কুমুন গ্রামে গভীর নলকূপটি স্থাপন করে বিএডিসি। এটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় ‘কুমুন কৃষক সমবায় সমিতি’র ব্যবস্থাপক রমিজউদ্দিন খানকে। ওই সময় নলকূপটির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ৬৫ হাজার ৫০০ টাকা। সমিতির সদস্যদের কিস্তিতে পাঁচ বছরে সেই টাকা পরিশোধের কথা ছিল। কিন্তু ৪৫ বছরে পরিশোধ করা হয় মাত্র ২৪ হাজার টাকা।

কুমুন গ্রামের একাধিক বাসিন্দা দেশ রূপান্তরকে জানান, ১০-১২ বছর ধরে নলকূপটি অব্যবহৃত ছিল। আওয়ামী লীগ নেতা সেলিম খান আনুমানিক ছয় মাস আগে প্রথমে নলকূপটির মূল্যবান পাইপ তুলে বিক্রি করেন। সর্বশেষ গত ২৯ আগস্ট তিনি ইঞ্জিনসহ নলকূপের অন্যান্য যন্ত্রাংশ ও মালামাল প্রকাশ্যে তুলে নিয়ে বিক্রি করে দেন।

এ প্রসঙ্গে কুমুন গ্রামের বাসিন্দা রাসেল খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নলকূপ তুলে নেওয়ার সময় বিএডিসির সদর জোনের কর্মকর্তা উপসহকারী প্রকৌশলী মো. জুয়েল মিয়াকে জানানো হয়। তিনি পরদিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নলকূপ তুলে নেওয়ার ঘটনায় মামলা করবেন বলে জানান। কিন্তু ১১ দিন পার হয়ে গেলেও এখনো কোনো পদক্ষেপ নেননি তিনি।’

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপসহকারী প্রকৌশলী মো. জুয়েল মিয়ার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

পরে বিএডিসির গাজীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী ফারুক হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘নলকূপ বিক্রির বিষয়টি শুনেছি। এভাবে সরকারি গভীর নলকূপ বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। সেলিম খান নলকূপটি ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।’

তবে দেশ রূপান্তরের কাছে সরকারি নলকূপ তুলে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা সেলিম খান। তিনি বলেন, ‘গভীর নলকূপ বিক্রির বিষয়ে আমি কিছু জানি না। রাজনৈতিকভাবে হেয় করতে প্রতিপক্ষ আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত