বন্যার পানি কমতে থাকলেও সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার নিচু ও চরাঞ্চলের মানুষের এখনো দুর্ভোগ কমেনি। তারা এখনো পানিবন্দী জীবনযাপন করছে।
শত শত বাড়িঘর এখনো বন্যার পানিতে ডুবে আছে। গো-খাদ্যেও সংকটে বন্যা কবলিত কৃষকেরা কলমি ও কচুরি পানা কেটে গরুকে খাওয়াচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার সোনাতনী ও গালা ইউনিয়নের বন্যা কবলিত বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে এ অবস্থা দেখা গেছে।
এ বিষয়ে গালা ইউনিয়নের হাতকোড়া গোপালপুর গ্রামের রোকেয়া পারভীন, কমেলা খাতুন, কদবানু, হাসেন সিকদার, হোসেন আলী, সোনাতনী ইউনিয়নের ধীতপুর গ্রামের নাজমুল হোসেন, শাহীন মিয়াসহ অনেকে জানান, বন্যার শুরুতেই আমাদের ঘরবাড়ি বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। অথচ কেউ একবার ফেরে দেখেনি। ফলে আমরা খেয়ে না খেয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছি। গো-খাদ্যের অভাবে গরুকে কলমি কেটে খাওয়াচ্ছি। গরু, ছাগল ও শিশু সন্তান নিয়ে একঘরে খুব কষ্টে বসবাস করছি।
তারা এ সময় খাদ্যসহায়তার জোর দাবি জানান।
এ বিষয়ে গালা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল বাতেন বলেন, এখন কোনো বরাদ্দ হাতে পাইনি। পেলে তাদের মাঝে বিতরণ করা হবে।
সোনাতনী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান বলেন, চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম পাওয়ায় এখনো অনেক বানভাসিকে ত্রাণ দেওয়া সম্ভব হয়নি। আবারও বরাদ্দ পেলে বাকিদের মাঝে বিতরণ করা হবে।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, হাতে যে বরাদ্দ পাওয়া গিয়েছে তা ইতিমধ্যেই বিতরণ করা হয়েছে। আবারও বরাদ্দ পেলে বাকিদের মাঝে বিতরণ করা হবে।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি ১৪ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে সদর, কাজীপুর, চৌহালী ও শাহজাদপুরে শুরু হয়েছে তীব্র নদী ভাঙন।
